মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

মন্ত্রিসভায় বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন অনুমোদন

প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • বিলুপ্ত হচ্ছে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশন, তবে কারও চাকরি যাবে না

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশন বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি মন্ত্রিসভা ১৯৯৮ সালের আইন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরিত সব প্রতিষ্ঠান ও জনবলের বেতন ও অন্যান্য ব্যয় বাবদ সরকারের দেয়া অর্থ পরিষদের তহবিলে জমা দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকের শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন ও জাতীয় সংসদে পাসের পর এটি কার্যকর হলে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশন বিলুপ্ত হবে। তবে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের কোন কর্তকর্তা-কর্মচারীর চাকরি যাবে না। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী হবেন তারা। এ ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হলে প্রচলিত আইনে সমাধান করা হবে।

তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালে বিনিয়োগ বোর্ড আইন দ্বারা গঠিত হয়েছে। এর লক্ষ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। বোর্ডের কাজ- নিবন্ধন, অনুমোদন, সুযোগ-সুবিধা প্রদান ইত্যাদি। এ বোর্ডে একটি পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। এর চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী। আর নির্বাহী প্রধান নির্বাহী চেয়ারম্যান। ১৯৯৩ সালে রেজুলেশন করে বেসরকারীকরণ আইনের মাধ্যমে প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড গঠন করা হয়। পরবর্তীতে এটিকে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন করা হয়। প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের কাজ সরকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে তা বিক্রি করে দেয়া। ২০০০ সাল থেকে গত ১৫ বছরে প্রত্যাশিত মাত্রায় ফল অর্জিত হয়নি। এ পর্যন্ত দেশে ৫৮ প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণ করা হয়েছে। আর শেয়ার আপডেট করা হয়েছে ২৩ প্রতিষ্ঠানের। সরকার অনুভব করছে প্রতিষ্ঠান লাভজনক হলে চালানো হবে। আর অলাভজনক হলে বিক্রির নিষ্ফল প্রয়োগ না চালিয়ে লাভবান কাজে অব্যবহৃত সম্পত্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। কারণ, বিক্রি করলে দাম পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইছেন, বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশন ‘মার্জ/এমালগেমেট’ করা। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছিলেন, আমরা একটি কমিটি করে দিয়েছিলাম। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানের জন্য এ কমিটি আইনের খসড়া করবে এবং প্রতিষ্ঠানের অর্গানোগ্রাম তৈরি করবে। কমিটি দুটি কাজই করেছে।

পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে খসড়া তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তাঁর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমানের কাছে এটি পাঠিয়েছিলেন। খসড়াটিকে ভিত্তি ধরে তা পরিমার্জন করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভা এটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও জাতীয় সংসদে পাসের পর আইন কার্যকর হলে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশন বিলুপ্ত হবে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) আইনের খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। এ কর্তৃপক্ষের একটি গবর্নিং বোর্ড থাকবে। বোর্ডের প্রধান চেয়ারম্যান থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। ভাইস চেয়ারম্যান থাকবেন অর্থমন্ত্রী। ১৭ সদস্যের এই বোর্ডে কৃষিমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, বিদ্যুত ও জ্বালানিমন্ত্রীসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থাকবেন। আর ছয়জন থাকবেন অন্য সদস্য।

এছাড়া ১৯৯৮ সালের আইন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরিত সব প্রতিষ্ঠান ও জনবলের বেতন ও অন্যান্য ব্যয় বাবদ সরকারের দেয়া অর্থ পরিষদের তহবিলে জমা দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৯৮ সালের আইন অনুযায়ী এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। ২০১১ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। ১৯৯৮ সালের আইনের ৩৫ ধারায় বলা আছে, উপজেলা পরিষদ তহবিল কী ভাবে গঠিত হবে। এখানে দুটি বিষয় রয়েছে; একটি- হস্তান্তরিত বিষয়। উপজেলা পরিষদকে হস্তান্তর করতে হবে। দ্বিতীয়টি সংরক্ষিত বিষয়, যা সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত হবে।

আইনের ৩৫ ধারায় বলা আছে- ‘কর, রেট, টোল, ফিস এবং অন্যান্য দাবি বাবদ প্রাপ্ত অর্থ, পরিষদের ওপর ন্যস্ত এবং তৎকর্তৃক পরিচালিত সকল সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত আয় বা মুনাফা, পরিষদের নিকট হস্তান্তরিত প্রতিষ্ঠান বা কর্ম পরিচালনাকারী জনবলের বেতন ভাতা এবং এতদ্ক্রান্ত অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ বাবদ সরকার প্রদত্ত অর্থ সরকার বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অনুদান পরিষদের তহবিলে পরিশোধ করতে হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনে থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখন বাস্তবায়ন করার জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন দেয়া হলো। এর আগে হস্তান্তরিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় অধিদফতরের জনবলের বেতন নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা অধিদফতর নির্বাহ করত। এখন থেকে হস্তান্তরিত প্রতিষ্ঠানের জনবলের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় উপজেলা পরিষদের তহবিলে জমা হবে। এসব জনবলের বেতন কাঠামো পরিশোধ করবে উপজেলা পরিষদ তহবিল। তিনি বলেন, আইনে বলা আছে, এটি বাস্তবায়নে জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে।

প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০১/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: