১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বন্যার অবনতি


জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। টানা ভারি বর্ষণের কারণে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

ভোলায় ৪০ গ্রাম

পানির নিচে

ভোলা ॥ উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল, বৃষ্টি ও পূর্ণিমায় সৃষ্ট জোয়ারের প্রভাবে ভোলায় মেঘনা তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হওয়ায় তলিয়ে গেছে জেলার অন্তত ৪০টি গ্রাম। জোয়ারের পানিতে বসত ঘর রাস্তাঘাট, স্কুল, পুকুর, ফসলের ক্ষেতসহ বিভিন্ন স্থাপনা তলিয়ে যাওয়ায় পানি বৃদ্ধি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের পানিতে ভোলা সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের কালাতীর্তি, কালাসুরা, হেতমারহাট, রামদাসপুর, পূর্ব ইলিশা, মাঝের চর, দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর, সৈয়দপুর, মেদুয়া, মদনপুর, নেয়ামতপুর, বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা, তজুমদ্দিনের চর জহির উদ্দিন, মলংচড়া, মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া, দক্ষিণ সাকুচিয়া, হাজিহাট, মনপুরা, লালমোহন উপজেলার চর কচুয়াখালী, লর্ডহাডিঞ্জ ও চরফ্যাশন উপজেলার কুকরী মুকরী, ঢালচর, জাহানপুর, মাদ্রাজ, নজরুল নগর, চর পাতিলা ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষ বাঁচতে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বাঁধের ভেতর ও বাইরের এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ায় পানিতে মৎস্যঘাট ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। নষ্ট হয়েছে ফসলের জমি। গৃহপালিত হাঁস-মুরগি ভেসে যাওয়ায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা। ইলিশার বাসিন্দা কামাল, আমির হোসেন জানান, ইলিশা ফেরিঘাট এলাকায় জোয়ারে পানিতে ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া জোয়ারে পানিতে রাজাপুর গুচ্ছগ্রাম, পূর্ব ইলিশা, কালুপুর, মুরাদ শফিউল্লাহ, তালতলি, আদর্শ গ্রাম ডুবে গেছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হেকিম জানান, সর্ব শেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে মেঘনার পানি বিপদ সীমার ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা গত ১০ বছরে এ ধরনের উচ্চতায় প্রবাহিত হয়নি।

নীলফামারিতে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী

নীলফামারী ॥ তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। উজানের ঢল আর ভারি বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) ৩০সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত সোমবার এই পয়েন্টে তিস্তার পানি ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। ফলে বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার পানি কমলে গত দুই দিনের ৪৮ ঘণ্টা ধরে বন্যার পানিতে বন্দী হয়ে রয়েছে জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ছয় ইউনিয়নের তিস্তা অববাহিকার ২৫টি চর ও গ্রাম নি¤œাঞ্চলের প্রায় দশ হাজার পরিবার। এদিকে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদফতরের সহায়তায় ১৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়িতে বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজের সবকটি জলকপাট উন্মুক্ত করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ কথা জানিয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী সুরত উজ জামান বলেন, তিস্তায় পানি বৃদ্ধির প্রভাবে তিস্তার নি¤œাঞ্চলগুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়ায় ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী, পূর্ব ছাতনাই, নাউতারা, টেপাখড়িবাড়ি, গয়া বাড়ি, খগাখড়িবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ও শৌলমারী ইউনিয়নের দশ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে রয়েছেন।

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির

আরও অবনতি

কুড়িগ্রাম ॥ টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানা, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ৪৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৪ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে আরও নতুন নতুন এলাকা। রাস্তা ও বাঁধের উপর আশ্রিত অনেকেই এখনও ঘরে ফিরতে পারেননি। তার উপর নতুন করে বন্যা দেখা দেয়ায় তাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। ১০ দিনেরও বেশি পানির উপর থাকতে থাকতে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছে পানি বাহিত বিভিন্ন রোগব্যাধিতে। হাতে কাজ না থাকায় হাজার হাজার দিনমজুর পরিবারে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক শওকত আলী জানান, প্রায় ৫৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত রয়েছে। যার বেশিরভাগই নষ্ট হবার পথেÑ আশংকা করছেন তারা। জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন জানান, এ পর্যন্ত ১৫৯ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আবারও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গাইবান্ধায় শতাধিক পরিবার গৃহহারা

গাইবান্ধা ॥ বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই সাঘাটার আলাই নদীতে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে এই উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের একশ’ ১০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে তীব্র স্রোতে দলদলিয়া গ্রামে শহীদ মিনার সংলগ্ন বোড়বাঁধে ফাটল দেখা দিলে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি সংস্কারের জন্য এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে বালির বস্তা ফেলে প্রাথমিকভাবে ভাঙনরোধ করেন। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো হচ্ছে রামনগর, কচুয়া, চন্দনপাঠ। এসব পরিবার অন্যত্র গিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে রামনগর বাজারসহ বেশ কয়েক’শ পরিবারের বাড়িঘর।

লক্ষ্মীপুরে বেড়িবাঁধ মেঘনায় বিলীন

লক্ষ্মীপুর ॥ বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় জোয়ার এলেই সদর উপজেলা, কমলনগর ও রামগতির মেঘনা উপকূলীয় বেশ ক’টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে ফসলের মাঠ ও মাছের ঘের পুকুর ভেসে গিয়ে বাড়িঘরে পানি ঢুুকে পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে উপকূলীয় এলাকাবাসী। এর সাথে টানা ভারি বর্ষণ। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এতে রোপা আমন বীজতলা, উঠতি আউশ ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে দু’শতাধিক পুকুরের মাছ। সাথে সাথে বেড়েছে মেঘনার ভাঙন। অপরদিকে কমলনগর পূরো অংশ এবং রামগতির দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের সাথে সাথে মেঘনার প্রচ- জোয়ারের পানি ফসলি জমি ও বাড়িঘরে ঢুকে প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত বাঁধ ও মাছের জন্য পানি আটকে রাখার কারণে পানি সহজে নিষ্কাশন হচ্ছে না। এতে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ আরও কয়েক গুণ বেড়েছে। পূর্ণিমার প্রভাবে মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র জোয়ারে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়েেেছ। মঙ্গলবার পর্যন্ত গত চারদিন থেকে এ জোয়ার অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে টানা ভারি বর্ষণ অব্যাহ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলো হচ্ছে, সদর উপজেলার চররমনীমোহন, শাকচরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল, কমলনগর উপজেলার চরফলকন, সাহেবেরহাট, চরকালকিনি, পাটারিরহাট ইউনিয়ন। রামগতির আলেকজান্ডার, চররমিজসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল। স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, গত কয়েক বছরে মেঘনা নদীর ভাঙনে ৩৭ কি.মি. বেড়িবাধ বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে কমলনগর অরক্ষিত। বেড়িবাধ না থাকায় বর্ষা মৌসুমের অমাবস্যা-পূর্ণিমায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এতে করে ওই সব এলাকায় জোয়ারের পানিতে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

টাঙ্গাইল ॥ যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার চার ইউনিয়নের প্রায় দু’শ’ গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। এখন পর্যন্ত সরকারী বা বেসরকারী পর্যায়ে কোন ত্রাণ সহায়তা পায়নি পানিবন্দীরা। পানি বৃদ্ধির ফলে গ্রামগুলোর কয়েক হাজার একর জমির আমন, আউশ ধান, মুলা, মরিচ-সবজির আবাদ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে মাছের ঘের ও আবাদী পুকুর।

জানা গেছে, উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের প্রায় দু’শ’ গ্রামের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উঁচু করে মাঁচা (বাঁশের তৈরি) বানিয়ে কোন রকমে জীবনযাপন করছে পানিবন্দী পরিবারগুলো। নদী ভাঙ্গনে অনেকেই বাড়িঘর ভেঙ্গে আত্মীয়স্বজন ও রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে হাজারও পানিবন্দী পরিবার। চারটি ইউনিয়নের মাধ্যমিক, প্রাইমারী ও মাদ্রাসা মিলিয়ে প্রায় ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত রয়েছে শিক্ষার্থীরা। গাবসারা ইউনিয়নের ৪৫টি গ্রামের মধ্যে ৪৩ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। পানিবন্দী হওয়ায় গরু, ছাগলসহ গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছে তারা। বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্তসহ বিশুদ্ধ খাবার পানি ও ত্রাণ সহায়তার অভাবে অনাহারে দিন কাটছে তাদের।

এদিকে ৪টি ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে নতুন করে গৃহহারা হচ্ছে মানুষ। গত সপ্তাহে নতুন করে প্রায় ৪০টি পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। আর এসব বাস্তুহারা মানুষের ঠাঁই হয়েছে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, কেউবা সরকারী রাস্তার পাশে খুপড়ি তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল বলেন, পানিবন্দীদের মাঝে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দেয়া হবে। গরু, ছাগল ও অন্যান্য গৃহপালিত পশুপাখির জন্য মাটি দিয়ে উঁচু করে শেল্টার হোম তৈরি করা হবে।

নওগাঁয় পানিবন্দী ৩০ হাজার মানুষ

নওগাঁ ॥ নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও জেলার রাণীনগর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দফায় দফায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ভারি বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলতি মৌসুমের রোপা-আমন ধানের জমি তলিয়ে গেছে।

জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট ভোরে রাণীনগর-আত্রাই সড়কের পূর্ব মিরাপুর নামক স্থানে ভেঙ্গে গেলে রাণীনগর উপজেলার পীরেরা, লক্ষ্মীপুর, ভবানীপুর, সর্বরামপুর, গোনা, বইনা, চক, সিংড়াডাঙ্গা, সিম্বা, লোহাচূড়া, ছয়বাড়িয়া, গৌরদীঘি, খাগড়া, বড়গাছা, গহেলাপুর, শফিকপুর, বোদলা, পালশাসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। হাজার হাজার হেক্টর জমির রোপা-আমন ধান ও মৌসুমী সবজিক্ষেত তলিয়ে যায়। বাড়িঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করায় অনেক পরিবার এখন উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। রবিবার রাত থেকে সোমবার দিনভর মুষলধারে বৃষ্টিতে উঁচু স্থানে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেয়া বানভাসীদের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। এই বৃষ্টিতে জেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।