১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সুন্দর রাজন পিচাই গুগলের জয়যাত্রায় তারুণ্য


বাবা রেগুনাথ ছিলেন ব্রিটিশ একটি কোম্পানিতে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। সন্তানদের জন্মের পর স্টেনোগ্রাফারের চাকরি ছেড়ে দেন মা। টানাপোড়েনের সংসারে ছিল না বিনোদনের সামান্যতম ব্যবস্থা। দু-কামরার একটি ছোট্ট ফ্ল্যাটে ছিল নিম্ন আয়ের মানুষ রেগুনাথের সংসার। সুন্দর ও তার ছোট ভাইকে শুতে হতো বাড়ির বসার ঘরে। সুন্দরের বাড়িতে প্রথমবার টেলিফোন আসে ১২ বছর বয়সে। নব্যপ্রযুক্তির সঙ্গে এভাবেই পরিচয় হয় ‘মোবাইলে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী’ এই মানুষটির। সংখ্যা নিয়ে তার ছিল অদ্ভুত স্মৃতিশক্তি। ফোনবিষয়ক যে কোন নাম্বার তিনি অনায়াসেই বলে দিতে পারতেন। সংখ্যা নিয়ে তার এই ক্ষুরধার স্মৃতিশক্তির পরিচয় পরবর্তী সময়ে পেয়েছেন তার সহকর্মীরাও। সম্প্রতি এক মিটিংয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট এ্যালান ইউস্টাসকে চমকে দেন পিচাই। গুগলের ভয়েস এ্যাকটিভেটেড সার্চিং নিয়ে একগুচ্ছ সংখ্যাতত্ত্ব বের করেন সুন্দর পিচাই। তার এই মেধার পরিচয়ে অবাক হয়ে যান ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট। মুগ্ধ হয়ে তিনি বলেন, ‘ওটা আমার বিষয়, অথচ পিচাই যে নম্বরগুলো পেশ করলেন আমিই জানতাম না সেগুলোর কথা।’

বলা বাহুল্য, আধুনিক বিশ্বের চালিকাশক্তি হিসেবে ভারতীয়দের অবদান ঈর্ষণীয়। সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ সফটওয়্যার নির্মাতা মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের সর্বোচ্চ পদ প্রধান নির্বাহী হয়ে সারা ভারতবাসীকে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছেন সত্য নাদেল। পূর্বে তিনি মাইক্রোসফটের ক্লাউড এ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আর অন্যদিকে সুন্দর পিচাইয়ের গুগলে নব্য সিইও হিসেবে নিয়োগ জানান দিচ্ছে আগামীর বিশ্বব্রহ্মা- শাসনে ভারতীয়দের আধিপত্য।

মেধাবী পিচাই খড়গপুর আইআইটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করার পর স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপ পেয়ে যান। কিন্তু গোল বাঁধে আমেরিকায় যাওয়ার বিমানের টিকিট ও আনুষঙ্গিক খরচের পয়সা জোগাড় করতে। শেষমেশ নিজেদের সঞ্চয় ভেঙ্গে ছেলের বিমানের টিকিট কাটেন তার বাবা। সেই টাকার পরিমাণ ছিল তার সারা বছরের রোজগারের থেকেও বেশি। তবে ১৯৯৩ সালে স্ট্যানফোর্ডে যাওয়ার পর তার ভাগ্য এক নতুন মোড় নেয় বলা যায়।

পিচাইয়ের ছাত্রজীবনের দিনগুলোতে সবচেয়ে বড় কষ্ট ছিল বান্ধবী অঞ্জলির সঙ্গে দেখা করতে না পারা। তবে একটা সময়ে অবশ্য অঞ্জলিও আমেরিকায় যান এবং সহধর্মিণী হিসেবে পিচাইয়ের সঙ্গে আঁটসাঁট বাঁধেন। এ্যাপ্লায়েড মেটিরিয়ালস নামে সিলিকন ভ্যালির একটি কোম্পানিতেই প্রথম চাকরি পিচাইয়ের। ২০০২ সালে হোয়ার্টন স্কুল অফ বিজনেস থেকে এমবিএ করার পর অল্প কিছুদিনের জন্য ম্যাকিনসেতে যোগ দেন তিনি।

স্ট্যানফোর্ড থেকে এমএস ও এমবিও করা পিচাইয়ের সুযোগ হয়েছিল ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী নেয়ারও। কিন্তু মাঝপথেই চাকরি করতে যাওয়ায় সেই ডিগ্রী আর নেয়া হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের পয়লা এপ্রিল গুগলপ্লেক্সে পদার্পণ করেন পিচাই। আর সে দিনই গুগল তাদের জিমেল পরিষেবা লঞ্চ করে। সেদিন থেকে শুরু করে বিগত এক দশক পেরিয়ে আজকে এই সংস্থারই সিইও হিসেবে আত্মপ্রকাশ। তার সেই আগের কঠোর ও সংগ্রামী দিনগুলো প্রেরণা হিসেবে আজকের তরুণ-তরুণীরা ধারণ করলে ভবিষ্যত সাফল্য যে সুনিশ্চিত, এটা একবাক্যে বলা যায়। সুন্দর পিচাইয়ের সাফল্য গাথায় তারুণ্যের কবি নজরুলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরা বলতে পারিÑ ‘তরুণের হাত অর্জনের জন্য, ভিক্ষে চাওয়ার জন্য নয়।’