২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বরগুনায় জোয়ারে ৫০ গ্রাম প্লাবিত


নিজস্ব সংবাদদাতা, বরগুনা, ৩১ আগস্ট ॥ অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে সমুদ্র উপকূলীয় বরগুনা জেলার প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিষখালী নদীর পানি বিপদসীমার ৩১ সে.মি. ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া বুড়িশ্বর ও বলেশ্বরেও জোয়ারের পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বেলা ১টা পর্যন্ত জোয়ারের মোট উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ১৬ মিটার যা বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জানা গেছে, পানির অস্বাভাবিক চাপে সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের, ডেমা গুলিশাখালী, মাঝেরচর, পাতাকাটা, এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের, ছোট বালিয়াতলী, পালের বালিয়াতলী, নলটোনা ইউনিয়নের পদ্মা, সোনাতলা, আমতলা ও নিশানবাড়িয়া, ঢলুয়া ইউনিয়নের ডালভাঙা, লতাবাড়িয়া, গোলবুনিয়া, মাঝখালী, উত্তর ডালভাঙা, দক্ষিণ ডালভাঙা গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পাথরঘাটায় ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে বলেশ্বর নদীর পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে চরদোয়ানি, কাঁঠালতলী, জ্ঞানপাড়া, পদ্মা, রুহিতা, জ্বিনতলা, বাদুরতলা, কোরালিয়া, নিজ লাঠিমারা, ছোট টেংরা, গাববাড়িয়া এলাকা। বেতাগী উপজেলার বিষখালী নদীসংলগ্ন উত্তর বেতাগী, ঝিলবুনিয়া, ছোপখালী, ঝোপখালী, ভোলানাথপুর, জগাইখালী, কালিকাবাড়ি, গাবতলী, আলিয়াবাদ, জোয়ার করুনা, গ্রোমর্দন ভাসছে জোয়ারের পানিতে।

ভোলায় রিং বাঁধ ভেঙ্গে ৩ গ্রাম

নিজস্ব সংবাদদাতা ভোলা থেকে জানান, ভোলা সদর উপজেলা শিবপুর ও ধনিয়া ইউনিয়নে কালাসুরা গ্রামের সোমবার সকালে পুরাতন রিং বাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানিতে ৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৩ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এলাকা তালিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। স্থানীরা জানান, কয়েক দিন ধরে মেঘনার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় শিবপুর ও ধনিয়া ইউনিয়নের কালাসুরা এলাকায় পাউবোর বাঁধের বাইরের পুরাতন রিং বাঁধটি ঝুঁকির মুখে পড়ে। সোমবার সকালের দিকে জোয়ারের পানির চাপে ওই বাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে পুরো এলাকা তলিয়ে যায়।

সাতক্ষীরায় বাঁধ ভেঙ্গে এক গ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার সাতক্ষীরা থেকে জানান, আশাশুনি উপজেলার রুয়েরবিল এলাকায় কপোতাক্ষ নদের প্রায় ১ শ’ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে একটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে ৫শ’ বিঘা মৎস্য ঘের। সোমবার ভোরে উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের রুয়েরবিল গ্রামে এ বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়। শতাধিক এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধটি সংস্কারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। বাঁধটি দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সংস্কার করা না হলে প্রতাপনগর ও শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

উজানের ঢলে তিস্তায় বন্যা

স্টাফ রিপোর্টার নীলফামারী থেকে জানান, ফুঁসে উঠেছে তিস্তা। উজানের ভারি বর্ষণ ও ভয়াবহ ঢলে তিস্তা নদী ও তার অববাহিকার ২৫টি চর ও গ্রামগুলো বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১০ ইউনিয়নের সহস্র্রাধিক পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িগুলো হাঁটু পানিতে তলিয়ে রয়েছে। তিস্তা পরিবেষ্টিত খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, খগাখড়িবাড়ি, পুর্ব ছাতনাই, নাউতারা, গয়াবাড়ি, জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, শৌলমারীসহ লালমনিরহাট জেলার কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর ইউনিয়নের পশ্চিম বাইশপুকুর চরের সহিদুল ইসলাম জানান, চরের প্রতিটি বাড়ির ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করেছে। নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের পানি উন্নয়নের বোডের বন্যা পুর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, উজানের ঢলে সোমবার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লালমনিরহাটে পানিবন্দী ৫০ হাজার

নিজস্ব সংবাদদাতা লালমনিরহাট থেকে জানান, টানা বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি সোমবার বিকেল ৩টায় বিপদসীমার ৩২সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তিস্তা ব্যারেজের ভার্টির দ্বীপচর গ্রামগুলোতে ফ্লাড ওয়াশ আতঙ্কে লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে ও বাঁধের রাস্তায় নিরাপদ আশ্রয় নিচ্ছে। কয়েক দিন ধরে টানা বর্ষণ চলছে। বাংলাদেশ ও ভারতে নদনদীর পানি বেড়েই চলছে। ভারত সরকার তার দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে থেমে থেমে ভারতের গজলডোবা ব্যারেজ হতে তিস্তা নদীতে পানি ছেড়ে দিয়েছে। সোমবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ৫০ দশমিক ৭২ সে.মি. তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিপদ সীমার ৩২সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দেশের সর্ব বৃহৎ সেচ প্রকল্প লালমনিরহাট হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি সোমবার বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

রাজশাহী নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, ভাদ্রের সকালে এক ঘণ্টার ভারি বর্ষণে রাজশাহী নগরজুড়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলির রাস্তা ডুবে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। অনেক বাড়িতে পানি উঠে গেছে। বৃষ্টির পানি ও ময়লাযুক্ত ড্রেনের পানিতে একাকার হয়ে গেছে নগরীর ঘরবাড়ি।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, রাতভর ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয়েছে। তবে সকালের বৃষ্টি হয়েছে ভারি। সকাল সাতটা থেকে সোয়া ৮টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩১ দশমিক ৪ মিলিমিটার। দিনভর কখনও ভারি এবং কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হচ্ছে রাজশাহীতে। সরেজমিন নগরীর উপশহর, তেরোখাদিয়া, বিলসিমলা, দরিখরবোনা, হেতেম খাঁ, সাগরপাড়া, সাহেববাজার, ষষ্ঠিতলা, কোর্ট, কাশিয়াডাঙ্গা, তালাইমারী, কাজলা, ছোট বনগ্রাম, বড় বনগ্রামসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় সর্বত্র জলাবদ্ধতা।

রংপুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর থেকে জানান, দ্বিতীয় দফায় আবারও টানা ভারি বর্ষণে বিভিন্ন নি¤œাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি বেড়েছে তিস্তাসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন নদনদীতে। বর্ষণের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। জেলার গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার পরিবারের ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ।

পঞ্চগড়ে নর্দমা উপচে জলাবদ্ধতা

স্টাফ রিপোর্টার পঞ্চগড় থেকে জানান, পৌরসভার এম আর কলেজ রোডের ডোকরোপাড়ায় হঠাৎ জলাবদ্ধতায় পড়েছে প্রায় ৩০টি পরিবার। প্রবল বৃষ্টিতে পানি সরে না যাওয়ায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধযুক্ত পানি এলাকার পরিবেশ দূষিত করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাশের একটি কালভার্টের মুখে এক ব্যক্তি দেয়াল নির্মাণ করায় এবং কয়েকদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টিপাতের এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু কলেজ রোড এলাকাই নয় পঞ্চগড় পৌরসভার অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ নির্মাণাধীন ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার না করায় পানি সরে যেতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে পানি উপচে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সোমবার সকালে পঞ্চগড় সরকারী এম আর কলেজ রোডের পাশে ডোকরোপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সেখানে হাঁটু পানি জমে আছে।

কুড়িগ্রামে তীব্র ভাঙ্গন

স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম থেকে জানান, সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। উজানের পাহাড়ী ঢল ও কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণে ধরলার পানি কিছুটা কমে গেলেও ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত দু’দিনের ধরলার ভাঙ্গনের ফলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চর পশ্চিম ধনিরাম ও চরমেকলি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় দু’টির একটি নদীগর্ভে চলে গেছে অন্যটি নদীগর্ভে যাওয়ার পথে। রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাওয়ায় শিশুশিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রে ৪ ও দুধকুমারে ৮ সেন্টিমিটার এবং তিস্তায় ২৩ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। তবে ধরলার পানি কমেছে ৩ সেন্টিমিটার।

গাইবান্ধায় বন্যার্তদের দুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব সংবাদদাতা গাইবান্ধা থেকে জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও সোমবার ঘাঘটের পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে নদীর তীব্র স্রোতে ঘাঘট, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। গত এক সপ্তাহে নদীভাঙনে ৫শ’ ১৮টি বসতবাড়ী বিলীন হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী এলাকার কাপাসিয়া, হরিপুর, চ-িপুর, শ্রীপুর, বেলকা, তারাপুর ও ঘাঘট নদীর তীরবর্তী বামনডাঙ্গা ও সর্বানন্দ ইউনিয়নের ২১ হাজার ৭শ’ পরিবারের প্রায় ৮৪ হাজার মানুষ ১৫ দিন থেকে পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

মোহনগঞ্জে রোপা আমন পানির নিচে

নিজস্ব সংবাদদাতা মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা থেকে জানান, কয়েকদিনের অতি বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে মোহনগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৩ সহস্র্রাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ১৩শ’ একর জমির রোপা আমন ফসল। ভেসে গেছে অনেকের মৎস্য খামার ও পুকুরের মাছ।

শেরপুরে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট

নিজস্ব সংবাদদাতা শেরপুর থেকে জানান, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে শেরপুরে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলা। ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি যে খোদ ঝিনাইগাতীই এখন বিধ্বস্ত জনপদে পরিণত হয়েছে। এখনও পানিবন্দী রয়েছে নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা। ওইসব এলাকার লোকজন কলার ভেলা ও নৌকাযোগে পারাপার হলেও তাদের বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে।