২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক তৈরি হচ্ছে


হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশ মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক। এর মধ্য দিয়ে খুলে যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশেষ করে চীন ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের দ্বার। সেই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং পর্যটন শিল্পে উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য ৫৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। চলতি বছরের আগস্ট থেকে ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক (বালুখালী-ঘুনধুম) বর্ডার রোড নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান পরিকল্পনা কমিশনের মাতাম দিতে গিয়ে এর আগে বলেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, চীন ও থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন হবেÑ তাই এ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল পরিকল্পনা কমিশন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রথম পর্যায়ে ৮১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠায় পরিকল্পনা কমিশনে। ২০১৪ সালের ১৩ নবেম্বর প্রস্তাবটির ওপর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে প্রকল্প ব্যয় কমিয়ে ৫৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে পুনর্গঠিত ডিপিপির ওপর পুনরায় চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী প্রকল্পের প্রক্রিয়াকরণ শেষে সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির একনেক এ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে। কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলা এবং বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় এই দুই কিলোমিটার বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়কটি তৈরি করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে ১০ দশমিক ৮ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ, ৩ দশমিক ৪৭ লাখ ঘনমিটার মাটির কাজ, এক দশমিক ৪০ লাখ ঘনমিটার স্যান্ড ফিলিং, দুই কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট নির্মাণ, ৫৬ মিটার একটি ব্রিজ নির্মাণ, ২৪ মিটারের চারটি কার্লভাট নির্মাণ, ১২১ দশমিক ৪ মিটার সাইড ড্রেন নির্মাণ, ৪০ মিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ এবং ৫৪ মিটার ব্রিক মেশনারি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ সূত্র জানায়, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এক্সিলারেট গ্রোথ এ্যান্ড রিডিউশিং প্রভার্টির (পার্ট-২) সেক্টরাল স্ট্রাটেজিস এ্যান্ড পলিসিস এ সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতায় চার হাজার ৬৭২ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ, আট হাজার ৪৩৩ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন এবং ২৩ হাজার ৭৭৭ মিটার সেতু/কালভার্ট নতুন নির্মাণ, ১০ হাজার ৩৬২ মিটার সেতু/কালভার্ট পুনর্নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পটির আওতায় দুই কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে, যা ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বছরভিত্তিক অর্থবরাদ্দ ধরা হয়েছেÑ চলতি অর্থবছরে ১৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪১ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং প্রকল্পের শেষ অর্থবছর ২০১৭-১৮ সালে ৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: