২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

দু’দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ এলাকায় সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকায় নগরীর অধিকাংশ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির নিচতলা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সড়কে যান চলাচল কমে যায়। ফলে চরমে ওঠে জনদুর্ভোগ। বিদ্যুায়িত হয়ে চকবাজার এলাকায় এক গার্মেন্টস কর্মী মারা গেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বৃষ্টি আরও দু’একদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৪৯ মিলিমিটার। এর আগে সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৪৮ দশমিক ৪ মিলিমিটার। সাগরে কোন নি¤œচাপ না থাকলেও মৌসুমী বায়ু সক্রিয় রয়েছে। সে কারণে সমুদ্র বন্দরগুলোর জন্য ৩ নম্বর সতর্কতা সঙ্কেত জারি রয়েছে। বুধ ও বৃহস্পতিবারও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে এর তীব্রতা কমে আসবে। চট্টগ্রামে সোমবার রাতভর ভারি বর্ষণ হয়েছে, যা অব্যাহত ছিল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি একাকার হয়ে ডুবিয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের নিচু এলাকা। নগরীর আগ্রাবাদ, ছোটপুল, হালিশহর, চকবাজার, খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, আসাদগঞ্জ, কাপাসগোলা, তিনপুল, মুরাদপুর, শুলকবহর, রাজাখালিসহ অধিকাংশ এলাকাই চলে যায় পানির নিচে। এতে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। অনেক বাসার নিচতলা ডুবে যায়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পানি ঢুকে পড়ে। এতে ভোগান্তি এবং আর্থিক ক্ষতি দুই-ই সাধিত হয়। নিচু এলাকা প্লাবিত থাকায় যান্ত্রিক যানবাহন বন্ধ থাকে। কিছু কিছু এলাকায় রিক্সা চলেছে তবে ভাড়া ছিল অনেক চড়া।

মঙ্গলবার সকালে চকবাজার এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে জমে থাকা পানিতে পা দিয়ে নুরুন নাহার (২০) নামের এক গার্মেন্টস কর্মী মারা যান। নিহত নুরুন্নাহার কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় ওয়েল গ্রুপের একটি কারখানার শ্রমিক। কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত এ শ্রমিককে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেনার ওঠানামা স্বাভাবিক থাকলেও বহির্নোঙ্গরে পণ্য হ্যান্ডলিং হয়নি। ছোট লাইটার জাহাজগুলো মাদার ভেসেলের কাছাকাছি ভিড়তে না পারায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সাগর উত্তাল রয়েছে। কর্ণফুলীতে স্রোতও অত্যধিক। এছাড়া মাতামুহুরি, শঙ্খসহ বিভিন্ন নদনদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারি বর্ষণে নগরীর সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই কার্যত বন্ধ থাকে। কারণ শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল একেবারেই হাতেগোনা। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ক্লাস না হওয়ার কথা জানিয়ে দেয়া হয়। যে সকল স্কুলে পরীক্ষা তারিখ নির্ধারিত ছিল তা স্থগিত করা হয়। কর্মজীবীদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কর্মস্থলে যেতে হয়েছে বেশ কষ্ট সহ্য করে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক ভাড়া গোনে। মঙ্গলবার বিকেলে বৃষ্টিপাত থামলেও রাত থেকে ফের বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে আবহাওয়া দফতর থেকে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: