মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৮ আগস্ট ২০১৭, ৩ ভাদ্র ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ফেলানীর পরিবারকে ৫ লাখ রুপী ক্ষতিপূরণ দিন

প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • কেন্দ্রীয় সরকারকে ভারতীয় মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশ
  • টাকা নয়, খুনী অমিয় ঘোষের ফাঁসি চাই ॥ ফেলানীর বাবা-মা

রাজু মোস্তাফিজ, কুড়িগ্রাম থেকে ॥ ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাবিলদার অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী হত্যার ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ লাখ রুপী দেয়ার সুপারিশ ভারতের মানবাধিকার কমিশনের। ৬ সপ্তাহের মধ্যে এ ক্ষতিপূরণের অর্থ দেয়ার সুপারিশ করা হয় সোমবার। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে আলোচিত ফেলানীর পরিবারকে এ অর্থ প্রদানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে সুপারিশ করা হয়। ফেলানী হত্যায় মানবাধিকার ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি সাইরিয়াক জোসেপের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এ উদ্যোগ নেয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তা জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিঙ্কন জানান, ভারতীয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে তাদের ফুল বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে ফেলানী হত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫ লাখ রুপী বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে সুপারিশ করে। এর মধ্যদিয়ে একটি সত্য প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো যে, ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক ফেলানী হত্যার শিকার হয়েছে। যার কারণে ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করে সেদেশের মানবাধিকার কমিশন। একইসঙ্গে এর ভেতর দিয়ে আসামির ওপর ফৌজদারী দায় যে যুক্তিগ্রাহ্য তা নতুন করে প্রমাণিত হলো। আসামি অমিয় ঘোষের কৃতকর্ম যে ফৌজদারী অপরাধে বিচার্য তা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করল। এখন আমরা আশা করি আসামি অমিয় ঘোষের প্রকৃত বিচারে সাজা এবং যে ৫ লাখ রুপী ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে তা নামমাত্র। ঘোষিত আর্থিক ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যুক্তিযুক্ত বলে তিনি মনে করেন।

এ ব্যাপারে মোবাইলে ফেলানীর মা জাহানারা বেগমের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বলেন, টাকা পয়সা চাই না। আগে বিচার চাই। ফাঁসি চাই। আমার মেয়েকে যেভাবে অমিয় ঘোষ গুলি করে হত্যা করেছে। তেমন কঠোর সাজা চাই অমিয় ঘোষের। অমিয় ঘোষকে গুলি করে এ রায় কার্যকর করার দাবি আমার। তাহলে অমিয় ঘোষের পরিবার বুঝবে মায়ের বুক খালি করার কষ্ট কেমন? প্রায় ৫ বছর থেকে অপেক্ষা করছি ফেলানী হত্যার বিচারের জন্য। কবে ন্যায় বিচার পাব জানি না।

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, টাকা দিয়ে মেয়েকে ফিরে পাব না। কাজেই আগে মেয়ে হত্যার বিচার চাই। আত্মস্বীকৃত খুনী অমিয় ঘোষের মৃত্যুদ- চাই। হত্যার বিচার টাকা দিয়ে হয় না। আমিও ক্ষতিপূরণের দাবি করেছি তবে আগে ফেলানী হত্যার বিচার হতে হবে। বাবা হিসেবে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই। এর চেয়ে বড় চাওয়া নেই।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন জানান, গত জুলাইয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (জামকন) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি সাইরিয়াক জোসেপের কাছে পাঠানো এক পত্রে মানবাধিকার রক্ষায় দুই দেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের গঠনমূলক কর্মকা-ের উল্লেখ করে কিশোরী ফেলানী (১৩) হত্যাকে আন্তর্জাতিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করে এ মামলায় ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। ওই পত্রে ভারতীয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যকরী ও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ভারতীয় মানবাধিকার কমিশন এ উদ্যোগ নেয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফেলানী খাতুনকে বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার নং ৯৪৭-এর কাছে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয়। এ ঘটনার পর বিএসএফ তার আদালতে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগ গঠন করে। ২ বছর ৮ মাস পর ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে নির্দোষ রায় দেন বিএসএফের আদালত। সেই রায় যথার্থ মনে করেনি বিএসএফ মহাপরিচালক। তিনি রায় পুনর্বিবেচনার আদেশ দিয়েছিলেন। এরপর ২ জুলাই ২০১৫ বিএসএফ কোর্ট অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে পুনরায় রায় দেন। এ রায়ে হতভম্ভ হয়ে পড়েন ফেলানীর বাবা। বিএসএফের অমিয় ঘোষ ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করার কথা আদালতে স্বীকার করে। তারপরও নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় সবাই বিস্মিত ও মর্মাহত হয়। এ ব্যাপারে ভারতীয় মানবাধিকার সংস্থা মাসুমকে উচ্চ আদালতে মামলাসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার অনুরোধ করেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু। ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) ভারতের সুপ্রীমকোর্টে গত ১৪ জুলাই একটি রিট মামলা দায়ের করে। ২৬ আগস্ট দিল্লীর সুপ্রীমকোর্ট এ মামলা শুনানির জন্য আগামী ৬ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করে। এরই মধ্যে ভারতীয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে তাদের ফুল বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে ফেলানী হত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫ লাখ রুপী ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে সুপারিশ করে।

প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০১/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: