মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সবোর্চ্চ নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উর্ত্তীণ ৬ পোশাক কারখানা

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০৮:১১ পি. এম.

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সবোর্চ্চ নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উর্ত্তীণের স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশের ৬ তৈরি পোশাক কারখানা। এসব কারখানা শতভাগ সংস্কারের পর উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত জোট অ্যালায়েন্স‘র চূড়ান্ত পরিদর্শনে এই স্বীকৃতি মেলে। এসব কারখানা হলো গ্রীন টেক্সটাইল, কুন্তল অ্যাপারেল, এনভয় গ্রুপের লন্ড্রি ইন্ডাস্ট্রিজ, লেনি অ্যাপারেল, অপটিমাম ফ্যাশন ও ইউনিভোগ ফ্যাশন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যালায়েন্সের পরিদর্শন কার্যক্রমের দুই বছরের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত এক মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান অ্যালায়েন্সের পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি। তিনি জানান, ৮টি কারখানা চূড়ান্ত পরিদর্শন শেষে ৬টি কারখানার অগ্নি, ভবনের কাঠামো ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা পরীক্ষায় শতভাগ উত্তীর্ণ হয়েছে। যা বিশ্বে সর্ব্বোচ্চ নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক মানদন্ড।

দুই বছরের অগ্রগতি হিসেবে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রথম দফায় ৫২৮টি কারখানার সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে অ্যালায়েন্স। এর মধ্যে ১৫৪টি কারখানা ২০ শতাংশ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করছে। দ্বিতীয় দফায় ১৭টি কারখানার সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭ শতাংশ সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে, আগামী ৩ বছর কারখনার সংস্কার কার্যক্রমে সরাসরি অন্তর্ভূক্ত থাকবে অ্যালায়েন্স। এই সময়ে পরিদর্শনের আওতায় থাকা ৬৬২টি কারখানাই নিরাপত্তা মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে বলে আশা করছে অ্যালায়েন্স।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অ্যালায়েন্সের পরিদর্শন তালিকায় থাকা কারখানা সংস্কারে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) ৫ কোটি মার্কিন ডলার দেবে। এর সঙ্গে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা (১ কোটি ৮০ লাখ ডলার) অর্থ সহায়তা দেবে ইউএসএআইডি। এ তহবিল থেকে কারখানার মালিকরা স্বল্প সুদে ঋণ নিতে পারবেন।

রানা প্লাজা ধসের পর আন্তর্জাতিক চাপে বাংলাদেশের কারখানার নিরাপত্তা মান পরিদর্শনের লক্ষ্যে দুই বছর আগে কাজ শুরু করে অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি (অ্যালায়েন্স)। এর বাইরে ইউরোপের ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত জোট অ্যাকর্ড এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে ত্রিপক্ষীয় কমিটির (এনটিপিএ) মধ্যস্থতায় সর্বমোট প্রায় সাড়ে তিন হাজার কারখানার নিরাপত্তা মান পরিদর্শন শেষে সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের কারখানার উন্নয়নে ৫ বছর কাজ করার কথা। পরিদর্শনে চিহ্নিত হওয়া ত্রুটি সংস্কারে প্রয়োজনে অর্থায়ন করারও কথা রয়েছে তাদের। যদিও অর্থায়ন না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে কারখানা মালিকদের পক্ষ থেকে।

এ সময় জেমস মরিয়ার্টি বলেন, বড় কারখানা মালিকরা বুঝতে সমর্থ হয়েছেন, ব্যবসায়ের জন্য শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মনযোগী হয়েছেন। অন্যদিকে ছোট ও মাঝারি কারখানার মালিকদের অর্থায়নের বিষয়টিও আমরা অনুধাবন করছি। এ জন্য আইএফসি’র পাশাপাশি ইউএসএআইডি এগিয়ে এসেছে। তবে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য শ্রম আইনের বিধি বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে অ্যালায়েন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ রবিন বলেন, ২০১৮ সালে অ্যালায়েন্সের কার্যক্রম শেষ হলেও সংস্কার পরিকল্পনা (কারেকটিভ অ্যাকশন প্ল্যান/ক্যাপ) চলমান থাকবে। এ সময তিনি বলেন, শ্রমিকদের কথা জানানোর জন্য চব্বিশ ঘন্টা হেল্প লাইন খোলা রয়েছে। নেপালে ভূমিকম্পের পর কারখানার ফাটল নিয়ে ৩৬টি ফোন কল পাই। কারিগরি দল পরীক্ষা করে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছে। এ সময় শ্রমিক, মধ্যমস্তরের ব্যবস্থাপনা ও সিকিউরিটি গার্ডদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন তারা আগের চেয়ে সচেতন হয়েছে।

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার স্বীকৃতি পাওয়া কারখানা মালিক আব্দুস সালাম মুর্শেদী আশা প্রকাশ করে বলেন, সব কারখানার সংস্কার সম্পন্ন হতে আগামী তিন বছর লাগবে না। ইতিমধ্যে ৬টি পুরোপুরি সংস্কার কাজ সম্পন্ন করলেও আগামী দুই কিংবা তিন মাসের মধ্যে আরও প্রায় ২শ’ কারখানা এ তালিকায় চলে আসবে।

অনুষ্ঠানে ইউএসএআইডি’র মিশন পরিচালক জেনিনা জারুজেলস্কি, বিকেএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ছাড়াও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার স্বীকৃতি পাওয়া কারখানা মালিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০৮:১১ পি. এম.

০৩/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: