২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ড্রেজিং শুরু আজ মুন্সীগঞ্জে ভাঙ্গন পরিদর্শনে নৌ ও পানি সম্পদমন্ত্রী


স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, খড়িয়া গ্রামের ভাঙ্গনরোধে সোমবার থেকেই ড্রেজিং শুরু হবে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চরের বাড়তি অংশ কেটে ভাঙ্গনপ্রবণ অঞ্চল খড়িয়ার সামনের নদীতে ফেলা হবে। এতে ভাঙ্গন প্রতিরোধ হবে এবং পদ্মার মূল ধারা প্রবাহ স্বাভাবিক হবে। এই সামনের চরের মুখটির সাথে স্রোত বাধাগ্রস্ত হয়েই গ্রামটিতে আঘাত করছে।

পানি সম্পদমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, খড়িয়া গ্রামকে রক্ষায় সরকার সবরকমরের চেষ্টা চালাবে। পদ্মা সেতুর সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইতোমধ্যেই নদী ভাঙ্গনরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে জরুরী ভিত্তিতে খড়িয়া গ্রামটি রক্ষায় ড্রেজিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যে চরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্রোত খড়িয়ায় আঘাত করছে সেটি কেটে দেয়া হবে। এতে গ্রামটির ভাঙ্গন বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রবিবার পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড ঘেঁষা মুন্সীগঞ্জের খড়িয়া গ্রামে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গন রেসকিউবোর্ডে করে ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের নৌ মন্ত্রী এবং পানি সম্পদ মন্ত্রী এ একথা বলেন।

গত কয়েক দিনের ভাঙ্গনে গ্রামটির অন্তত ১৫৫ পরিবার গৃহহারা হয়েছে।

ঘরবাড়ি ছাড়াও বিলীন হয়ে গেছে শিমুলিয়া বাজারের একাংশ, সরকারী পিচঢালা রাস্তা, পুকুর, গরুর খামার, অসংখ্য গাছপালা, বৈদ্যুতিক পুলসহ নানা স্থাপনা। হুমকির মুখে রয়েছে বহু স্থাপনা। জরুরী ভিত্তিতে লঙ্গরখানা খোলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে হাবুডু খাচ্ছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেয়ার জায়গাও পাচ্ছে না। অসহায় ৮৮ পরিবার স্থানীয় উত্তর খড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় নিয়েছে। এখানে নোঙ্গরখানা খোলা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত খাবার দেয়া হচ্ছে। এদিকে সরকারীভাবে প্রতি পরিবারকে ৫ হাজার করে টাকা ও ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন।

রবিবার দু’মন্ত্রী ছাড়াও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কুদ্দুস আলী সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ ফজলে আজিম, উপজেলা চেয়ারম্যান ওসমান গনি তালুকদার, সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) মোঃ শামসুজ্জামান, লৌহজংয়ের ভারপ্রাপ্ত ইউএনও আবুল কালাম আজাদ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ তালুকদার প্রমুখ।

মন্ত্রীদ্বয় খড়িয়ায় না আসায় ক্ষোভ ॥ রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে খড়িয়া গ্রামে ভয়াল পদ্মায় আসেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও পানি সম্পদ মন্ত্রী। কিন্তু গ্রামে আসলেন না! একই রেসকিউবোটে দু’মন্ত্রী একঝলক ঘুরে চলে যান। তাদের পেছনে আরও কয়েকটি স্পিডবোট ছিল। অথচ মন্ত্রীদ্বয় আসার খবর পেয়ে সকাল থেকে প্রহর গুনছিল ভাঙ্গনকবলিত শতশত নারী-পুরুষ। তারা একবার রাস্তায় পরে পদ্মা তীরে অপেক্ষা করছিলেন। কারণ প্রথমে গাড়িতে করে আসার কথা থাকলেও পরে জানান, শিমুলিয়া থেকে রেসকিউবোটে আসছেন। সেই অপেক্ষায় ছিলেন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ। কিন্তু সকলকে হতাশ করলেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই দু’মন্ত্রী। সকাল থেকে মন্ত্রীদ্বয়ের অপেক্ষায় থাকা দুর্গত মানুষের সঙ্গে কোনরকম সাক্ষাত না করেই তারা ফিরে যান শিমুলিয়ায় ফেরি ঘাটে। গাড়িতে করে প্রথমে শিমুলিয়া ঘাটে নেমে রেসকিউবোটে করে তারা পাশের খড়িয়া গ্রামে আসেন এবং ড্রেজিং এলাকা ঘুরে দেখেন। শিমুলিয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিএ অফিস প্রাঙ্গণে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে মধ্যাহ্নভোজ শেষে ঢাকায় ফিরে যান। এদিকে দুর্গত এলাকার মানুষ মন্ত্রীদ্বয়ের এই আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ভাঙ্গনকবলিত জয়নব নেছা প্রশ্ন করেন, “মন্ত্রীরা কি আমাগো দুর্গতি দেখতে আইছিল নাকি স্প্রিডবোটে ভ্রমণ করতে আইছিল, হেইডাইতো বুঝলাম না।” হেনা বেগম বলেন, অন্তত মন্ত্রীগো পাইলে দুইডা কষ্টের কথাতো কইতে পারতাম!।