১৪ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নিত্যপণ্যের বাজার সিন্ডিকেটে জিম্মি!


এম শাহজাহান ॥ নিত্যপণ্যের বাজারে ব্যবসায়ীদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বেড়েই চলেছে। কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে বাড়ানো হচ্ছে পণ্যের দাম। সময়, চাহিদা ও সুযোগ বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ কোন পণ্যকে টার্গেট করে লুটে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত মুনাফা। মাঝখানে কিছুটা কমলেও আবার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে পেঁয়াজ ও সবজির দাম। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তাদেরও। দাম বাগে আনতে আমদানি, বাজার মনিটরিং জোরদার ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ গ্রহণ করা হয়েছে নতুন কর্মকৌশল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। ১০০ টাকা ছুঁই ছুঁই করছে পেঁয়াজ। ৬০ টাকার নিচে মিলছে না কোন সবজি। মাছ, মাংস ও ডিমের দামও উর্ধমুখী। নিত্যপণ্যের বাজারে দরদাম নিয়ে যখন ক্রেতাদের ত্রাহি অবস্থা তখন চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও আটার বাজারে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে। তবে আমদানি শুল্ক বাড়ানোয় চিনির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ সোমবার ইপিবি সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরী বৈঠক করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

যুগের পর যুগ কিছু উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী এভাবেই ভোক্তাদের পকেট কেটে মুনাফার পাহাড় গড়ে তুলেছেন। এই অপতৎপরতা বন্ধে তিন বছর আগে করা হয় প্রতিযোগিতা আইন-২০১২। ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এ আইনটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশে দ্রব্যমূল্য নিয়ে সুস্থ প্রতিযোগিতা হবে। এতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের পাশাপাশি পণ্যের ন্যায্যদাম নিশ্চিত করতে পারবে সরকার। কিন্তু নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভোক্তাদের স্বার্থে করা এ আইনটি আলোর মুখ দেখতে পারেনি। আইনটি শীঘ্রই কার্যকর করা হবেÑ এ ধরনের কোন খবরও নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৭ পণ্যকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই ১৭ পণ্যের একটি হলো মসলা জাতীয় পণ্য পেঁয়াজ। সম্প্রতি একদিনে তিনবার বাড়ানো হয়েছে পেঁয়াজের দাম। সর্বোচ্চ ৯০ টাকা বাড়ানোর পর দু’দিনের ব্যবধানে আবার তা ২০ টাকা কমানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটাই বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। বাজার ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি থাকার কারণে নিত্যপণ্যের দরদাম নিয়ে এ ধরনের কারসাজি হচ্ছে। এজন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। দেশে যে প্রতিযোগিতা আইন রয়েছে সেটি এখন বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক চিহ্নিত ১৭ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হচ্ছেÑ পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, ছোলা, শুকনা মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচি, ধনিয়া, জিরা, আদা, হলুদ, তেজপাতা, সয়াবিন তেল, পামতেল, চিনি ও খাদ্য লবণ। এই ১৭ পণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি করা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও নিবন্ধন বাতিল এবং পণ্য বাজেয়াফত করার ঘোষণা রয়েছে। শুধু তাই নয়, সাবধানতা অবলম্বনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিপণনের সকল পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট আইন, আদেশ এবং বিধি অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা এসবের কিছুই মানছে না। সময়, সুযোগ ও চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে হরহামেশা বাড়ানো হচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইর সাবেক প্রথম সহসভাপতি আবুল কাশেম আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিযোগিতা আইন সরকারের একটি ভাল উদ্যোগ। এখন আইনটি বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ভোগ্যপণ্যের দরদাম পর্যবেক্ষণে এফবিসিসিআইতে একটি দ্রব্যমূল্য মনিটরিং টিম রয়েছে। বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে এ টিমটি বাজারে গিয়েও ব্যবসায়ীদের সঠিক দরদাম নির্ধারণের পরামর্শ দিয়ে থাকে। কেউ কারসাজির আশ্রয় নিলে সাবধানও করা হয়। তবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারী উদ্যোগের বিকল্প কিছু নেই। শুধু তাই নয়, ভোক্তা স্বার্থে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। আশা করছি, দ্রুত প্রতিযোগিতা আইন বাস্তবায়ন শুরু হবে।

জানা গেছে, তিন বছর আগে প্রতিযোগিতা আইন-২০১২ জাতীয় সংসদে পাস হলেও এখন পর্যন্ত কমিশন গঠন করতে পারেনি সরকার। এছাড়া আইনের বিধিমালাও প্রণয়ন করা হয়নি। ফলে জনস্বার্থে করা প্রতিযোগিতা আইনটি বাস্তবায়িত হতে পারছে না। যদিও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণে একটা স্বাধীন প্রতিযোগিতা কমিশন গঠনের বিষয়টি মাথায় রেখেই আইনটি করা হয়। এই কমিশনের কাজ হবে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা এবং একচেটিয়া ব্যবসা রুখে দিয়ে ভোক্তা স্বার্থ রক্ষা করা। এছাড়া এ কমিশন আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে তা হলোÑ মূল্য নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ভাঙ্গা, মূল্যের ওঠানামার ওপর নজর রাখা, অতিরিক্ত মুনাফার শিকার থেকে ভোক্তাকে রক্ষা করা, বাজার নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করা এবং ভোগ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করা।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিযোগিতা আইন বাস্তবায়নে দ্রুত কম্পিটিশন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ করা প্রয়োজন। এজন্য নিয়োগ বিধিমালা চূড়ান্তকরণ করতে হবে। সর্বশেষ কমিশন গঠন করা গেলে আইনটি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আইনটি এখনও কার্যকর হতে পারেনি। শীঘ্রই হবে এ ধরনের কোন আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা কমিশন আইন বাস্তবায়িত হলে বন্ধ হবে মূল্যসন্ত্রাস।

জানা গেছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট নানা অজুহাতে পণ্যমূল্য বাড়িয়ে থাকে। পণ্যমূল্য নির্ধারণে তারা কর্তৃত্বময় ভূমিকায় নামে এবং পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির জন্যও তারা দায়ী। এত কিছুর পরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আইনী কোন হাতিয়ার সরকারের কাছে ছিল না। সে কারণেই প্রায় তিন বছর আগে প্রতিযোগিতা আইন করা হয়। প্রতিযোগিতা আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ হলে ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা বৃদ্ধি, পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ের প্রসার, নতুন নতুন শিল্পোদ্যোক্তা গড়ে ওঠা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং মুক্তবাণিজ্যের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা টিকে থাকতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

চাল, ডাল, গম, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন ছোলা ও গমের ওপর বিদ্যমান শূন্য শতাংশ শুল্কহার অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু শূন্য শতাংশ শুল্কহারের এই সুবিধার আওতায় ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও বরাবর ভোক্তাদের বেশি দাম দিয়েই পণ্য কিনতে হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে ৩৫ টাকার পেঁয়াজ এখন কিনতে হচ্ছে প্রায় এক শ’ টাকায়। বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে কোরবানি ঈদে পেঁয়াজের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। শুধু পেঁয়াজ নয়, আদা, রসুন ও গরম মসলার দামও বেড়েছে। আর শাক-সবজির বাজারও অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কাঁচামরিচ কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।

জানা গেছে, দুর্বল আইনী কাঠামোর সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় নিত্যপণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ কার্যকর হচ্ছে না। মজুদ আইন না থাকায় কোরবানি ঈদ সামনে রেখে আমদানিকারকরা পেঁয়াজের মজুদ গড়ছে। বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। এছাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে রসুন, আদা, মসলা, হলুদ ও মরিচের মূল্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের মূল্য হ্রাস করা হয়। কিন্তু এ দেশে চলে উল্টো প্রতিযোগিতাÑ কে কত মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে হাতিয়ে নেবে বেশি মুনাফা। ফলে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পুরো চাপ পড়ে সাধারণ ভোক্তার ঘাড়ে। আসন্ন কোরবানি ঈদ ও শারদীয় দুর্গোৎসবে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিতে ব্যবসায়ীরা রীতিমতো আটঘাট বেঁধে নেমেছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সকল ধরনের মসলা, আদা, রসুন ও পেঁয়াজ আমদানিকারক, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। ওই বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এছাড়া সরবরাহ পরিস্থিতিও ভাল। তাই কোরবানি ঈদের আগে এসব পণ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তাদের কথা রাখেননি। সব ধরনের মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ছে পেঁয়াজের বাজার। বাড়ছে সবজির দামও। সবজি বিক্রেতারা এ জন্য ভারি বর্ষণ ও বৃষ্টিকে দায়ী করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা আমদানিকারক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আবদুল মাজেদ জনকণ্ঠকে বলেন, ভারতের বাজারে দাম বেড়েছে এটার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। এছাড়া কোরবানি ঈদে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। প্রতিবছর বাড়ে এ বছরও বাড়ছে। এটা নিয়ে অস্থিরতার কিছু নেই। তিনি বলেন, পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক দিতে হয় না ঠিক কিন্তু এ মুহূর্তে মালের সঙ্কট আছে আর তাই দাম বাড়ছে। তিনি দাবি করেন, দেশে পেঁয়াজের কোন সিন্ডিকেট নেই, যা হচ্ছে ভারতে। কারণ ওখান থেকে এখন পেঁয়াজ কম আসছে। দেশটি রফতানিমূল্য টনপ্রতি ৭০৫ ডলার করেছে। অতিরিক্ত দাম বাড়ায় ভোক্তা অধিকার ব্যাহত হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, সরকারের উচিত ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করা।

ভর্তুকি দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি ॥ ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকিতে বিক্রি হবে টিসিবি’র পেঁয়াজ। কোরবানি ঈদের অন্তত্ব ১০ দিন আগে থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে এ পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। এছাড়া কোরবানি সামনে রেখে মসলা জাতীয় অন্য কোন পণ্যের দাম যাতে না বাড়ে সেজন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করবে সরকার। বাজারে বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। এছাড়া একদিন পর একদিন মূল্য বাধ্যতামূলক মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে হবে খুচরা ব্যবসায়ীদের। টিসিবি পেঁয়াজ আমদানিতে ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করেছে। এই পেঁয়াজ আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বাজারে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাইকারি পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও রাজধানীর খুচরা বাজারে এর কোন প্রভাব নেই। কয়েক ঘণ্টার জন্য বৃহস্পতিবার দাম কমলেও আবার শুক্রবার বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন খুচরা বাজারে বর্তমান প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়।

শ্যামবাজারের পেঁয়াজের আড়ত পপুলার বাণিজ্যালয়ের মালিক রতন জানান, শুক্রবার পাইকারি বাজারে দেশী পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে ভারত পেঁয়াজের রফতানিমূল্য বাড়িয়ে প্রতি টন ৭০৫ ডলার নির্ধারণের পর দেশের পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম বেড়ে যায়।

দাম বৃদ্ধির তালিকায় আছে কাঁচা মরিচও। প্রতিকেজি কাঁচামরিচ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ভারি বর্ষণ ও বন্যার কারণে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। বেড়েছে ডিমের দাম। ১০ টাকা বেড়ে প্রতিহালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকা। এক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীরা টানা বৃষ্টিপাতকে দায়ী করেছেন। এছাড়া অধিকাংশ সবজি ৬০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, কাঁচকলা প্রতি হালি ৩০ টাকা, পেঁপে প্রতিকেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, চিচিংগা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিংগা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আপাতত দাম কমার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: