২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বাড়ছে সেবা


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিনই গ্রাহক বাড়ছে। বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণ। প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বা অতিদ্রুত শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে শহরে সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং কেবল টাকা আদান-প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং অনেক নতুন নতুন সেবা যুক্ত হয়েছে এতে। প্রতিমাসেই বাড়ছে বিভিন্ন সেবা বিল দেয়ার পরিমাণ। গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে ৪৬০ কোটি টাকা। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকসংখ্যা ২ কোটি ৮৭ লাখ ছাড়িয়েছে।

সূত্র জানা যায়, ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পর থেকে প্রতিদিনই বাড়ছে গ্রাহক। ২০১৩ সালের নবেম্বর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকসংখ্যা ১ কোটির মাইলফলক অতিক্রম করে। গত বছরের মার্চে তা দেড় কোটি ছাড়িয়ে যায়। আর গত সেপ্টেম্বরে ২ কোটি ছাড়ানোর পর ডিসেম্বর মাস শেষে হয় ২ কোটি ৫১ লাখ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, জুলাই মাস শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত মোট গ্রাহক হচ্ছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৩২ হাজার। উল্লেখ্য, কোন হিসাব থেকে টানা তিন মাস লেনদেন না হলে তা নিষ্ক্রিয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই বিবেচনায় জুলাই শেষে মোট হিসাবের ১ কোটি ১৯ লাখ ২৩ হাজার হিসাব নিষ্ক্রিয় রয়েছে। আর জুলাই মাস শেষে সারাদেশে মোট এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৭৩১। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুলাই মাসে মোট ৯ কোটি ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ১১৭টি লেনদেন হয়েছে। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ১৩ হাজার ৮১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর আগের মাসে মোট ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫৯ হাজার ৩০৩টি লেনদেন হয়েছে। টাকার অঙ্কে লেনদেন হয়েছিল ১২ হাজার ৯৬৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মে মাসে লেনদেন হয়েছিল ৯ কোটি ৫৪ লাখ ১২ হাজার ১৪৬টি, টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ১২ হাজার ৬০১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এপ্রিলে ১১ হাজার ৮৪০ কোটি, মার্চে ১২ হাজার ২২৬৪ কোটি, ফেব্রুয়ারি মাসে ১০ হাজার ৯৫৮ কোটি ও জানুয়ারি মাসে মোবাইলে লেনদেন হয়েছে ১১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এসব মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে রেমিট্যান্সও আসছে। জুলাই মাসে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকার রেমিট্যান্স এসেছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। এর আগের মাসে এসেছিল চার কোটি ৯ লাখ টাকার রেমিটেন্স প্রতিবেদনে দেখা যায়, গ্রাহক নিজের হিসাবে জমা করেছেন ৫ হাজার ৭৭৩ কোটি ৮ লাখ টাকা। আগের মাসে নিজের হিসাবে জমা করেছেন ৫ হাজার ৪৬১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। জুলাই মাসে উত্তোলন করেছেন ৫ হাজার ৪৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। জুন মাসে উত্তোলন করেছেন ৪ হাজার ৭৭৬ কোটি ৯ লাখ টাকা। জুন মাসে অন্যের হিসাবে পাঠিয়েছেন ২ হাজার ২৮৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। জুলাই মাসে বেতন পরিশোধ হয়েছে ১৪৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। জুন মাসে বেতন পরিশোধ হয়েছে ১০১ কোটি ৪০১ লাখ টাকা। জুলাই মাসে সেবা-বিল পরিশোধ হয়েছে ১৪৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। জুন মাসে সেবা-বিল পরিশোধ হয়েছে ১২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। জুন মাসে অন্যান্য খাতে পরিশোধ হয়েছে ২১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। জুলাই মাসে অন্যান্য খাতে পরিশোধ হয়েছে ২৬৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের কারণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা ও লেনদেন যেমন বেড়েছে। তিনি বলেন, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে ই-কমার্সসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা বেড়েছে। এদিকে মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে মোবাইল ফোনের এয়ারটাইম ক্রয়ের পাশাপাশি দোকানে কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যাচ্ছে। এছাড়াও ওয়ালেটে (এ্যাকাউন্টে) জমা টাকার ওপর দেয়া হচ্ছে ইন্টারেস্ট। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে ওয়ালেট ব্যবহারের উৎসাহ বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত ২৮ ব্যাংককে অনুমোদন দিলেও এ সেবা দিচ্ছে ২০ ব্যাংক। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বিকাশের গ্রাহক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং এরপরই আছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং। সম্প্রতি এ সেবার নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাহকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি ছাড়া এ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাশকতা, ঘুষ লেনদেনসহ নানা অপরাধমূলক কাজে অর্থ লেনদেনে যাতে এ মাধ্যম ব্যবহৃত না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে।