২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পোশাক কারখানাগুলো ঝুঁকিমুক্ত করতে সময় লাগবে : অ্যালায়েন্স


পোশাক কারখানাগুলো ঝুঁকিমুক্ত করতে সময় লাগবে : অ্যালায়েন্স

অনলাইন ডেস্ক॥ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই কোন রকম নিয়মকানুন না মেনে তৈরি হয়েছে। ফলে সব কারখানা পুরোপুরি ঝুঁকি মুক্ত করতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ক্রেতাদের সংগঠন অ্যালায়েন্স। পোশাক খাতের উন্নয়নে গঠিত মার্কিন ক্রেতাদের সংগঠন ′অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি′ গঠনের দুই বছর পূর্তি হচ্ছে আজ।

রানা প্লাজা ধ্বস ও তাজরিন ফ্যাশন্সের অগ্নিকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে যে দুটি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সংগঠন গঠিত হয়েছিল, এটি তার একটি। কিন্তু দুই বছরে বাংলাদেশের পোশাক খাতে নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কি অর্জন হয়েছে?

অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ রবিন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, দুই বছরে ৬৬১টি কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯১টি কারখানা যৌথভাবে সংস্কার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ সময় ২২টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

কিন্তু কারখানাগুলো কতটা ঝুঁকি মুক্ত হয়েছে? মি. রবিন বলছেন, দীর্ঘদিন যেভাবে নিয়ম ছাড়াই ভবনগুলো তৈরি হয়েছে এবং কোনরকম ঝুঁকির বিষয়টি আমলে না রেখেই সত্তর শতাংশের বেশি কারখানা কাজ করছিল। তাই এসব ভবন পুরোপুরি ঝুঁকি মুক্ত করে তুলতে সময় লাগবে। তবে অ্যালায়েন্সের যে পাঁচবছর মেয়াদী পরিকল্পনা, সেই সময় শেষে সব সংস্কার কাজ শেষ হলে বলা যাবে কতটা ঝুঁকি মুক্ত হয়েছে।

এই সময়ে শ্রমিকদের সচেতনতার ক্ষেত্রেও অনেক অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি জানান। বিশেষ করে ৪১৪টি কারখানায় শ্রমিকদের জন্য হট লাইন চালু করা হয়েছে যেখানে শ্রমিকরা তাদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার বিষয়গুলো জানাতে পারেন। তাদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত ২১ হাজার ১০টি ফোনকল পাওয়া গেছে।

প্রয়োজন না থাকলেও অনেক কারখানার উপর অযাচিত চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে যে একটি অভিযোগ উঠেছে, সে প্রসঙ্গে মেসবাহ রবিন বলেন, কোন চাপিয়ে দেয়া নয়, বরং পুরনো অনেক ভবনে নিরাপত্তার মানদণ্ড ছিল না। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের সেই মানদণ্ড কার্যকরের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় এগারোশোর বেশি শ্রমিক নিহত হয়। এর আগের বছর তাজরীন ফ্যাশন্সের অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিক মারা যায়। এরপরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মান রক্ষায় ক্রেতাদের দুইটি সংগঠন গঠিত হয়, যারা বাংলাদেশ সরকার, বিজিএমইএ ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনা করছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা