১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি সার্ভিস সিমিত আকারে চলাচল


স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি সার্ভিস কার্যত ১০ দিন অচল ছিল। তবে ১১তম দিনে সোমবার সিমিত আকারে ৪টি ফেরি চলছে। ফেরি ‘কুসুম কলি’ ও ‘ক্যামেলিয়া’ সাথে যুক্ত হয়েছে ফেরি ‘ফুরদপুর’ ও ‘কাকলী’। এছাড়াও ফেরি ‘কবরী’ চলতে গিয়ে বিকল হয়েগেছে।

বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারী জানান, ফেরি ‘কবরী’ সকাল ১০টা ২০ মিনিটে শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে যায়। কিন্তু চ্যানেলের লৌহজং ট্রানিংয়ে প্রচন্ড স্রোতের মুখে পড়ে। স্রোতের সাথে লড়াই করতে গিয়ে একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে অনেক কষ্টে সোয়া ১২টায় কাঠাঁলবাড়ি ঘাটে পৌছায়। পরে একটি আর ফিরে আসতে পারছে না। কর্তৃপক্ষ এই ঘাটেই এটিকে অবস্থান কারার নির্দেশ দিয়েছে। ইঞ্জিন মেরামতের পর মঙ্গলবার এটি ফিরে আসবে। তবে বাকী চারটি ফেরি শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি রুটে এখন চালাচল করছে। এদিকে চ্যানেলে আগের চেয়ে পানি একটু বাড়লেও তা এখনও রো রো ফেরি ও ফ্ল্যাট ফেরি চলার উপযোগী নয়। তিনি জানান, জোয়ার ভাটার দিকে তাকিয়ে এভাবে ফেরি চালানো যায় না। তাছাড়া তীব্র ¯্রােতেও এই ফেরি চলার উপযোগী নয়। প্রয়োজন ইঞ্জিনের বেশী ক্ষমতা সম্পন্ন যুগোপযোগী ফেরি।

এদিকে পদ্মা সেতুর বড় আকারের ড্রেজার দু’টি এখন বালু ফেলার পাইপ স্থাপনসহ নানা প্রস্তুতি নিচ্ছে। রবিবার বিকালে লৌহজং টার্নিংয়ে পৌছার এখনও চলছে প্রস্তুতি পর্ব। তাই এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের পলি অপসারণ শুরু হয়নি।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) সুলতান আহমেদ খান বিকালে জানান, প্রস্তুতি শেষ হলেই ড্রেজিং শুরু হবে। সোমবার শুরু কথা ছিল। তবে শুরু হওয়ার আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন দু’টি ড্রেজার এখানে কাজ করার কথা তবে একটি ড্রেজার এসেছে। এটি চালুর পর অপরটি প্রায় ৯ কিলোমিটার ঘুরে মাঝি কান্দি থেকে এখানে আসবে।

তিনি জানান, চীনা সিনো হাইড্রো কর্পোরেশনের ড্রেজারের দায়িত্বে থাকা পদ্মা সেতুর নদী শাসনের উপ প্রকল্প পরিচালক জাং লিং তাকে জানিয়েছেন দ্রুতই ড্রেজিং শুরুর চেষ্টা তারা করছেন। লৌহজং টানিং পয়েন্টের ৫ থেকে ৬ লাখ ঘন মিটার পলি মাটি অপসারনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিনো হাইড্রোর প্রতিটি ড্রেজার প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার মাটি খনন করতে সক্ষম। তাই প্রতিদিন ৫০ হাজার ঘন মিটার পলি মাটি অপসারন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ৫-৬ লাখ মাটি খনন করতে ১০/১২ দিন সময় লাগবে। তবে চ্যানেলের মাঝে বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব ও ভাড়া করা ৪টি ড্রেজারও কাজ করছে। এতে নাব্য সঙ্কট নিসরসন সম্ভব হবে। এদিকে ফেরি অচল থাকায় অনেক যান ফিরে গেছে। তবে শিমুলিয়া প্রান্তে সোমবার পারাপারে অপেক্ষায় তেমন কোন যান দেখা যায়নি। আটকে থাকা সব যানই পার করা হয়েছে। এখন ১০/২০ টি করে আসছে সেগুলোই পার করা হচ্ছেল। অচলতার খবরে এই ঘাটে এথন তেমন যান আসছে না। ওপারের কাওড়াকান্দিতে প্রায় একই চিত্র।

এদিকে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান জানান, এখন তীব্র ¯্রােতের কারণেই ফেরি সার্ভিস ব্যাহত হচ্ছে। নাব্যতা সঙ্কটে ফেরি সার্ভিস এখন তেমন বিঘিœত হচ্ছে না। তবে সব চেষ্টা চলছে। পানি নেমে যাচ্ছে। ঈদের চাপ আসার আগেই সব ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে দেশের বৃহত ফেরি সার্ভিস শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি অচল থাকায় দক্ষিণাঞ্চলে লাখো মানুষের বিড়ম্বনা ছাড়াও এই অঞ্চলের উৎপাদিত পন্য বাজার জাত ও নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য আনা নেয়া বিঘিœত হওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এদিকে পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। মাওয়া এবং ভাগ্যকূল উভয় পয়েন্টেই পানি কমেছে।