২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ননী ও তাহেরের নেতৃত্বে রাজাকাররা ৫ জনকে হত্যা করে


স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নেত্রকোনার রাজাকার ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহামন ননীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৬ তম সাক্ষী মোঃ বেলাল মিয়া জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দীতে তিনি বলেছেন, একাত্তরের ১৫ নবেম্বর ননী ও তাহেরর নেতৃত্বে রাজাকার ও পাক বাহিনী বিরামপুর বাজার আক্রমণ করে। সেখান থেকে বদিউজ্জামান মুক্তাসহ ৫ জনকে ধরে নিয়ে ডাকবাংলা রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। এর পর তাদের গুলি করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। জবানবন্দী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষীর জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। সাক্ষীকে জবানবন্দীতে সহায়তা প্রদান করেন প্রসিকিউটর মোকলেসুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি। অন্যদিকে আসামি পক্ষে ছিলেন আব্দুস সুবহান তরফদার।

সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম মোঃ বেলাল মিয়া। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৬৬ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম ষাটকাহন, থানা ও জেলা-নেত্রকোনা। আমি একজন পল্লী চিকিৎসক। ১৯৭১ সালে আমার বয়স ছিল ২২-২৩ বছর। তখন আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমাদের সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারি যে, ১৯৭১ সালের ১৫ নবেম্বর পাকিস্তানী আর্মি ও রাজাকাররা বিরামপুর বাজার আক্রমণ করে বদিউজ্জামান মুক্তা, আব্দুল মালেক শান্ত, দিদ্দিকুর রহমান, ইসলাম উদ্দিন, লেবু, মিজানুর রহমানকে আটক করে নেত্রকোনা শহরের ডাকবাঙলায় অবস্থিত ক্যাম্পে নিয়ে যায়। রাজাকারদের মধ্যে আসামি ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীও ছিল। ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে তাদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার করে।

সাক্ষী আরও বলেন, আমির উদ্দিন, হাজী ফয়েজ উদ্দিন আকন্দ ও হাফিজ উদ্দিন তারা মওলানা মজ্ঞুরুল হকের বাসায় গিয়ে আটককৃতদের ছেড়ে দেয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করে। মঞ্জুরুল হক তাদের ভারতের দালাল বলে আখ্যায়িত করে বাসা থেকে বের করে দেয়। তারা রাস্তায় এসে দেখতে পায় যে, একটি খোলা জীপে বদিউজ্জমান মুক্তা, ইসলাম উদ্দিন, শান্ত মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান, মিজানুর রহমান, ইসলামকে জীপের রডের সঙ্গে বেঁধে অত্যাচার করা হচ্ছে। কিছু সংখ্যক রাজাকার এসে তাদের সকলকে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছেঁকা দেয়। এই সকল নির্যাতনের পরেও বদিউজ্জামান মুক্তা জয় বাংলা সেøাগান দিতে থাকে। রাজাকাররা নির্যাতন করতে করতে সারানেত্রকোনা শহরে ঘোরায়। সন্ধ্যার দিকে তাদের নেত্রকোনা ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে হানাদারদের ব্যারাকে নিয়ে যায়। সারারাত নির্যাতনের পর ভোরে তাদের নেত্রকোনা মোক্তার পুর ব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। মিজানুর রহমানকে হত্যা না করে তাকে ব্যারাকে ফিরিয়ে দেয়। সে ব্যাংকের কর্মচারী এই পরিচয় পেয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। আমি এই ঘটনার বিস্তারিত মিজানুর রহমানের কাছ থেকেই শুনেছি।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: