মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জলে ভাসা ঢাকা

প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫

প্রাকৃতিক বড় ধরনের দুর্যোগে নয়, আকস্মিক কোন দুর্ঘটনায়ও নয়, এমনকি রাজনৈতিক কোন কর্মসূচীর কারণেও নয়; কেবল বৃষ্টিপাতে বেশ কয়েক ঘণ্টা যদি একটি দেশের রাজধানী স্তব্ধ ও নিশ্চল হয়ে থাকে তবে বুঝতে বাকি থাকে না সেই রাজধানীকে স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থাপনা কতটা দুর্বল, ভঙ্গুর আর রাজধানীবাসী কতটা অসহায়। মাত্র দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা পানিতে ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ ও তীব্র যানজটে যে অসহনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় নিকট অতীতে এমনটা হয়েছে বলে জানা যায় না। শুধু ১৯৮৮ ও ’৯৮-এর বন্যায় দীর্ঘ সময় দেশের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি রাজধানীরও বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে ডুবেছিল। জলজট আর যানজটে নাকাল রাজধানীবাসীর কাছে কষ্টের স্মৃতি হয়ে থাকবে।

রাজধানীকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন পরিকল্পনা, উদ্যোগ বা কর্মপন্থাও কম দেখানো হয়নি। রাজধানীর উন্নয়নে আলাদা কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রয়েছে স্থানীয় সরকারের আওতায় সিটি কর্পোরেশন। দীর্ঘদিন সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম ছিল না আইনগত জটিলতার কারণে। এ বছরই সেসব জটিলতা কাটিয়ে রাজধানীবাসী সরাসরি ভোটে নির্বাচন করেছে তাদের প্রতিনিধি। নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি দু’ভাগে ভাগ করা হয়। মূলত সেবাকে নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছানো ও তাদের প্রতিনিধিকে কাছে পেতেই দু’জন মেয়রের পদ সৃষ্টি। দু’জন নির্বাচিত মেয়র পেয়েছে রাজধানীবাসী। কিন্তু রাজধানীর উন্নয়নকল্পে আগে নেয়া পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কেন দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে না তা স্পষ্ট নয়।

একটু বৃষ্টি হলে রাজধানীর এমন কোথাও নেই যে, জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় না। রাস্তায় যানজটে প্রতিদিন নাকাল হচ্ছে মানুষ। নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, পিছিয়ে যাচ্ছে উন্নয়ন। অপরিকল্পিত নগরায়নের নেতিবাচক ফল প্রতিনিয়ত ভোগ করছে নগরবাসী। এসব মানবসৃষ্ট দুর্ভোগ। রাজধানীর এ পরিস্থিতি একদিনের বা নতুন কিছু নয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, আন্দোলন কম হয়নি। কেন যে অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে না বা গলদ কোথায় সেটা স্পষ্ট করা দরকার।

বর্ষা মৌসুমে উন্নয়ন-সংস্কারের নামে প্রতি বছর রাস্তা খোঁড়ার মাধ্যমে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয় তাতে রাজধানীবাসীর মনে বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গেছে এটা সংশ্লিষ্টরা ইচ্ছাকৃতভাবেই করে। এর সঙ্গে অসাধু উপায়ে এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের অর্থাগমের সম্পর্ক আছে বলে প্রায়ই যে অভিযোগ ওঠে তার কোন স্পষ্ট উত্তর না পাওয়াটা অনভিপ্রেত। যানজট নিয়ে ট্রাফিকও অনেক সময় পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে। ঢাকার রাস্তায় চলাচলের জন্য যে সংখ্যক বাহন প্রয়োজন তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি থাকায় এমনটা হচ্ছে বলে চিহ্নিত হলেও সমাধানে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়াটা হতাশাজনক।

ঢাকা বসবাস ও চলাচলের যোগ্যতা হারিয়েছে বেশ আগেই- এটা দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্টরাও জানেন। বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার নাম উঠেছে অনেক আগেই। এটা নিশ্চয়ই কারও জন্য সুখকর নয়, বরং অস্বস্তিকর। এই বদনাম ঘুচিয়ে ঢাকাকে নতুনরূপে চলাচল ও বসবাসের উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ ও দুই মেয়রের আন্তরিকতার বিকল্প নেই।

প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৪/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: