২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নাট্যশালায় বৃষ্টিস্নাত দিনে জাতীয় যন্ত্রশিল্পী সম্মিলন


স্টাফ রিপোর্টার ॥ মঙ্গলবার বৃষ্টিস্নাত দিনে নানা আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় যন্ত্রশিল্পী সম্মিলন। দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যায় সুরের মূর্ছনায় স্নিগ্ধ হয়ে ওঠে সম্মিলন প্রাঙ্গণ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা মিলনায়তন। মঞ্চে আসেন ৬০ জন যন্ত্রশিল্পী। পরিবেশন করেন অনবদ্য অর্কেস্ট্রা। ঢোল আর তবলার উচ্চ তালের বোলের সঙ্গে মিশে যায় সুরেলা শব্দধ্বনি তোলা বাঁশি, হারমনিয়াম, বেহালা, গিটার, সেতার, বেঞ্জো, দোতারা, অক্টোপ্যাড, ড্রামস, কি-বোর্ড ও মন্দিরার বাজনা। মিশ্রিত সুরের মোহময়তায় মিলনায়তনে ভেসে বেড়ায় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফ্রেব্রুয়ারি’, ‘ও আমার দেশের মাটি’, ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ কিংবা ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’সহ বাঙালী জাতিসত্তার চেতনাবহ গানের চরণ। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সময়ের জাগরণের এমনি সব গান বাজিয়েই স্মরণ করা হয় সেই উত্তাল সময়কে। বিমোহিত শ্রোতারা তন্ময় হয়ে উপভোগ করেন যন্ত্রসঙ্গীতের এই পরিবেশনা। বাংলাদেশ মিউজিশিয়ানস ফোরাম (বিএমএফ) অয়োজিত জাতীয় যন্ত্রসঙ্গীত সম্মিলনের সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুটা ছিল এভাবেই।

বিকেল থেকেই শুরু হয় সম্মিলনের আনুষ্ঠানিকতা। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা একাডেমির সামনের আঙিনায় ভিড় জমে সারা দেশ থেকে আগত যন্ত্রশিল্পীদের। গানের নেপথ্যের সুর তোলা শিল্পীদের কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে একাডেমি প্রাঙ্গণ। মেঘলা বিকেলে বের হয় তাঁদের আনন্দ শোভাযাত্রা। এরপর সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এ পর্বে দেশবরেণ্য প্রবীণ যন্ত্রশিল্পী শামসুল হককে প্রদান করা হয় সম্মাননা।

মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। আলোচনাসভায় অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক কাজী আক্তার উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক আবদুল মান্নান ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। বিএমএফের সভাপতি খ্যাতিমান বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিমের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দেবু চৌধুরী।

সাংস্কৃতিক পর্বে যন্ত্রসঙ্গীতের পরিবেশনা শেষে পরিবেশিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান। রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। রবীন্দ্রনাথের গান শেষে গীত হয় জাতীয় কবি নজরুলের গান। নজরুলসঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল। লালনগীতি পরিবেশন করেন ফরিদা পারভীন। যন্ত্রসঙ্গীতকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের স্বনামধন্য সব কণ্ঠশিল্পীরা গেয়ে শোনান তাদের জনপ্রিয় গানগুলো। এছাড়াও এই সুরেলা সন্ধ্যায় গান শোনান সৈয়দ আব্দুল হাদী, সুবীর নন্দী, মোঃ খুরশিদ আলম, শাকিলা জাফর, রফিকুল আলম, ফাহমিদা নবী, বারী সিদ্দিকী, সামিনা চৌধুরী, আসিফ আকবর, আঁখি আলমগীর ও শিল্পী মৌটুসী।

উদীচীর প্রযোজনাভিত্তিক নাট্যকর্মশালা ॥ আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় নাটক বিভাগ আয়োজিত চার মাসব্যাপী প্রযোজনাভিত্তিক নাট্যকর্মশালা। নিয়মিত এ কর্মশালার এবার ত্রয়োদশ আবর্তন। কর্মশালায় আবেদনের জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদীচীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় (১৪/২, তোপখানা রোড, জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীতে) থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়া যাবে। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার চিলেকোঠা ও শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের অভিক প্রকাশ থেকেও আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়া যাবে। কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন সর্বোচ্চ ৩০ জন।

আগামী ৯ অক্টোবর নাট্যকর্মশালায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুকদের সাক্ষাতকার নেয়া হবে। ওই দিন সকাল দশটায় আবেদনকারীদের সাক্ষাতকার গ্রহণ শেষে বিকেলে যোগ্য ও বাছাইকৃত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ১৫ অক্টোবর বিকেল চারটা থেকে শুরু হবে প্রযোজনাভিত্তিক নাট্যকর্মশালার কার্যক্রম।

কর্মশালায় অংশগ্রহণে আগ্রহীদের আসলাম অরণ্য (০১৭৮২-১৭৪৬৫৪) এবং শেখ আনিসুর রহমানে (০১৭৩০-৮৮৫৮৯৮) যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে (০২-৯৫৮২০৫৪) যোগাযোগ করতে কর্মশালায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুকরা।

মঞ্চস্থ নাট্যতীর্থের নাটক কঙ্কাল ॥ নাট্যদল নাট্যতীর্থের ১১তম প্রযোজনা কঙ্কাল। রবীন্দ্রনাথের কঙ্কাল গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে নাটকটি। প্রযোজনাটির নাট্যরূপ দিয়েছেন রবিউল আলম। নির্দেশনা দিয়েছেন তপন হাফিজ। মঙ্গলবার শরতের সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হলো নাটকটি।

নাটকের গল্পে দেখা যায়, বাড়িতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় খোকাবাবুকে রাতে তার ছোটবেলার পড়ার ঘরে থাকতে হয়। আর ওই কক্ষটিতে রয়েছে মানুষের অস্থি। রাতে ঘুম ভেঙে গেলে খোকাবাবু দেখতে পায় সুন্দরী ইন্দুবালাকে। এই ইন্দুবালার কঙ্কালই খোকাবাবুর পড়ার ঘরে ছিল। এরপর খোকাবাবুর সাথে আলাপচারিতা চলতে থাকে ইন্দুবালার । নাটকের দ্বিতীয় অংশে থাকে ফ্লাশব্যাক যেখানে ইন্দুবালার অতীত দেখানো হয়। এ অংশে শশী শেখরের সাথে ইন্দুবালার প্রণয়ের বিষয়টি দর্শকদের সামনে উন্মোচিত হয়।

চবি নাট্যকলা বিভাগের জন্য শিক্ষা সরঞ্জাম প্রদান ॥ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের অবকাঠামো উন্নয়নে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার সাউন্ড সিস্টেম, সেমিনারের আসবাবপত্র, আলোক সরঞ্জামসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পুস্তক ও সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে। সহকারী হাইকমিশনার শ্রী সোমনাথ হালদার এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সরঞ্জাম প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ সেকান্দর চৌধুরী, নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি অসীম দাশ, বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর কাজী মোস্তাইন বিল্লাহ, প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ড. মোঃ কামরুল হুদা প্রমুখ।