২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বন্দুকযুদ্ধে কুমিল্লায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিরা সুমন নিহত


নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা, ২ সেপ্টেম্বর ॥ কুমিল্লায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বেলাল হোসেন ওরফে জিরা সুমন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে দুইটার দিকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কুমিল্লা-বুড়িচং সড়কের পালপাড়া ব্রিজের নিকট এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে জিরা সুমনের ৪ সহযোগীকে আটক করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে একটি রিভলবার, ৬ রাউন্ড গুলি এবং ৩টি এলজি। বন্দুকযুদ্ধে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলী আশরাফ ভূঁইয়াসহ পুলিশের ৫ সদস্য আহত হন। নিহত জিরা সুমন নগরীর অশোকতলা এলাকার শাহজাহান সাজুর ছেলে।

জানা গেছে, কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী আশরাফের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে মাইক্রোবাসযোগে শহরে ফেরার পথে আদর্শ সদর উপজেলার কুমিল্লা-বুড়িচং সড়কের পালপাড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে ডাকাত দল পুলিশের গাড়িটিকে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় পুলিশ গাড়ি থেকে নেমে ডাকাত দলকে ধাওয়া করলে ডাকাত দল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে ২২ রাউন্ড পাল্টা গুলি ছুড়ে। গোলাগুলির একপর্যায়ে পুলিশ বেলাল হোসেন ওরফে জিরা সুমন (৩২), মুরাদনগরের ফুলঘর গ্রামের মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জামাল (২৫), দেবিদ্বার উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের শাহজালালের ছেলে জাকির হোসেন (৩০), বড় আলমপুর গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে স্বপন (২২) ও আদর্শ সদর উপজেলার রঘুপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলামকে (২৬) আটক করে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডাকাত দলের ব্যবহৃত একটি রিভলবার, ৬ রাউন্ড গুলি, ৩টি এলজি, ১টি চাকু, ১টি লোহার রড, ৫টি কালো মুখোশ উদ্ধার করে। আটকদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ জিরা সুমন ও জামালকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিরা সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। ডাকাত দলের হামলায় কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলী আশরাফ ভূঁইয়া, কনস্টেবল শ্যামল চক্রবর্তী, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুর রহিম ও আবদুর রব আহত হন। বুধবার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া জানান, নিহত জিরা সুমনের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাইয়ের ১২টি, দ্রুতবিচার আইনে ৩টি, পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের একটিসহ বিভিন্ন থানায় ২১টি মামলা রয়েছে। জিরা সুমন পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড ও জেলার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। ২০১২ সালে পুলিশ তাকে অস্ত্র ও মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করার পর পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে আসে। তার সহযোগী জামাল একটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতারের পর ১ বছর ৩ মাস জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে আসে। এছাড়া আটক অপর সহযোগীরাও জিরা সুমন গ্রুপের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।

ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ জানান, গত বছরের ৬ নবেম্বর দুপুরে কুমিল্লা মহানগরীর ঝাউতলা এলাকায় সন্ত্রাসী জিরা সুমনকে আটক করতে গিয়ে গুলিতে আহত হন ডিবির এসআই ফিরোজ হোসেন। এসময় গুলিবিদ্ধ এসআই ফিরোজের সরকারী পিস্তল লুটে নেয় জিরা বাহিনী। পরে ডিবি ও থানা পুলিশের কয়েকটি টিম জিরা বাহিনীকে আটক করতে মাঠে অভিযান শুরু করে। ওই বছরের ৯ নবেম্বর সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় জিরা সুমনের সহযোগীদের আটক করতে গিয়ে ডিবি পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের সময় নিহত হয় জিরা সুমনের সহযোগী নগরীর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী রাব্বী ও জনি। ওই সময় জিরা সুমন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ডিবির এসআই ফিরোজ হোসেনের কাছ থেকে লুণ্ঠিত পিস্তলটিসহ ২টি পিস্তল ওই সময় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, জিরা সুমনের বাড়ি ফেনী জেলা সদরের একাডেমি সড়কের বড়বাড়ি এলাকায়। বাল্যকাল থেকেই জিরা সুমন তার পিতাসহ পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর অশোকতলা এলাকায় বসবাস করতে থাকে। সীমান্ত এলাকায় জিরার বস্তা ছিনতাইয়ের মাধ্যমে সে অপরাধ জগতে পা বাড়ায় এবং নগরীর অলিগলিতে সে ও তার গ্রুপ অহরহ ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকা-সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল। জিরা সুমন ও তার গ্রুপের অত্যাচারে নগরবাসী ও আশপাশের উপজেলাগুলোর সাধারণ মানুষ ছিল অতিষ্ঠ। বন্দুকযুদ্ধে জিরা সুমনের মৃত্যুর খবরে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয়রা জানান, জিরা সুমন ও তার সহযোগী রাব্বী ও জনি পুলিশের সঙ্গে দুই দফায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও জিরা বাহিনীর আরও অন্তত ২০-২৫ সদস্য নগরী ও আশপাশ এলাকায় ছিনতাই-ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে সক্রিয় আছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: