১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও তৈরি পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধি ॥ শিল্পমন্ত্রী


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বহির্বিশ্বে স্বার্থান্বেষী মহলের নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ও দৃঢ় রেকর্ডের অধিকারী। এ ধারা অব্যাহত রাখতে তৈরি পোশাক শিল্পখাতে মূল্য সংযোজন, প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও এক্সেসরিজ উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনের প্রচেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চার দিনব্যাপী ‘১৬তম আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী ২০১৫’ এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। সেমস্-গ্লোবাল-ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিকে আয়োজনে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ.টি. ইমাম এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন। সেমস্-গ্লোবাল-ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিক এর প্রেসিডেন্ট মেহেরুন এন. ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার অসীম কে. মহাজন ও এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বক্তব্য রাখেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত। রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান, মূল্য সংযোজন ও জনগণের জীবনমানোন্নয়নে এ শিল্পখাতের ব্যাপক অবদান রয়েছে। বর্তমানে দেশের গার্মেন্ট শিল্প কারখানাগুলোতে ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক কাজ করছে। এর শতকরা ৮০ ভাগ নারী। এ শিল্প নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সরকারকে বিশেষভাবে সহায়তা করছে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে চিহিৃহ্নত করেন। তারা বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ব তৈরি পোশাকের মোট চাহিদার ৫ শতাংশ রপ্তানি হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ এ খাতে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের জন্য বিশ্ব চাহিদার ন্যূনতম শতকরা ৮ ভাগ রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তারা এ লক্ষ্যে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্প স্থাপনে সুদের হার কমানোর পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি এখাতে উন্নত প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের তাগিদ দেন তারা।

উল্লেখ্য, চার দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর পাশাপাশি এক ছাদের নিচে ‘৯ম ঢাকা আন্তর্জাতিক ইয়ার্ণ ও ফেব্রিক প্রদর্শনী ২০১৫’ এবং ‘২২তম আন্তর্জাতিক ডাই-কেম বাংলাদেশ প্রদর্শনী ২০১৫’ আয়োজন করা হয়েছে। এতে ১৫টি দেশের প্রায় ৬০০ উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। ত্রিমাত্রিক এ প্রদশর্নীতে বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির টেক্সটাইল ও পোশাক, সুতা ও ফেব্রিক্স, ডাইং ও কেমিক্যাল পণ্য, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ইত্যাদি প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ প্রদর্শনী বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাতের গুণগত মানোন্নয়ন ও উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।