২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

নিবিড় অনুশীলনে টাইগাররা


সেই যে ২২ আগস্ট শুরু হয়েছে। এরপর টানা অনুশীলন ক্যাম্প চলছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অক্টোবরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এর আগে টানা একমাস ফিটনেস ক্যাম্প করানো হচ্ছে। যাকে বলা হচ্ছে, ‘এলিট প্লেয়ারস কন্ডিশনিং ক্যাম্প’। যে ক্যাম্পে শুধু জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাই নন, আছেন ‘এ’ দলের ক্রিকেটাররাও।

এ ক্যাম্পে অবশ্য শুরুর দিন ২১ ক্রিকেটার যোগ দিয়েছেন। ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ২৭ ক্রিকেটারের মধ্যে ৬ ক্রিকেটার প্রথমদিনের অনুশীলনে যোগ দেননি। বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, ওয়ানডে হার্টহিটার ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান রুম্মন, পেসার আবুল হাসান রাজু ও ব্যাটসম্যান রনি তালুকদার প্রথমদিনের অনুশীলন করেননি। তামিম ইকবাল ও সোহাগ গাজী শুধু রানিং করেছেন। তামিমের হাঁটুতে সমস্যা ছিল। আর সোহাগ গাজী পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। ধীরে ধীরে সবাই অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। তামিম ও সোহাগের সমস্যাও দূর হতে চলেছে।

ছেলের চিকিৎসা করাতে সিঙ্গাপুর থাকায় মাশরাফি, আমেরিকায় থাকায় সাকিব অনুশীলনে যোগ দেননি। ২৬ আগস্ট মাশরাফি, ২৭ আগস্ট সাকিব অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। প্রথম দিনের ক্যাম্পে মুশফিক যোগ দিতে পারেননি জ্বর থাকায়। দুইদিন পরই ঠিক হয়ে যায়। অনুশীলনেও যোগ দেন। রাজু ব্যক্তিগত কাজ থাকার কারণে যোগ দেননি। সাব্বির রহমানের বাবা-মা হজে যাচ্ছেন, সে কারণে তিনিও প্রথম দিনের ক্যাম্পে যোগ দেননি। আর রনি তালুকদারের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা থাকায় পরে ক্যাম্পে যোগ দেন। জাতীয় দলের স্ট্রেন্থ এবং কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিল্লাভারায়েন প্রথমদিন জানিয়েছিলেন, ‘তামিম ইকবালের হাঁটুতে কিছুটা সমস্যা থাকায় শুধু রানিং করেছেন। সোহাগ গাজীর ফিটনেসে ঘাটতি থাকায় তাকেও রানিং করানো হয়েছে। দু’জনেরই পরে ফিটনেস টেস্ট নেয়া হবে।’ কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্প চলবে।

ক্যাম্পে আছেনÑ তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, এনামুল হক বিজয়, রনি তালুকদার, মিঠুন আলী, লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, শুভগত হোম, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম, আরাফাত সানি, জুবায়ের হোসেন লিখন, সোহাগ গাজী, মাশরাফি বিন মর্তুজা, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, আবুল হাসান রাজু, মোহাম্মদ শহীদ, শফিউল ইসলাম, রবিউল ইসলাম ও আল-আমিন হোসেন। যে ক্রিকেটাররা ক্যাম্পে আছেন, তাদের নিয়ে টানা ২ সপ্তাহ ফিটনেস ঠিক করার কাজ চলবে। এরপর ২৭ ক্রিকেটার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। একদল থাকবে জাতীয় দল, আরেকদল ‘এ’ দলের হয়ে যাবে। যে জাতীয় দলটি থাকবে তারাই অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে। জাতীয় দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে প্রধান কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে ৭-৮ সেপ্টেম্বর আসার পর। এমনটিই জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। আর নির্বাচক কমিটির সদস্য মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছিলেন, ‘আমরা এক মাসের জন্য এই ক্যাম্পটা শুরু করছি। এখানে ওয়ানডে-টেস্ট সব ফরমেটের ক্রিকেটার আছে। সামনে ‘এ’ দলের বড় একটি সফর রয়েছে। ৪৫ দিনের সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুইয়ের সঙ্গে কয়েকটি ম্যাচ খেলবে ‘এ’ দল। সেখানে কিছু ক্রিকেটার প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া সামনে জাতীয় দলের অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলা রয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, এই ক্যাম্প থেকে ক্রিকেটাররা উপকৃত হবে। কন্ডিশনিং ক্যাম্পের ২ সপ্তাহ পরেই ‘এ’ দল নিয়ে আমাদের চিন্তা ভাবনা শুরু করতে হবে। তখন দুটি দলকে আমরা আলাদা করে দেব।’ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা তখন পুরোদমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের জন্য মিশন শুরু করে দেবে। সেই কাজটি মুশফিকরা অবশ্য এখনও করছেন। প্রতিদিনই ফিটনেস নিয়ে কাজ করার পরই ব্যাট-বলের অনুশীলনও চালিয়ে যাচ্ছেন। আর যারা জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকেন, তাদের স্বপ্ন সুযোগ পেলেই স্থায়ী আসন করে নেয়ার। লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনই যেমন এমন স্বপ্ন দেখছেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন ও দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান লেগ স্পিনার ইমরান তাহিরকে অনুসরণ করা জুবায়ের বলেছেন, ‘আসলে আমাদের উইকেটে টার্ন বেশি থাকে। সেøাও থাকে। এগুলো আমাদের এ্যাডভানটেজ। চেষ্টা থাকবে তা কাজে লাগানোর। আমার সবসময় চেষ্টা থাকে ভাল জায়গায় বল করা এবং দলকে ব্রেক-থ্রু এনে দেয়া। আল্লাহর রহমতে, আমার মধ্যে সেটা আছে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট চট্টগ্রামে। যেখানে জুবায়ের অসাধারণ বোলিং করেন। চট্টগ্রামে যেহেতু খেলা, তাই জুবায়ের নিজেকে খেলার জন্যই প্রস্তুত করছেন। জুবায়ের জানান, ‘শেষ কয়েকটা ম্যাচে বোলিংয়ে যে ঘাটতিগুলো ছিল সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। একই জায়গায় বল ফেলা নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করছি। একজন লেগস্পিনারের জন্য একই জায়গায় বার বার বল ফেলা খুব কঠিন। ওটা নিয়েই বেশি কাজ করছি। ভাল মানের লেগস্পিনার হওয়া একটা সাধনার বিষয়। অনেক সময় লাগে। আমি তাড়াহুড়ো করছি না। চেষ্টা করছি প্রতিনিয়ত উন্নতি করার, সেভাবেই পরিশ্রম করছি। শারীরিক ও টেকনিক্যাল বিষয় নিয়েও কাজ করছি।’

জাতীয় দলে যেমন, ঘরোয়া লীগেও তেমন; স্থায়ীভাবে টিকে থাকতে পারছেন না। ঘরোয়া লীগে প্রতিনিয়ত খেলতে পারেন না জুবায়ের। ঘরোয়া ক্রিকেট এখনও নিয়মিত হতে পারেননি লেগস্পিনার জুবায়ের হোসেন। সর্বশেষ বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের (বিসিএল) চারদিনের ম্যাচে খেলা হয়নি তার। জাতীয় লীগেও (এনসিএল) অনেক সময় জায়গা হয় না একাদশে। তাই তো জুবায়ের আগে লীগে থিতু হতে চান। জুবায়ের মনে করেন ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক ম্যাচে কাজে লাগানো যায়। অবশ্য ঘরোয়া লীগে তাকে যে সাইড বেঞ্চে রাখা হয়, তাতে অনুযোগ নেই জুবায়েরের। তবে নিয়মিত খেলার আকুতি রয়েছে। এ নিয়ে বলেছেন, ‘একজন খেলোয়াড়ের কাজ হচ্ছে খেলা। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক ম্যাচে কাজে লাগানো যায়। যেখানেই খেলি আমার কাজ হবে পারফর্ম করা। এবারের জাতীয় লীগে যেহেতু খেলার সুযোগ আছে। আমার কাজ হলো ভাল খেলা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করা। এ জন্য বেশি বেশি ম্যাচ খেলা গুরুত্বপূর্ণ। তবে খেলতে না পারা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না।’ আপাতত জুবায়ের এবং দলের ক্রিকেটারদের অন্যসব নিয়ে নয় মাসব্যাপী অনুশীলন ক্যাম্প নিয়েই মাথা ঘামাতে হচ্ছে।