২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিদেশে পাড়ি দিতে বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার


তৌহিদুর রহমান ॥ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। আর বিদেশে পাড়ি জমাতে বাংলাদেশকেই রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে তারা। এদের কেউ কেউ বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। আবার কেউ কেউ সাগরপথে বিদেশে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে সরকার থেকে কঠোর নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা নাগরিকরা সকলেই যে বাংলাদেশে অবস্থানের জন্য আসছে, সেটা নয়। অনেকেই আসছেন বিদেশে পাড়ি দেয়ার জন্য। কেননা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাড়ি দেয়াটা এখন তাদের জন্য অনেকটা সহজ হয়েছে। এক শ্রেণীর দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট হাতিয়ে নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। আর সেই পাসপোর্ট নিয়ে চলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

প্রতি বছর হজ মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে নাগরিকরা হজ করতে যান। আর এই সুযোগে বিদেশে পাড়ি দেয় রোহিঙ্গারা। এর আগে যখন ওমরাহ হজ চালু ছিল, তখন বাংলাদেশী নাগরিকদের পাশাপাশি রোহিঙ্গারাও বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। রোহিঙ্গারা ওমরাহ হজের নামে সৌদি আরবে পাড়ি জমালেও নাম হয়েছে বাংলাদেশীদের। কেননা তারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি গেছে। হজ শেষে রোহিঙ্গাদের দেশে না দায় নিতে হয়েছে সরকারের। যে কারণে সৌদি আরব এখন ওমরাহ ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে।

সৌদি আরবে রোহিঙ্গাদের কারণে দুর্ভোগে পড়ছেন বাংলাদেশী নাগরিকরা। রোহিঙ্গারা বিভিন্ন দুর্নীতি-অনিয়ম ও সামাজিক অনচারে জড়িয়ে পড়ছে। আর সৌদি প্রশাসন থেকে ধরা পড়লেই দাবি করছেন তারা বাংলাদেশী। এ ছাড়া সৌদি সরকার থেকে কাজের অনুমতি পত্রের (আকামা) জন্য রোহিঙ্গাদের প্রতি এখন অনেকটাই সদয়। একজন রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্য কোন কোম্পানি আকামার মেয়াদ যদি চার বছর করে থাকেন, বাংলাদেশী নাগরিকদের ক্ষেত্রে সেটা করা হচ্ছে দুই বছর। মুসলিম ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণে রোহিঙ্গাদের প্রতি সৌদি আরব এখন খুব আন্তরিক। সৌদি আরবে এখন প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছে। আর এসব রোহিঙ্গারা বেশিরভাগই বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহারের মাধ্যমে সেদেশে গেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এলাকার মানুষের সঙ্গে রোহিঙ্গা নাগরিকদের চেহারা ও ভাষার মধ্যে অনেকটা মিল রয়েছে। তাই অনেক সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন না। তারা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ধারণা করেন, এরা বাংলাদেশের নাগরিক। আর সেই সুযোগেই পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে থাকে রোহিঙ্গারা। একই ভুল করেন এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তারাও। তারা রোহিঙ্গাদের চট্টগ্রামের লোক ভেবে ছেড়ে দেন।

রোহিঙ্গা নাগরিকরা যেন কোনভাবেই পাসপোর্ট না পায়, সে বিষয়ে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পাসপোর্ট অফিসকে এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। তবে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা পেয়ে যাচ্ছেন পাসপোর্ট। কখনওবা দালালদের মাধ্যমে তারা পাসপোর্ট যোগাড় করে পাড়ি দিচ্ছে বিদেশে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য সমস্যা। তারা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে, নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তারা ভুয়া ঠিকানা দিয়ে বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণœ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়। তাদের পাসপোর্ট দেয়ার ক্ষেত্রে যারা সহায়তা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ছাড় দেয়া হবে না। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক, সরকার তা সহ্য করবে না। এ বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স ভূমিকা গ্রহণ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি রোহিঙ্গা নাগরিকরা মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায়ও পাড়ি দিচ্ছে। টেকনাফ থেকে সাগরপথে বাংলাদেশী নাগরিকদের পাশাপাশি রোহিঙ্গারাও বিদেশে যাচ্ছে। সম্প্রতি সাগরপথে পাড়ি দিয়ে এসব দেশে যাওয়ার সময় যেসব নাগরিককে আটক করা হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গারা রয়েছে। রোহিঙ্গা নাগরিকরা বিভিন্ন দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে আটকের পর, তারা বাংলাদেশী বলে পরিচয় দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকার বলেছে, বিদেশে আটক নাগরিকদের বাংলাদেশী পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই ফিরিয়ে আনা হবে। মিয়ানমারের কোন রোহিঙ্গা নাগরিকের দায়ভার বাংলাদেশ নেবে না। সে অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: