২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রেলের পূর্বাঞ্চলে টেন্ডার কারসাজি ॥ জড়িত কর্মকর্তারাই


মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ রেলের পূর্বাঞ্চলে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দফতরে টেন্ডার নিয়ে কারসাজি চালাচ্ছে কর্মরতরাই। দুটি টেন্ডারের সিডিউল বিক্রয় ও টেন্ডার বাক্স খোলার দিন পিছিয়ে দিয়ে এ ধরনের চক্রান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েক সরবরাহকারী। তবে একশ্রেণীর অসাধু সরবরাহকারীর পক্ষে এমন কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যথায় একই নোটিসের ১১ টেন্ডার কার্যক্রম একমাস আগে সম্পন্ন হলেও মাত্র দুটি টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি অসাধুপনার কারণে। আজ সোমবার এ দুটি ক্রয় আদেশের টেন্ডার বাক্স খোলার দিন ধার্য রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, চলতি বছরের জুনের শেষের দিকে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই দফতরের ৫নং টেন্ডার নোটিসের ১৩টি ক্রয় আদেশের মধ্যে দুটি ক্রয় আদেশ অদৃশ্য কারণে পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। তবে কিছু অসাধু সরবরাহকারীর অপতৎপরতার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ দুটি ক্রয় আদেশ পিছিয়ে দিয়ে পাহাড়তলীর রেল কারখানার উৎপাদন বিঘিœত করা হয়েছে বলে কারখানা সূত্রে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, এসব সিট লিমিটেড টেন্ডার মেথডের (এলটিএম) মাধ্যমে পাহাড়তলীর ওয়ার্কশপের ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে অথচ ওপেন টেন্ডার মেথড (ওটিএম) প্রক্রিয়ায় অনেক কম মূল্যে এসব শীট ক্রয় করা যেত। আরও অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকার। কারণ দুটি ক্রয় আদেশে থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের স্টেনলেস স্টিল শীট ও এমএস গ্যালভ্যানাইজড শীটের স্পেশাল রিক্যুইজিশন দিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে ক্রয় করার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, এই ক্রয়াদেশ অনুযায়ী সরবরাহকারী পণ্য সরবরাহের জন্য কমপক্ষে দেড়মাস সময় নির্ধারিত রয়েছে। তবে টেন্ডার প্রক্রিয়া নোটিস অনুযায়ী সম্পন্ন হলে এলটিএম করার সুযোগ ছিল না । ফলে টেন্ডার চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্য স্বল্প সময়ের মধ্যে সরবরাহের কোন সুযোগ নেই। এদিকে, একশ্রেণীর অসাধু সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে এ দফতরের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের এ নোটিসের ৪ ও ৫নং ক্রয়াদেশে থাকা যথাক্রমে ৩৩৮টি গ্যালভ্যানাইজড শীট ও ১৬৬টি এসএস শীটের টেন্ডার সিডিউল বিক্রি ও বাক্স ওপেনিংয়ের নির্ধারিত দিন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে একমাসেরও বেশি সময়। অর্থাৎ গত ২৯ জুলাইয়ের পরিবর্তে তা ৩১ আগস্টে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ওই দফতরের ১৩টি দেশীয় টেন্ডারের মধ্যে মাত্র দুটি পণ্যের টেন্ডারকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পিছিয়ে দেয়ায়। এক্ষেত্রে দুয়েক সরবরাহকারীর মাধ্যমে দাফতরিক হিসাব-নিকাশ ঠিক রাখতে সুনির্দিষ্ট প্যাডে আবেদন করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু কী কারণে এ দুটি টেন্ডার পিছিয়ে দেয়া হয়েছে তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। এ ব্যাপারে ওই দফতরের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, মেরামত কারখানার জরুরী চাহিদার ভিত্তিতে ওপেন টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু দফতর আদেশ হওয়ার প্রায় দুইমাস পরও এ দুটি টেন্ডার অদৃশ্য কারণে সম্পন্ন হয়নি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সরবরাহকারীদের সঙ্গে আঁতাত করে টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকার নীলনক্সা করেছেন। কারণ, ১৩টি আইটেমের মধ্যে মাত্র দুটি আইটেম ক্রয়াদেশ পিছিয়ে দেয়ার পেছনে অসাধু সরবরাহকারী ও দফতরের অসাধুদের কারসাজি রয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেলের উন্নয়ন প্রক্রিয়া।