২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিলীন হচ্ছে পদ্মা সেতুর পাশের খড়িয়া গ্রাম


স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ পদ্মা সেতুর কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডের নদী ভাঙ্গন বন্ধ রয়েছে। তবে ভাঙ্গন চলছে পাশের খড়িয়া গ্রামে। বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিস্তৃণ এলাকা। সহায় সম্বল হারিয়ে পরিবারগুলো এখন দিশেহারা। তবে পদ্মার পানি বিপদসীমার উপরে থাকলেও গত কয়েক দিন ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। এদিকে নৌ মন্ত্রী ও পানি মন্ত্রীর ড্রেজিং করে চরের মুখ কেটে ¯্রােত মূল পদ্মায় নিয়ে আশার ঘোষণা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। তবে বুধবার ভোর থেকে থেকে ড্রেজিং হবে। এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পাশের গ্রামে এই ভাঙ্গন দেখা দিলেও সব মোকাবেলা করে পদ্মা সেতুর কাজ চলছে স্বাভাবিক গতিতে।

তবে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকেীশলী (ড্রেজিং) সুলতান উদ্দিন খান বিকালে জানান, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা বিআইডব্লিউটিএর একটি ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে ভাঙ্গন এলাকায় ডাম্পিং শুরু হয়েছে। খননকৃত মাটি সেখানে ফেলায় সাময়িক ভাঙ্গন রোধ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে চরের মুখটি কাটার ব্যাপারে পরিক্ষা-নিরীক্ষা করছে পানি উন্নয়নবোর্ডের প্রকৌশলী। তারা প্রকল্প প্রনয়নের চেষ্টা করছে।

গত বুধবারের পর পদ্মা সেতুর কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডের আর করে কোন ভাঙ্গন দেখা দেয়নি। বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে আটকানো হয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে চীনের মেজর ব্রীজ কোম্পানি।

এর আগে মূল সেতু এলাকা থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার ভাটিতে লৌহজংয়ের কুমারভোগস্থ পদ্মা সেতুর কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডের এই ভাঙ্গন প্রথম দেখা দেয় গত ২৭ জুন। সে সময় ১শ’ মিটার দীর্ঘ ও ৫০ মিটার প্রস্ত এলাকায় বিলীন হয়। এরপর ২য় দফা ২৩ আগস্ট আবার রাতে এই ইয়ার্ডের আকস্মিক ভাঙ্গনে বিলীন হয় প্রায় ২শ’ মিটির র্দীর্ঘ এবং প্রায় ৫০ মিটার প্রস্ত এলাকা। ২৬ আগস্ট সকালে ৩য় দফা ভাঙ্গনে এখানে প্রায় ২০ মিটার দীর্ঘ এবং ৪ মিটার প্রস্ত এলাকা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। বাঁশ ও খুটি দিয়ে বেড়া দিয়ে সেখানে জিও ব্যাগ ভর্তি বালু ফেলার পর ভাঙন আপাতত বন্ধ হয়েছে। তারপরও অতিরিক্ত সতর্কতামূলকভাবে আরও জিও ব্যাগ ভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে। এদিকে লৌহজং উপজেলার পুরনো মাওয়া ফেরিঘাট, শিমুলিয়া, হলদিয়ার এবং কুারভোগের পাশের খড়িয়া এলাকায়ও পদ্মা ভাঙ্গন চলছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে খড়িয়া গ্রামটি। এই গ্রামের ১৫৫ পরিবার এখন গৃহহারা। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কুদ্দুস আলী সরকার জানান, সরকারিভাবে ৮৮ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল ও ৫ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে। তবে ভারি বর্ষণের কারণে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে এবং বেড়েছে দুর্গত মানুষের কষ্ট । ঘরবাড়ি ছাড়াও বিলীন হয়ে গেছে শিমুলিয়া বাজারের একাংশ, সরকারি পিচঠালা রাস্তা, পুকুর, গরুর খামার, অসখংখ্য গাছপালা, বৈদ্যুতিক পুলসহ নানা স্থাপনা। হুমকীর মুখে রয়েছে বহু স্থাপনা।