২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র


এক সময় বেবি-কেয়ার, ডে-কেয়ার বা শিশু দিবাযতœ কেন্দ্রের তেমন প্রয়োজন ছিল না। সে সময় পারিবারিক অন্যান্য কাজের পাশাপাশি মায়েদের অন্যতম কাজ ছিল তার সন্তানের দেখভাল করা। সময় বদলেছে। পরিবর্তনের এই বিশ্বে এখন বাংলাদেশের মেয়েরাও কর্মক্ষেত্রে সরব ভূমিকা রাখছে। আজকের নারী যেমন সুউচ্চ শৃঙ্গে আরোহণ করছেন, তেমনি চালাচ্ছেন আকাশযানও। নারী হয়েছেন দক্ষ প্রশাসক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও ডাক্তার। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন তারা। বলতে গেলে এমন কোন রাষ্ট্রীয় কিংবা সামাজিক ক্ষেত্র নেই যেখানে নারীর অংশগ্রহণ নেই। এত কিছুর পরও সংসার জীবনে মমতাময়ী মা হিসেবে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। সংসার, সন্তান এবং কর্মক্ষেত্র এই তিনটি জায়গায় সমন্বয় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মজীবী মাকে। বলা যায় কর্মজীবী মায়েদের প্রধান চিন্তা তাদের শিশু সন্তান। এই ক্ষেত্রে অনেক চাকরিজীবী মায়ের ভরসা ডে-কেয়ার সেন্টার। তাই দিন দিন বাড়ছে ডে-কেয়ার সেন্টারের চাহিদা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান এই বিষয়টির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, একজন মা তার শিশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার নিশ্চয়তা না পেলে কাজের জন্য ঘরের বাইরে যেতে পারেন না। এ কারণে কর্মজীবী মায়েদের সন্তানদের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র স্থাপন করা দরকার।

একথা সত্য যে, চাকরিজীবী মায়েদের মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় তার কোলের শিশুটির যতœ এবং নিরাপত্তা। জাতীয় শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে কোন প্রতিষ্ঠানে ৪০ জন নারী থাকলেই সেখানে শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার থাকার বিধান রয়েছে। সরকারীভাবে দেশে হাতেগোনা কয়েকটি চাইল্ড ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি কর্মজীবী মায়েদের কথা চিন্তা করে নিজস্ব উদ্যোগে চালু করেছে ডে-কেয়ার সেন্টার। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এক তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশের বর্তমানে সচল গার্মেন্টসগুলোর ৯০ শতাংশেরই ডে-কেয়ার সেন্টার নেই। অথচ শ্রম আইন অনুসারে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এই ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। নারী গার্মেন্টস শ্রমিকরা মা হওয়ার পর অধিকাংশই তাদের কাজ ছেড়ে দেয় এবং শিশু বড় না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে বসে থাকে। অনেক কর্মজীবী মা শিশুদের নিরাপত্তার জন্য একটু বড় হওয়ার পর গ্রামে আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠিয়ে দেয় অথবা তালাবদ্ধ করে বা শেকল দিয়ে বাড়িতে বেঁধে রেখে আসেন এমন সংবাদও পত্রপত্রিকায় দেখা যায়।

বাস্তবতা হচ্ছে, কর্মজীবী মায়েরা তাদের শিশুদের ডে-কেয়ার সেন্টারে রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকায় রাখতে পারছেন না। এতে মা ও শিশু উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক মা তার সন্তানের চিন্তায় যথেষ্ট দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মস্থলে সর্বোচ্চ মানের কাজ দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এতে কর্মক্ষেত্রেও তারা নানা বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। ক্যারিয়ার ও সন্তান কোনদিকেই তারা যথার্থ মনোযোগ দিতে পারছেন না। অনেক মা চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন যে নারী, তাকে কর্মবিমুখ করা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। রাষ্ট্রীয় কিংবা সামাজিক ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আরও নিশ্চিত করতে এই বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হবে এই প্রত্যাশা সবার।