১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা কমেছে


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গেল ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। গেল অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীট পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। অথচ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় গেল অর্থবছরের আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী থাকা ও ইউরোর ব্যাপক দরপতনের কারণে গেল অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফায় বড় ধাক্কা লেগেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুসৃত মুদ্রানীতি, সরকারের রাজস্ব আদায় ও ঋণ গ্রহণের ধারা এবং সার্বিক মুদ্রাবাজার ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন ব্যাংকের আর্থিক কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতি বছরই সরকার ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোও সরকারকে ঋণ দিতে বাধ্য থাকে। কিন্তু এবার সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে অস্বাভাবিক ঋণ পাওয়ায় সরকারের ব্যাংক ঋণ করতে হয়নি।

অন্যদিকে বিনিয়োগ মন্দার কারণে ব্যাংকগুলোয় অলস টাকা বৃদ্ধির আশঙ্কায় বেশি অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে রিভার্র্স রেপো হিসেবে খাটিয়েছে। ফলে এ খাতে সরকায়ের আয়ের বদলে ব্যয় বেড়েছে। আবার স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রায় সরকারের যে বিনিয়োগ রয়েছে সেখানেও বাংলাদেশ ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয় কমেছে। গেল অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে বড় উল্লস্ফন ঘটায় গেল অর্থবছরজুড়ে এ খাত থেকে সরকারকে কোন ঋণ গ্রহণ করতে হয়নি। ফলে এখান থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোন আয় আসেনি। গেল অর্থবছরে টাকার বিপরীতে ইউরোর ব্যাপক দরপতন হয়েছে। এক বছর আগের ১০৮ টাকার ইউরো কমতে কমতে ৮৪ টাকায় নেমে এসেছে। ডলারসহ সব বড় মুদ্রার বিপরীতেই এ সময়ে দর কমেছে ইউরোর। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের দামও কমতির দিকে রয়েছে। আবার বিনিয়োগ মন্দার কারণে ব্যাংকিং খাতে অলস অর্থের পরিমাণ বড়ায় ক্ষতি সামাল দিতে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিভার্স রেপোয় প্রতিদিন বড় অঙ্কের অর্থ খাটানোয় এ খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় কয়েকগুণ বেশি হয়েছে।

জানা গেছে, পরিচালন মুনাফার মধ্যে ৯৫৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা করবে ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণকারী এ সংস্থাটি। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকারী কোষাগারে ব্যাংকটির হস্তান্তরযোগ্য মুনাফার পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। আর ২০১২-১৩ অর্থবছরে হস্তান্তরযোগ্য মুনাফার পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭২ কোটি টাকা। জানা গেছে, এবারও বাংলাদেশ ব্যাংক হিসাব বিবরণী প্রস্তুতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে, যা পুরোপুরিভাবে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিং রিপোর্টিং স্টান্ডার্ডের (আইএফআরএস) সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।