১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

বার কাউন্সিল নির্বাচনে আসন বাড়ল আওয়ামী সমর্থক প্যানেলের


স্টাফ রিপোর্টার ॥ আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক ও তদারক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক ফলে আরও একটি পদ বেড়েছে আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীদের মোর্চা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল)। বৃহস্পতিবার ভোরে আনুষ্ঠানিক এই ফল ঘোষণা করেন বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত ২৬ আগস্ট বুধবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলে দেখা গিয়েছিল কাউন্সিলের ১৪ পদের মধ্যে ১০টি পেয়েছিল সমন্বয় পরিষদ। তবে বৃহস্পতিবার ভোরে ঘোষিত আনুষ্ঠানিক ফলে দেখা গেছে ৫টি সাধারণ ও ৬টি গ্রুপ আসন মিলিয়ে ১১টি পদ পেয়েছেন তারা। অন্যদিকে, বিএনপি-জামায়াত সমর্থক নীল প্যানেল পেয়েছে ৩টি আসন। যার মধ্যে সাধারণ আসনে ২টি এবং গ্রুপ আসনে ১টি।

নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে বাংলাদেশে আইনজীবীদের তদারক সংস্থা বার কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। গত তিন বছর বার কাউন্সিলের কর্তৃত্বে ছিল বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা। গত ২৬ আগস্ট ভোটের পর প্রাথমিক গণনাতেই সরকার সমর্থকদের জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। রীতি অনুযায়ী বুধবার বার কাউন্সিলে সারা দেশের ৭৭ কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফলাফল সিট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার ভোরে আনুষ্ঠানিক এই ফল ঘোষণা করা হয়।

সমন্বয় পরিষদের নেতৃত্বে থাকা ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম ১৪ হাজার ৪৩ ভোট, আবদুল বাসেত মজুমদার ১৫ হাজার ১০৯ ভোট, আবদুল মতিন খসরু ১৪ হাজার ৪২৪ ভোট, জেড আই খান পান্না ১৩ হাজার ৭৮ ভোট এবং শ ম রেজাউল করিম ১৩ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নীল প্যানেল হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে কেবল কাউন্সিলের বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন ১৪ হাজার ২৫৯ ভোট এবং এম এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ১৫ হাজার ৬৯ ভোট পেয়ে সদস্য নির্বাচিত হতে পেরেছেন।

কাউন্সিলের ১৪টি সদস্য পদের মধ্যে বাকি সাতটি পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন অঞ্চলভিত্তিক আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে। এর মধ্যে ছয়টিই জিতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। সাদা প্যানেলের বিজয়ী এই ছয়জন হলেন- কাজী মোঃ নজীবুল্লাহ হিরু (গ্রুপ-এ), এইচ আর জাহিদ আনোয়ার (গ্রুপ-বি), মোঃ ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী (গ্রুপ-সি), পারভেজ আলম খান (গ্রুপ-ই), মোঃ ইয়াহিয়া (গ্রুপ-এফ) ও মোঃ রেজাউল করিম-১ (গ্রুপ-জি)। আর নীল প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে ডি-গ্রুপ থেকে কেবল কাইমুল হক কাউন্সিলের সদস্য হতে পেরেছেন।

আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণায় নানা নাটকীয়তা ॥ বুধবার দুপুর দুটায় সারাদেশের ৭৭ কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফলাফল সিট গণনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি-জামায়াত সমর্থক আইনজীবী প্যানেলের দাবির মুখে ভোট গণনা স্থগিত করেন বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বার কাউন্সিলের চিরাচরিত নিয়ম ভেঙ্গে ব্যালট পেপার গণনার দাবি তুলেছিল বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা। এর ফলে প্রথম দফায় রবিবার এবং পরে বৃহস্পতিবার ফল ঘোষণার জন্য দিন ঠিক করেন এ্যাটর্নি জেনারেল। তবে সরকার সমর্থক আইনজীবী প্যানেলের জোরালো দাবির মুখে বুধবারই চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্র থেকে পাওয়া টেবুলেশন সিটের মাধ্যমে ফল ঘোষণা শুরু করেন বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। এদিন সরকার সমর্থক অনেক আইনজীবী এ্যাটর্নি জেনারেলকে বিএনপি-জামায়াতের দালাল আখ্যাতি করে পদত্যাগ করারও দাবি তোলেন।

গত ২৬ আগস্ট সারা দেশের ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে বার কাউন্সিল নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়, যাতে ভোটার ছিলেন ৪৩ হাজার ৩০২ জন। এবার ১৪ পদের বিপরীতে মোট ৬১ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বরাবরের মতো এবারও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের দুটি প্যানেলের মধ্যে এ নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।

তিন বছর পর পর বার কাউন্সিলের নির্বাচন হয়। সারাদেশের আইনজীবীরা মোট ১৪ জনকে ভোটের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচিত করেন। এর মধ্যে সাধারণ আসনে সাত এবং সাতটি অঞ্চলভিত্তিক আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন করে আরও সাতজন নির্বাচিত হন। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৪ জন। পরে নিজেদের মধ্যে ভোটাভুটি করে বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়। আর এ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: