১৭ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এবার গণপরিবহনে ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা


রাজন ভট্টাচার্য ॥ বিদ্যুত ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিসহ টোল বাড়ানোর অজুহাতে আন্তঃজেলার ৩৮০টি রুটসহ সারাদেশে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরকারী কর্মকর্তা ও পরিবহন মালিক শ্রমিকরা জড়িত। প্রায় এক বছরের মতো গণপরিবহনের ভাড়া বাড়াতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে। যদিও আন্তঃজেলা রুট থেকে শুরু করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৬ হাজার অটোরিক্সাসহ বাসে সরকার নির্ধারিত পরিবহন ভাড়া মানা হচ্ছে না। এদিকে বিদ্যুত গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। ইতোমধ্যে রাজধানীর বাড়ির মালিকরা বাসাভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ-কেউ আগস্ট মাস থেকেই বাড়তি গ্যাস-বিদ্যুতের বিল দাবি করছেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পণ্যমূল্যেও গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে। সব মিলিয়ে জীবনযাত্রায় যুক্ত হচ্ছে বাড়তি চাপ ও ব্যয়ের বোঝা।

চট্টগ্রাম মহানগরীসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির জন্য সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়া হয়েছে। এদিকে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা রুটসহ চট্টগ্রাম মহানগরীতে সিএনজিচালিত যানবাহন চলবে’Ñ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জারি করা এই প্রজ্ঞাপন এখনও বাতিল হয়নি। সঙ্গতকারণেই মালিক সমিতি পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি যৌক্তিক বলে দাবি করছেন। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম মহানগরী ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামের আন্তঃজেলা রুটের বেশিরভাগ বাস তেলে চলে। তাই গ্যাস বৃদ্ধির অজুহাতে এ সুযোগ নেবে সব পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলো। এদিকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠির শর্ত পূরণ না করে পাল্টা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পরিবহন মালিকরা।

পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির দাবি অযৌক্তিক উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ক্ষেত্রে সরকারী প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়ে বলছেন, যাত্রীসেবার মান না বাড়িয়ে ভাড়া বাড়ানোর দাবি সঠিক নয়। তাছাড়া বর্তমানে সরকার নির্ধারিত ভাড়া যৌক্তিক; কিন্তু তা অমান্য করে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সমাবেশে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি না করার দাবি জানিয়েছেন রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, পরিবহন সংশ্লিষ্টসহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিরা।

সরকারীভাবে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা না আসা পর্যন্ত গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি না করতে রবিবার পরিবহন মালিক সমিতি বরাবর ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পর সিএনজিচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি প্রস্তাব অচিরেই বিবেচনা করা হবে। এই প্রেক্ষাপটে সিএনজিচালিত পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি না করতে সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সকল রুট মালিক সমিতি, ঢাকা মেট্রো থেকে পরিচালিত সকল পরিবহন কোম্পানি, মহাখালী ও সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা পরিবহন মালিক সমিতি বরাবর।

পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ জনকণ্ঠকে বলেন, ২০১২ ও ২০১৩ সালে তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর ঢাকা-চট্টগ্রামের আন্তঃজেলা রুটসহ চট্টগ্রাম মহানগরীতে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এর কারণ হিসেবে সকল পরিবহন গ্যাসে চলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পরিবহন মালিকদের এই শীর্ষ নেতা জানান, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চট্টগ্রাম নগরীসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলা সকল পরিবহন সিএনজিতে চলবেÑ এ কথা উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, যা এখনও বহাল আছে। তাই দু’দফা তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে ভাড়া বাড়ানো হলেও চট্টগ্রাম রুটের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য ছিল না। এই প্রেক্ষাপটে সিএনজিচালিত পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে।

বিদ্যুত গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে বাসভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি কোন না কোনভাবে যুক্তিযুক্তÑ এমন দাবি করে এনায়েত উল্যাহ বলেন, আমরা চাই না ঢাকা-চট্টগ্রাম রুট ছাড়া অন্য কোথাও গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পাক। তাই সরকারীভাবে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কেউ যেন ভাড়া না বাড়ায় এজন্য মালিক সমিতি সরকারী দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম রুটে চলা সরকার নির্ধারিত পরিবহনের ভাড়া মিনিবাসের ক্ষেত্রে এক টাকা ৫০ পয়সা ও বাসের ক্ষেত্রে এক টাকা ৬০ পয়সা।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, মালিকদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হলেও বাড়ানোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তাছাড়া ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, বিআরটিসি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করতে হয়। সেই কমিটি ১৭টি বিষয় বিবেচনা করে ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব করে থাকে। বিআরটিএ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, জানানো হয় তিনি অফিসে ফোন রেখে চলে গেছেন। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিআরটিএ সচিব শওকত আলী জনকণ্ঠকে বলেন, এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি জড়িত নই। তাছাড়া বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কাওরানবাজারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এ আর খান গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেন। গৃহস্থালীতে মিটারভিত্তিক গ্যাসের বিল প্রতি ঘনমিটার ৫ টাকা ১৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা করা হয়েছে। গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস বা সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে, যা আজ এক সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

এদিকে সড়ক ও জনপথ অধিফতরের (সওজ) আওতাধীন টোলের হার বাড়ায় বাসভাড়া বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। নির্দেশের পর দূরপাল্লার ৩৮০টি রুটে বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজধানীর গাবতলী থেকে ৬১টি, মহাখালী থেকে ৬০টি এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ৮৭টি গন্তব্যে বাস চলাচল করে। এ ছাড়া আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস মিলে মোট রুটের সংখ্যা ৩৮০। সব রুটে টোলজনিতসহ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত তুলে ভাড়া বৃদ্ধি পেতে পারে।

টোল নীতিমালা-২০১৪ কার্যকরের পর ভাড়া পুনর্নির্ধারিত করতে গত ২৬ জুলাই বিআরটিএ’র কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এর আগে টোল বাড়ানোর পর পরিবহন নেতাদের সঙ্গে গত ১০ জুন বৈঠক করে মন্ত্রণালয়। নতুন টোল নীতি অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল ২৫ ভাগ বেড়েছে। ভাড়া বাড়ানোর সময়ও এ হার যুক্ত করা হবে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে পরিবহন মালিক সমিতির কাছে সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রীর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জুলাই দূরপাল্লার বাসপ্রতি দু’জন চালক রাখতে মালিকদের চিঠি দেয় যানবাহন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। গত ১ আগস্ট জনস্বার্থে দেয়া এ চিঠির জবাব দিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। তাদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ভাড়া বাড়ালেই সরকারের এ সিদ্ধান্ত মানা হবে।

বাস-ট্রাক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের প্যাডে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, অতিরিক্ত একজন চালকের বেতন, তার জন্য গাড়িতে অতিরিক্ত আসন বা শোয়ার ব্যবস্থা এবং গন্তব্যে পৌঁছার পর ফিরতি ট্রিপের আগে হোটেলে অবস্থান বাবদ থাকার খরচ বিবেচনায় এনে ভাড়ার হার পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এছাড়া রুট পারমিট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিআরটিএর নতুন করে আরোপিত শর্তও স্থগিত করতে বলা হয় চিঠিতে। সংগঠনের চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক তালুকদার সোহেল স্বাক্ষরিত চিঠির অনুলিপি মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, গত ১৭ আগস্ট পরিবহন মালিকদের চিঠির জবাব দিয়েছে বিআরটিএ। এতে বলা হয়েছে, মোটরযান আইনের (১৯৮৩)৭৬-এ ধারা-১৫ অনুযায়ী একজন চালক একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে পারবেন না। এছাড়া দৈনিক সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো যাবে না। শুধু তাই নয়, সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানোও নিষিদ্ধ। এ আইন না মানা দ-নীয়। দূরপাল্লার রুটে একেকজন চালককে কত ঘণ্টা টানা গাড়ি চালাতে হয় এবং সপ্তাহে কত ঘণ্টা তারা গাড়ি চালান, বিশ্রামের সুযোগ কতটুকু পাচ্ছেনÑ এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে চিঠিতে। বিআরটিএর চিঠিতে আরও বলা হয়, মোটরযান অধ্যাদেশ মানতে ভাড়া বাড়ানোর শর্ত জুড়ে দেয়ার কোন সুযোগ নেই।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, সাধারণত বাসভাড়া নির্ধারণে ২১টি উপখাতের ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়। এতে মূলধনী ও পরিচালন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। ফলে যাত্রী পরিবহনে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় দাঁড়ায় ১ টাকা ৩২ পয়সা। এর সঙ্গে মালিকদের ১০ শতাংশ মুনাফা ধরে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ১ টাকা ৪৫ পয়সা। বড় বাসে প্রতি কিলোমিটারের নির্ধারিত ভাড়া ১ টাকা ৬০ পয়সা। বিগত সরকারের সময়ে রাজধানীতে দুই দফা বাসভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু নতুন ভাড়ার হার কার্যকরের পর বাস-মিনিবাসে ভাড়ার যে তালিকা লাগানো হয়, তাতেও ছিল শুভঙ্করের ফাঁকি। এখন অধিকাংশ বাস-মিনিবাসে ভাড়ার তালিকাও নেই। দূরপাল্লার পথ অথবা ঢাকার রাস্তার প্রায় প্রতিটি পথে সরকার নির্ধারিত হার না মেনে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করতে দেখা যায়।

জানা গেছে, বিদ্যমান ভাড়ার হার নির্ধারণে গড় যাত্রীবোঝাই দেখানো হয়েছে ৭০ শতাংশ। সে হিসাবে ৩১ আসনের একটি মিনিবাসে ২২ এবং ৫১ আসনের বাসে ৩৬ জন যাত্রী হলেই সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের শর্ত পূরণ হয়। কিন্তু মিনিবাস ৩১ আসনের বললেও আসন করা হয় ৪০টি আর বাসে আসন ৬০টি। দাঁড়িয়েও যাত্রী নেয়া হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার হার অর্ধেকে নেমে আসে। কারণ ৩ শতাংশ যাত্রীবোঝাই বেড়ে গেলে ভাড়া কমে যায় প্রায় পাঁচ পয়সা।

পরিবহন খাত সংস্কার করলে ভাড়া বাড়ানোর প্রয়োজন নেই ॥ যে কোন অযৌক্তিক অজুহাতে মেয়াদ উত্তীর্ণ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা ও লক্কড়-ঝক্কড় ভাঙ্গাচোরা বাসের ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রীসেবার পরিবর্তে বর্তমানে প্রচলিত গণপরিবহনের সেবার মান কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এত নিম্নমানের যাত্রীসেবার বিনিময়ে বর্তমানে যে ভাড়া নির্ধারণ করা আছে তা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য মনে করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, ভুয়া অযৌক্তিক তথ্য দিয়ে বারবার বাসভাড়া বাড়ানো হয়। গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যাত্রী প্রতিনিধি রাখা হয় না। তাদের মতামত দেয়ারও কোন সুযোগ নেই। সরকারের সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে বার বার গলা কাটা হারে ভাড়া নির্ধারণ করে নিরীহ যাত্রী সাধারণের কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছে। বক্তারা বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কয়েক দফা কমিয়ে সর্বনিম্ন রেটে পৌঁছার পর দেশের বাজারে তেলের মূল্য কমিয়ে গণপরিবহনের ভাড়া হ্রাসকৃত হারে নির্ধারণ করা উচিত ছিল। তা না করে উল্টো বার বার অযৌক্তিক হারে ভাড়া বাড়িয়ে নিম্নআয়ের যাত্রীদের বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করার পাশাপাশি অনতিবিলম্বে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বক্তারা বলেন, গণপরিবহন খাতকে শিল্প ঘোষণা বাস্তবায়নের পাশাপাশি এই খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধ করে সংস্কার করা গেলে খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব।

অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেশের নিম্নআয়ের যাত্রী সাধারণের স্বার্থ বিবেচনায় ভাড়া না বাড়িয়েও গণপরিবহন খাতকে লাভজনক খাতে পরিণত করা যায় বলে বক্তারা মনে করেন। সংগঠনের চেয়ারম্যান শরীফ রফিকউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেনÑ বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, নিরাপদ সড়ক চাই’র যুগ্মসম্পাদক লায়ন গণি মিয়া বাবুল প্রমুখ।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: