২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে পারিনি, সেটা আমার ব্যর্থতা ॥ কেএম সফিউল্লাহ


নিজস্ব সংবাদদাতা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ৩১ আগস্ট ॥ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব) কেএম সফিউল্লাহ বীর উত্তম বলেছেন, ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই বঙ্গবন্ধু নিহত হন। বঙ্গবন্ধুকে আমি রক্ষা করতে পারিনিÑ এই ব্যর্থতা নিয়েই আমি বেঁচে আছি। অনেকে বলেন, ব্রিগেডিয়ার জামিল বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে যেতে পারলে আমি কেন গেলাম না? আমি সেদিন যদি একা ধানম-ির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যেতাম, তাহলে আমার পরিণতিও জামিলের মতোই হতো। আমি সেদিন মারা গেলে, যারা আজকে আমার সমালোচনা করছেন তারা খুশি হতেন। আমি বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে যেতে পারিনিÑ এটা আমার ব্যর্থতা।

সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা পরিষদ আয়োজিত শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ঢাকা বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, সোনারগাঁও থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া ও আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াজেদ আলী খোকন প্রমুখ।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর পর খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল খুবই রহস্যজনক। মেজর ডালিম অস্ত্রের মুখে আমাকে রেডিও স্টেশনে নিয়ে গিয়ে মোশতাক সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বাধ্য করেন। ১৫ থেকে ১৮ আগস্ট তিন দিন একই পোশাকে বঙ্গভবনে আমি প্রায় অবরুদ্ধ ছিলাম। এই সময় মোশতাকের কথাবার্তায় মনে হয়েছে সে তিন মাস আগে থেকেই সামরিক আইন জারির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অথচ বঙ্গবন্ধু মোশতাককে খুবই বিশ্বাস করতেন।

তিনি আরও বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকা-ের সময় তৎকালীন সেনা গোয়েন্দা বিভাগ সেনাপ্রধানের নিয়ন্ত্রণে নয়, সরাসরি রাষ্ট্রপতি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকা-ের খবর জানার পর পর আমি ৪৬ ব্রিগেডকে নির্দেশ দিয়েছিলাম মুভ করার জন্য কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়।