মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৭ আগস্ট ২০১৭, ২ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

বাংলাদেশে আত্মগোপনে থাকা জেএমবি জঙ্গীদের খোঁজা হচ্ছে

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • খাগড়াগড় বিস্ফোরণে জড়িত ১২ জঙ্গীর তালিকা দিয়েছে এনআইএ

শংকর কুমার দে ॥ পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ১১ জেএমবি জঙ্গী বাংলাদেশে আত্মগোপন করে আছে। ধরিয়ে দিলে ভারতের পুরস্কার ঘোষণার পর তারা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আত্মগোপন করেছে এমন ধারণায় তাদের ধরতে হন্যে হয়ে খোঁজ করছে গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বর্ধমানের খাগড়াগড়ের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ভারত ১১ জেএমবি জঙ্গী বাংলাদেশে আত্মগোপন করে আছে জেএমবির জঙ্গীকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে ভারত সরকার। পলাতক ১২ জঙ্গীই জেএমবির সদস্য। এর মধ্যে ৪ জঙ্গী বাংলাদেশের নাগরিক। এরা হচ্ছে সাজিদ, নাসিরুল্লাহ, কওসর ও তালহা শেখ। এর মধ্যে সাজিদ ওরফে শেখ রহমত উল্লাহ ওরফে নারায়ণগঞ্জের মাসুদ রানা ওরফে মাসুম ধরা পড়েছে কলকাতায়। খাগড়াগড় বোমা বিস্ফোরণের মামলায় তার বিচার চলছে কলকাতার আদালতে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জেএমবির পলাতক ১২ জঙ্গীর মধ্যে শাহ নূর আলম অসমের বরপেটা থেকে ফেরার। অপর ১১ জন পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভুম, ও বর্ধমান থেকে ফেরার। এর মধ্যে ৪ জন সাজিদ, নসরুল্লাহ, কওসর ও তালহা বাংলাদেশের নাগরিক বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। খাগড়াগড়ে বোমা তৈরির সময়ে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে জেএমবি সদস্য শাকিল আহমেদ ও সুবাহান ম-ল শেখ। গোয়েন্দা সূত্র মতে, ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ)-এর পক্ষ থেকে ১১ জঙ্গীর তালিকা ও ১৫ মোবাইল ফোন নম্বর দিয়েছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশকে জঙ্গীর যে তালিকা দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে প্রকৃত পরিচয় উদঘাটন করার অনুরোধ জানিয়েছে এনআইএ এনআইএর মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় রয়েছে ত্রিশালে পুলিশ হত্যা করে জঙ্গী ছিনতাইয়ের ঘটনায় পলাতক জেএমবি সদস্য সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি ও জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান, ফারুক হোসেন। এনআইএ কর্মকর্তারা বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্দেহভাজনদের যে তালিকা দিয়েছে, তাতে সানি, মিজান ও ফারুকের কথা রয়েছে। এনআইএ জেএমবির জঙ্গীদের যে তালিকা দিয়েছে তাতে ত্রিশালের প্রিজন ভ্যানে গুলি ও বোমা হামলা করে পুলিশ হত্যা মামলার আসামি সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি (৩৮) ও মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজানকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য বাংলাদেশের পুলিশের পক্ষ থেকেও পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, খাগড়াগড় বোমা বিস্ফোরণের ওপর এনআইএ যেসব তথ্য উপাত্ত পেয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা জঙ্গী তৎপরতার একটি প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে। ভারতের তদন্ত সংস্থা এনআইএ এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব জঙ্গীরা দুই দেশের সীমান্ত পথে আসা যাওয়া করে জঙ্গী তৎপরতা চালাচ্ছে এবং তারা দুই দেশের জন্যই হুমকি। এই প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে জঙ্গী তৎপরতা, আশ্রয়দাতা, মদদদাতা, অর্থের উৎস সম্পর্কেও। বাংলাদেশ থেকে জঙ্গীরা কিভাবে বর্ধমানসহ রাজ্যের বিভিন্নস্থানে সংগঠিত হয়ে গ্রেনেড-বোমা তৈরি করে নাশকতার নীল নকশার ছক তৈরি করেছে তার বিবরণ রয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। বিএনপি-জামায়াতের নেত্বাধীন জোট সরকারের সময়ে সারাদেশে একযোগে ৬৩ জেলায় বোমা হামলা চালিয়েছিল জেএমবি। দেশ থেকে তাড়া খেয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের বর্ধমান খাগড়াগড়ে গিয়ে ঢেরা গেড়ে বোমা তৈরির সময়ে বিস্ফোরণ ঘটে দুই জেএমবি সদস্য নিহত হয়। গত ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে দুজন নিহত হওয়ার পর তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে এনআইএ কর্মকর্তারা জেএমবির সম্পৃক্ততার তথ্য জানায়।

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৩/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: