মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ আগস্ট ২০১৭, ৯ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

কর্ণফুলী গ্যাসের সাবেক এমডি-জিএমকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১২:৫১ পি. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে কর্ণফুলী গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সানোয়ার হোসেন ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) চৌধুরী আহসান হাবীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক আবদুস সোবহান তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ জিজ্ঞাসাবাদ দুপুর পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে। দুদক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুদক সূত্র জানায়, কর্ণফুলী গ্যাস ফিল্ডে বিভিন্ন পদে ৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে ওই দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরা ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

চলতি বছরের ২২ জুন চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় দুদকের দুদকের উপ-পরিচালক ঋত্ত্বিক সাহা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— কর্ণফুলী গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সানোয়ার হোসেন, সাবেক সচিব ও বর্তমানে উপ-মহাব্যবস্থাপক আমির হামজা, সাবেক ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) চৌধুরী আহসান হাবীব ও সাবেক এমডি জামিল আহমেদ আলীম।

মামলার এজাহারে বলা হয়ছে, আসামিরা কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে কর্ণফুলী গ্যাসফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের বিভিন্ন পদে ৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেন। এর মধ্য থেকে ৪২ জনকে নিয়মিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে কর্মচারী নিয়মিতকরণ বিধিমালা ১৯৯৪-এর বিধান অমান্য করা হয়েছে।

ওই নিয়োগে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির নিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা ও নারী কোটাও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকলেও কম্পিউটার অপারেটর পদের মূল্যায়নে অভিজ্ঞতার জন্য কোনো নম্বর দেওয়া হয়নি। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে আগে নীতিমালা অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার জন্য ৫০ নম্বর, মৌখিক পরীক্ষায় ১৫ আর শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ৩৫ নম্বর নির্ধারিত ছিল। কিন্তু পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে নীতিমালা পরিবর্তন করে লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে ৪০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ১৫ ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৩৫ নম্বর নির্ধারণ করে নতুন নীতিমালায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। মেধাবী প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বর পেয়েও চাকরি পাননি। সেক্ষেত্রে পছন্দের প্রার্থীরা ১৫-২০ নম্বর পেয়েও চাকরি পেয়েছেন।

সূত্রে আরও জানায়, পেট্রোবাংলার অধিনস্থ কর্ণফুলী গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) জনবল নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে হোসেন মনসুরের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করা হলেও কমিশন তা পর্যালোচনা করে তাকে বাদ দিয়ে মামলা অনুমোদন দেয়।

এর আগে চলতি বছরের ২১ মে ড. হোসেন মনসুরসহ অভিযুক্ত ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুপারিশ করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করে দুদকের অনুসন্ধান টিম।

প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই জিটিসিএলে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ আনা হয়। এ সব নিয়োগ প্রক্রিয়া ড. হোসেন মনসুরের নির্দেশে এবং অন্যদের সংশ্লিষ্টতায় অবৈধপন্থায় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ হোসেন মনসুরের বিরুদ্ধে পেট্রোবাংলার অধীনে ১৩টি কোম্পানিতে অবৈধভাবে জনবল নিয়োগ, দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অনুসন্ধানে নামে দুদক।

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১২:৫১ পি. এম.

০৩/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ:
ঘূর্ণিঝড়, পাহাড় ধস, বন্যা ॥ দুর্যোগ পিছু ছাড়ছে না || বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের শিকার পরিবারগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান || বিটি প্রযুক্তির ব্যবহার দেশকে কৃষিতে ব্যাপক সাফল্য এনে দিয়েছে || রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ পুরো ফেরত পাওয়া যাবে || গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক ১৮ আসামিকে ফেরত আনার চেষ্টা || অনেক সড়ক মহাসড়ক পানির নিচে মহাদুর্ভোগের শঙ্কা || খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে ’২১ সালের মধ্যে বিলিয়ন ডলার রফতানি || নূর হোসেনের দম্ভোক্তি উবে গেছে, কালো মেঘে ছেয়েছে মুখ || জবাবদিহিতা না থাকা ও রাজনৈতিক প্রভাবে পাউবো প্রকল্পে দুর্নীতি || রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আজ চূড়ান্ত রিপোর্ট দিচ্ছে আনান কমিশন ||