২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সাথী ধানে বোরোর সমান ফলন, কৃষকের মুখে বিজয়ের হাসি


সাথী ধানে বোরোর সমান ফলন, কৃষকের মুখে বিজয়ের হাসি

রাজু মোস্তাফিজ ॥ ভাদ্র মাসে ধান কাটা হতো বলে নাম দেয়া হয়েছিল ‘ভাদাই ধান’। কিন্তু ফলন কম হওয়ায় এই ধান চাষে কুড়িগ্রামের কৃষকদের আগ্রহ যেন ক্রমেই কমে যায়। তবে এখনও জেলার উলিপুরসহ কয়েকটি এলাকায় অল্প পরিমাণ জমিতে হলেও আগেকার দিনের ভাদাই ধানের চাষ হয়। ইদানীংকালে নতুন উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের আউশ ধানের আবাদ করে এই অঞ্চলের কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।

বোরো ও আমন ধান চাষের মধ্যবর্তী সময়ে জমি খালি পড়ে থাকে। এ সময়ে কম খরচে উচ্চ ফলনশীল ‘সাথী’ ধান চাষ করে বোরোর সমান ফলন পাচ্ছেন কৃষক। তাই এই ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এ বছর জেলায় ২ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে এ জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। ধান কাটাই মাড়াই প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভাল ফলন পেয়ে তাই খুশি হয়েছেন অনেক কৃষক। তাদের চোখেমুখে যেন বিজয়ের হাসি। অনুরূপ আনন্দঘন অবস্থা বিরাজ করছে উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায়ও।

আউশ মৌসুমে অপ্রচলিত ধানের চাষ সম্প্রসারণের ফলে কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি জেলার কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। অসময়ে ধানের ফলন পেয়ে গ্রাম বাংলার চিরচেনা দৃশ্য পাল্টে দিয়েছে জেলার কৃষক।

সরেজমিন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নেফারদরগা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ঘরে ঘরে সাথী জাতের আউশ ধান কাটা-মাড়াইয়ের ধুম। রোগ ব্যাধির আক্রমণ না থাকায় ফলন হয়েছে ভাল। বেশিরভাগ জমির ধান কেটে আমন চারা লাগানো হয়েছে। বাকিগুলোতে লাগানোর প্রস্তুতি চলছে। মাঝে বৃষ্টির কারণে কাটাই-মাড়াই কিছুটা ব্যাহত হলেও এখন দম ফেলার ফুরসত নেই কৃষকদের।

একই জমিতে এক বছরে ৩টি ফসল চাষ করতে পেরে কৃষকরা দেখছেন লাভের মুখ। কয়েকজন কৃষক জানান, মে মাসে বিআর-২৮ ধান কেটে আউশের হাইব্রিড সাথী ধান চাষ করেন। বীজতলা থেকে ধান কাটা পর্যন্ত সময় লেগেছে ১১৫ হতে ১২০ দিন। একর প্রতি খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। ধান হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ মণ। কৃষকরা একরে গড়ে লাভ পাচ্ছে ২০ হাজার টাকা। পাশাপাশি গো-খাদ্যের সঙ্কট দূর হয়েছে। চাহিদা থাকায় বর্তমান বাজার দরে এই মণ প্রতি ৪৮০-৫০০ টাকা হিসেবে ধান ক্রয় করছে পাইকাররা। কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বোরো কাটার পর এমনিতেই হামার জমি ৩ মাস পড়ি থাকে। ফাকে হামরা কম খরচে সাথী ধান আবাদ করি ভাল লাভ পাবার নাগছি’। প্রতাপ গ্রামের কৃষক মমিনুল হক জানান, আউশ ধান কাটার পরে আমনের চাষ করতে কোন সমস্যা না থাকায় এখন কৃষকরা এই ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছে। একই গ্রামের কৃষক তুহিন জানান, তিনি আড়াই একর জমিতে সাথী ধান আবাদ করেছেন। বোরোতে ধানের দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছিল। সাথী ধান আবাদ করে সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে পেরেছেন। কৃষক আহাম্মদ আলী জানান, বর্তমানে গো খাদ্যের সঙ্কট চলছে। তাই একশ’ আটি তারা ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: