মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব শিল্পকলায় কাল শুরু

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন সংস্কৃতির মেলবন্ধন সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব-২০১৫।’ গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসব পর্ষদ আয়োজিত চতুর্থবারের মতো এ আয়োজন হতে যাচ্ছে ভিন্ন আঙ্গিকে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন ও পরীক্ষণ থিয়েটার হলে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ উৎসব চলবে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের তিনটিসহ মোট ১৮টি দল নাটক মঞ্চায়ন করবে। একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় ৯ দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন দুই বাংলার কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও ফেরদৌসী মজুমদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরন। সম্মানিত অতিথি থাকবেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিম-লীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ।

এ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে উৎসবের আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছ বলেন, গঙ্গা-যমুনার প্রবাহের মতো, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতির প্রবাহও এক। এটা শুধুমাত্র দুটি নদীর নাম নয়, বিশেষ এক মৈত্রীর বন্ধন। গঙ্গা-যমুনার মতোই এ দুই বাংলার সাংস্কৃতিক রূপবৈচিত্র্য বিদ্যমান। এ দুটি অঞ্চলের মানুষের ভাষা ও যাপিত জীবনের রূপরেখাও ভিন্ন নয়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধেও অভিন্ন চেতনায় একে-অন্যের সঙ্গে কাজ করেছে। শত বছরের সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করাই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, বিগত দিনে বিদেশ থেকে সংস্কৃতিকর্মীদের আনার ক্ষেত্রে এনবিআর তথা অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটা অযাচিত হস্তক্ষেপ ছিল। দেশের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার পথকে প্রসারিত করবার অভিপ্রায়ে এবার থেকে শুধুমাত্র অলাভজনকে সাংস্কৃতিক সংগঠনের কাজের সুবিধার্থে বিদেশ থেকে কোন সংস্কৃতিকর্মী এলে মন্ত্রণালয়ে কোন জবাবদিহি করতে হবে না। একই সঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে সদয় দৃষ্টি এমন উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলেও মনে করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন উৎসব প্রচার ও উপকমিটির আহ্বায়ক মীর জাহিদ হাসান। এরপর উৎসবের যাবতীয় তথ্য তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উৎসব উদ্যাপন পর্ষদের সদস্য সচিব আকতারুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেনÑ ভারত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ রিজভী, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহ্কাম উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মান্জার চৌধুরী সুইট, আবৃত্তিচর্চা কেন্দ্রের কর্ণধার রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন উৎসবের আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছ এবং স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালন করবেন নাট্যজন আকতারুজ্জামান।

উদ্বোধনী সন্ধ্যায় মূল মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হবে ভারতের সংস্তব নাট্যদলের নাটক ‘ছাড়িগঙ্গা’। এতে অভিনয় করবেন ভারতের অভিনয়শিল্পী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। একই সময়ে পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হবে প্রাচ্যনাটের নাটক ‘ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি’। দুটি মিলনায়তনে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় নাটক মঞ্চায়ন হবে। এছাড়া উৎসব প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে উৎসব প্রতিদিন বিকেল ৫টায় আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য ও পথনাটক পরিবেশন করবে দেশের ৩৫ সংগঠন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, উৎসবের দ্বিতীয় দিন মূল মঞ্চে ভারতের সংস্তব মঞ্চস্থ করবে নাটক ‘ভূতনাথ’ এবং পরীক্ষণ থিয়েটার হলে রাজশাহীর অনুশীলন নাট্যদলের প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হবে নাটক ‘দ-’। এ উৎসবে আর্থিক সহায়তা করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ-ভারত ফাউন্ডেশন ও শিল্পকলা একাডেমি।

উৎস সাংস্কৃতিক পরিষদের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন ॥ আলোচনা, গুণীজন সম্মাননা, গান ও নাটকের মধ্য দিয়ে উৎস সাংস্কৃতিক পরিষদের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন হয় বুধবার। শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক কাজী আকতার উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, নাট্যজন ইনামুল হক, সাংবাদিক রাহাত খান ও এশিয়ান পেইন্টসের হেড অব সেলস্ এ্যান্ড মার্কেটিং সৌমিত্র রায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উজ্জ্বল মুখার্জী। গুণীজন সম্মাননা দেয়া হয় কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন, সুবীর নন্দী, মলয় কুমার গাঙ্গুলী, নাট্যজন লাকী ইনাম, আবৃত্তিশিল্পী মান্নান হীরা ও আশরাফুল আলমকে।

শুরুতে ছিল আলোচনা। দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘আমরা উৎস সাংস্কৃতিক পরিষদের সদস্য’ নামে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন সংগঠনের শিল্পীরা। পর পর একক ও দলীয় গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। গুণীজন সম্মাননা প্রদানের পর সব শেষে সংগঠনের নাট্যদলের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘বর্ণমালার মিছিল’।

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৩/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: