১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কক্সবাজারে এক লাখ আসনের স্টেডিয়াম


মিথুন আশরাফ ॥ কত স্বপ্ন! কত সাধ! দেশের মাটিতে ১ লাখ আসন বিশিষ্ট একটি স্টেডিয়াম হবে। সেই সাধ, স্বপ্ন বোধ হয় এবার সফল হতে চলেছে। কক্সবাজারে ১ লাখ আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়াম হবে। এমনটিই জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল। বলেছেন, ‘কক্সবাজারে একটি ১ লাখ আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়াম করার নির্দেশ দিয়েছেন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

বিশ্ব ক্রিকেটে ১ লাখ আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়াম আছে একটিই। সেটি হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড। এছাড়া বিশ্বের আর কোথাও এত আসন নিয়ে ক্রিকেট স্টেডিয়াম করা হয়নি। বিশ্ব ফুটবলেও হাতে গোনা কয়েকটি স্টেডিয়ামই আছে ১ লাখ আসন বিশিষ্ট। এর মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় ১টি, আমেরিকায় কয়েকটি স্টেডিয়াম আছে। এছাড়া আর কোথাও নেই। এবার বাংলাদেশে হবে। যেখানে ক্রিকেট ও ফুটবল দুটি খেলা হবে।

বাংলাদেশে ২৬০০০ হাজার আসনবিশিষ্ট স্টেডিয়াম আছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামটিকেও ১ লাখ আসনবিশিষ্ট করার স্বপ্ন রয়েছে। তবে ক্রিকেটে আপাতত মিরপুরই সবচেয়ে বেশি আসনবিশিষ্ট স্টেডিয়াম। ফুটবলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যা অবশ্য মিরপুরের চেয়ে বেশি, ৩৬ হাজার। দেশের মাটিতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামই সবচেয়ে বেশি আসনবিশিষ্ট স্টেডিয়াম। এবার দেশের সব স্টেডিয়ামকে ছাপিয়ে ১ লাখ আসনবিশিষ্ট স্টেডিয়াম হবে বাংলাদেশেও।

কক্সবাজারে এরইমধ্যে ক্রিকেটের একটি স্টেডিয়াম করা হয়েছে। ২০১৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম করা হয়েছে। জাহিদ আহসান রাসেল জানান, ‘আমাদের তো কক্সবাজারে একটা স্টেডিয়াম আছে। মহিলা বিশ্বকাপ হলো যেখানে। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। সেখানে সেটা ছাড়াও আরেকটা এক লাখ আসনবিশিষ্ট একটা স্টেডিয়াম করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলেন। প্রধানমন্ত্রী আসলে নতুন করে আরেকটি স্টেডিয়াম করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেহেতু ২০১৬ বছরকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটনের মূল কেন্দ্র হচ্ছে কক্সবাজার। তাই কক্সবাজারে যেন আরও পর্যটক বাড়ানো যায়, মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য স্টেডিয়াম করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

এরই মধ্যে জায়গা দেখাও হয়ে গেছে বলে জানান রাসেল, ‘আমরা তিন জায়গা দেখেছি। স্টেডিয়াম আর বিকেএসপির একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র করা হবে। চট্টগ্রামের কেন্দ্রটা চার বিঘার মতো জমি। কক্সবাজারে আরও বড় একটা বিকেএসপির কেন্দ্র করা। এতে ওখানকার মানুষ বেশি ভাল করতে পারবে আরকি। জায়গা দেখতে গিয়েছিলাম। রামুতে ক্যান্টনমেন্টের পাশে একটা জায়গা দেখলাম। রামুতে ক্যান্টনমেন্টের উল্টা পাশে যেটাকে চা বাগান বলে, ওখানে একটা জায়গা দেখলাম। ওটাও রামুতে, বিকেএসপির জন্য দেখা হলো। চা বাগানটা স্টেডিয়ামের জন্য খুব পছন্দ হয়েছে। বিকেএপির জন্য ক্যান্টনমেন্টের পাশে একটা জায়গা আছে, এখানে পাহাড় আছে। এটাকে যাচাই-বাছাই করার জন্য বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অফিসারের নেতৃত্বে একটা টিম পাঠানোর কথা।’

শুধু যে ক্রিকেটের জন্য নয়, ফুটবলও হবে একই মাঠে; তা জানিয়ে দিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, ‘এখানে ক্রিকেট ও ফুটবল একসঙ্গে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শুধু ক্রিকেটের জন্য নয়। যেন ফুটবলও খেলা যায়। একই মাঠে দুটো খেলা যায়, সেটাই করবে।’

জায়গা অনেক বড়। যত ইচ্ছা নেয়া যাবে। তাই ফুটবল, ক্রিকেট খেলা একই স্টেডিয়ামে হওয়ার ভাবনাই করছেন জাহিদ আহসান রাসেল, ‘অনেক বড় বড় জায়গা। যত ইচ্ছা জায়গা নেয়া যাবে। পাহাড়ী যেটা দেখলাম, পুরোটাই ঘাস। মানে বন বিভাগের। যতটুকু দরকার নেয়া যাবে। চা বাগানের যেটা দেখলাম সেখানে রাবার বাগানও আছে। অনেক ঘাস আছে। কিছু ব্যক্তিগত জায়গা থাকতে পারে।’ জায়গা যে দেখে এসেছেন জাহিদ আহসান রাসেলরা এ সংক্রান্ত রিপোর্ট দ্রুতই প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনও করা হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: