১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান ড. কামাল


স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুস্থ রাজনীতি ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১১ দফা সংবলিত ‘জাতীয় ঐক্যের সনদ’ ঘোষণা করেছেন গণফোরাম সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, দেশমাতা আজ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। যোগ্য সন্তানের কাজ হলো মায়ের এসব অসুখ গোপন না করে ‘সুচিকিৎসার’ ব্যবস্থা করা। আর এই সুচিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।

রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে গণফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যের সনদ ঘোষণার সময় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট আলতাব হোসেন, সুপ্রীমকোর্ট বার এ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি জগলুল হায়দার, ফরোয়ার্ড পার্টির সভাপতি আ ব ম মোস্তফা আমিন, গণফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশতাক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্য সনদের লিখিত ১১ দফা পাঠ করা হয়। এর প্রথম দফায় বলা হয়েছে, সমগ্র জাতি আজ একটি অর্থপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ। যে পরিবর্তন জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, কেবলমাত্র কালো টাকা, সন্ত্রাস ও সশস্ত্র ক্যাডারমুক্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ সৎ, যোগ্য ও কার্যকর জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে। তৃতীয় দফায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকেই গণতন্ত্রেও প্রথম ধাপ উল্লেখ করে বলা হয়, কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। এছাড়া অন্যান্য দফায় দলীয় স্বার্থের উর্ধে উঠে জাতীয় ও জনস্বার্থে কাজ করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানানো, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাস ও দলীয় রাজনীতির বাইরে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ড. কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই এই ১১ দফা জাতীয় ঐক্যের এই সনদ। এটি বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। এজন্য জনগণের কাছে যেতে হবে। তাদের মতামত জানতে হবে। একাধিকবার ঐক্যের ঘোষণা দিয়ে নিজে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি একক কোন শক্তি নই। আমি সমমনাদের নিয়ে কাজ করি। জনগণই বিচার করবে তারা এই সনদ গ্রহণ করবে কি না। নির্বাচন পদ্ধতি বিষয়ে তার সুনির্দিষ্ট কোন মতামত আছে কি না তার জবাবে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক বলেন, সনদ নিয়ে জনগণের কাছে যাব। তারা যেভাবে বলবে, সেভাবেই নির্বাচন হবে। গণসংযোগ, গণজাগরণ ও জাতীয় ঐক্য গড়ব। জনগণ যে পদ্ধতিতে বলবে সেই পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। তিনি সংবাদপত্রের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, দেশে এখন মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। সংবাদপত্রের সম্পাদকরা এজন্য আজ আইনের একটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিও দিয়েছেন। তবে তারা একটি ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এটা ইতিবাচক। বর্তমান সরকারের সময় নিজে মত প্রকাশের জন্য বাধা পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, মাস দুয়েক আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অনুমতি পাইনি। এ জন্য তিনবার হাইকোর্টে রিট পিটিশন করে অনুমতি নিতে হয়েছে। এ সময় তিনি গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত সরকারী সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান।