২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন


হাক্কানি নেটওয়ার্কের মোকাবেলায় পাকিস্তানের কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত যুক্তরাষ্ট্র সে ব্যাপারে পাকিস্তানকে অবহিত করেছে। দেশটি জোর দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও কাবুল উভয়ের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ। রবিবার মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস তার ইসলামাবাদ সফরের সময় পাকিস্তানকে এ বার্তা দেন। ২২ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে আমন্ত্রণ জানাতে রাইস ইসলামাবাদ সফর করেন। একজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা ওই বার্তাকে খোলাখুলি বলে বর্ণনা করেন। খবর ডনের

মিস রাইস ইসলামাবাদ সফর শেষে এই টুইট বার্তায় বলেন, ‘আজ (রবিবার) অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলোর মোকাবেলায় কি করে সহযোগিতা আরও গভীরতর করা যায়, সে ব্যাপারে আলোচনা করেছি। আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতার বিকাশ ঘটাতে পাকিস্তানকে উৎসাহিত করেছি।’ রাইস বলেন, তিনি আলোচনা অব্যাহত রাখতে ২২ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে আসতে প্রধানমন্ত্রী শরীফকে প্রেসিডেন্ট ওবামার আমন্ত্রণ পৌঁছে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর শরীফকে উদ্ধৃত করে এক বিবৃতিতে বলেছে, তিনি (শরীফ) দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার একটি সুযোগ হিসেবে এ বছরের অক্টোবরে তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের দিকে তাকিয়ে আছেন।

প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, পররাষ্ট্র বিষয়ক এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ এবং সেনাবাহিনী প্রধান জে. রাহিল শরীফের সঙ্গে মিস রাইসের বৈঠক শেষে যে ধারণা জন্মেছে তাহলো ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচ্যসূচীতে যে বিষয়টি প্রাধান্য পাবে তা হলো সন্ত্রাসদমন সহযোগিতা এবং আরও নির্দিষ্টভাবে ওয়াশিংটনের এই উপলব্ধি যে, পাকিস্তান উত্তর ওয়াজিরিস্তানে জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত জার্ব-ই-আজব সামরিক অভিযানে যথেষ্টভাবে হাক্কানি নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করছে না। গত বছর জার্ব-ই-আজব অভিযানের শুরু থেকে হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র সন্দিহান ছিল। কিন্তু এ মাসের প্রথমদিকে কাবুলে মারাত্মক হামলার পর ওই সব উদ্বেগের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র অধিক সোচ্চার হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হাক্কানিই সেসব হামলা চালিয়েছে। এ মাসে শাওয়াল উপত্যকায় সেনাবাহিনীর স্থল অভিযান শুরুর মধ্য দিয়ে জার্ব-ই-আজব চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।

একজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সফরের ব্যাপারে ব্রিফিং দিতে গিয়ে বলেন, ‘মিস রাইস হাক্কানি নেটওয়ার্কের সংঘটিত কাবুলের ভয়াবহ হামলার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।’ এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এ হুমকি লাঘবে পাকিস্তান কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেদিকে আমরা তাকিয়ে আছি। ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব হামলা বন্ধে পাকিস্তানের কি ধরনের ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ নেয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে পাকিস্তানকে অবহিত করা হয়েছে। কর্মকর্তা অবশ্য, পাকিস্তানকে কি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ করেননি।

কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে যে, তালেবান প্রধান মোল্লা ওমরের মৃত্যুতে আফগানিস্তান লড়াইয়ের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।