২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কংগ্রেসে ইরান চুক্তি ॥ ওবামা ভেটো দিতে পারেন!


পরমাণু প্রশ্নে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা কার্যকর হতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। কংগ্রেসে এই সংক্রান্ত ভোটাভুটি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে হবে। চুক্তি নাকচ করার প্রস্তাব কংগ্রেসে পাস করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদের ২১৮টি না সূচক ভোট লাগবে। রিপাবলিকানরা এবং ইরান প্রশ্নে হার্ড লাইনের সমর্থক ডেমোক্র্যাটরা এই চুক্তির বিরোধী। সুতরাং তারা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেবে। তথাপি বারাক ওবামা প্রতিনিধি পরিষদকে দিয়ে এই চুক্তি অনুমোদন করে নেয়ার মতো পর্যান্ত ভোট পাবেন বলে ধারণা করছে প্রশাসন। কারণ সিনেটের ভোট উত্তরোত্তর প্রেসিডেন্টের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠছে বলে তারা মনে করেন।

রিপাবলিকানদের কাছে এই ভোট হবে বরাক ওবামার ওপর গণভোট। কাজেই তারা বিপক্ষে ভোট দেবে। ইহুদী ডেমোক্র্যাটদের কাছে এই ভোট হবে নেতানিয়াহুর ওপর গণভোট। সুতরাং তারাও বিপক্ষে ভোট দেবে। যদি কংগ্রেসের উভয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোট এই চুক্তির বিরুদ্ধে যায়, সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট চুক্তি কার্যকর করতে না সূচক ভোট বাতিল করার জন্য ভেটো প্রয়োগ করতে পারেন। তখন প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিলের জন্য আবার ভোটাভুটি হবে এবং সেক্ষেত্রে ২৯০টি ভোটের প্রয়োজন হবে। যতদূর বোঝা যাচ্ছে, এই ভেটো টিকিয়ে রাখার মতো ভোট ওবামা সংগ্রহ করতে পারবেন।

গত জুলাই মাসে এক জনমত জরিপে দেখা যায় যে, ৫৪ শতাংশ আমেরিকান ভোটার ইরান চুক্তির পক্ষে আর ৩৮ শতাংশ বিপক্ষে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমর্থনের হার ৭৫ শতাংশ। সুতরাং ধরেই নেয়া যেতে পারে চুক্তিটি কংগ্রেসের অনুমোদন পাবে।

আর যেটা একেবারে না হওয়ার কথা তাই যদি হয় অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের ভেটো নাকচ হয়ে যায়, তাহলে কি হবে? সেক্ষেত্রে চুক্তিটি অকার্যকর থেকে যাবে এবং তখন ইরানের সামনে দুটো পথ খোলা থাকবে। ইরান তখন জোর গলায় বলবে যে, তার এই চুক্তিটি বিশ্বের সঙ্গে সম্পাদিত হয়েছে এবং সে এটা মেনে চলবে। তাতে করে বিশ্বের চোখে আমেরিকা অযোগ্য ও ক্ষমতাহীন হিসেবে পরিগণিত হবে। কারণ চীন, রাশিয়া ও ইউরোপীয়রা এই চুক্তি কঠোরভাবে মেনে চলবে। তখন ইরানের ধর্মীয় নেতা বলবেন, ‘দেখলে তো, এই মহাশয়তানকে একটুও বিশ্বাস করা যায় না। সুতরাং এখন থেকেই আমরা আত্মরক্ষার্থে এ্যাটম বোমা তৈরির কাজ শুরু করে দেব।’

তবে যে সম্ভাবনাটি প্রবল তা হলো, ওবামা কংগ্রেসকে হারিয়ে দেবেন। ফলে চুক্তিটি কার্যকর হবে। ইরানকে চুক্তির প্রতিটি দিক মেনে চলতে হবে। তার বেশিরভাগ সেন্ট্রিফিউজ নিষ্ক্রিয় করতে হবে। তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রায় পুরোটা ধ্বংস বা বিক্রি করে ফেলতে হবে। তার একমাত্র প্লুটোনিয়াম রিএ্যাক্টরের মূল অংশটা ধ্বংস করতে হবে। পর্যবেক্ষণ বিধিগুলো পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। এই সব কাজ তাকে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে করতে হবে। এ গুলো না করা পর্যন্ত ইরান অবরোধ প্রত্যাহার জনিত এক পয়সা সুবিধাও পাবে না।

মার্কিন কংগ্রেসের উভয় পরিষদ এখন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। রিপাবলিকানরা এক বাক্যে সবাই এই চুক্তির বিরুদ্ধে ভোট দেবে। তারা প্রচুর না ভোট সংগ্রহ করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটোকে নাকচ করে দিতে হলে তাদের সিনেটে অন্তত ১৩ জন ডেমোক্র্যাট এবং প্রতিনিধি পরিষদে ৪৪ জন ডেমোক্র্যাটকে তাদের পক্ষে টানতে হবে। আর ওবামাও একথা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ঐতিহাসিক চুক্তি অনুমোদন না করার যে কোন উদ্যোগ ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য তিনি ভেটো প্রয়োগ করতে কুণ্ঠিত হবেন না।

অঙ্কের হিসাবটা এখন প্রেসিডেন্ট ওবামার পক্ষে মনে হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেমোক্র্যাট এখনও চুক্তিটি প্রকাশ্যে অনুমোদন করেননি। কাজেই পাঁচ সপ্তাহের অবকাশ শেষে কংগ্রেসের অধিবেশন সেপ্টেম্বরে পুনরায় শুরু হলে দুই পক্ষই নিজেদের দল ভারি করার জন্য জোর লবিং শুরু করবে। রিপাবলিকানরা যদিও স্বীকার করেছে যে, প্রেসিডেন্টের ভেটোকে নাকচ করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডেমোক্র্যাটকে রাজি করানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, তথাপি ওবামা কোন কিছুকেই স্বতঃসিদ্ধ ও নিশ্চিত বলে ধরে নিচ্ছেন না। প্রতিনিধি পরিষদের ১৮৮ জন ডেমোক্র্যাট সদস্যের মাত্র ১২ জন প্রকাশ্যে এই চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে মনোযোগটা এখন স্বাভাবিকভাবেই সিনেটের দিকে গেছে। তথাপি ইসরাইলপন্থী লবির চাপে সদস্যদের মন যখন তখন বদলাতে পারে।

সূত্র : টাইম ও অন্যান্য

সম্পর্কিত: