২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নারীরা ক্ষতিগ্রস্থ


স্টাফ রিপোর্টার ॥ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। একই কারণে নারীদের ওপর গৃহস্থালি কাজে বোঝা বৃদ্ধিসহ পারিবারিক নির্যাতন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে অঞ্চলিক পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নারীদের কর্মসংস্থানহীনতাও বেড়েছে। পেশা পরিবর্তনের কারণে দেশে অদক্ষ নারী শ্রমিকের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধিসহ আঞ্চলিক পর্যায়ে জীবযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘জেন্ডার বিশ্লেষণ: বাংলাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য ওঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি যৌথভাবে তৈরি করে স্টেপস্ টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। দেশের চারটি জেলায় জরিপ চালিয়ে তারা এসব তথ্য পেয়েছে।

রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করেন স্টেপস্ টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার। তথ্য উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অঞ্চলিকভাবে নারীদের কাজের দক্ষতাগুলো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। প্রতিনিয়তই নারীদের জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে। কিছু অঞ্চলে নারীকে পানি আনার জন্যে ৩-৬ ঘন্টা ব্যয় করতে হয়। কোথাও কোথাও এক কলসি পানির জন্যে ৫-১০ টাকাও ব্যয় করতে হচ্ছে। নারীদের ওপর কাজের বোঝা বাড়ছে। নারী নির্যাতনের সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে গৃহে নারীদের নির্যাতন বেড়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নারীরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। গৃহে কাজের বোঝা বৃদ্ধি, নারী বেকারত্বের হার, যৌন হয়রানি, শিশুদের স্কুল থেকে ঝড়ে পড়ার হার, বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। নানা সেবা প্রাপ্তিতে খরচ বেড়ছে। এমনকি স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তিতে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানানো হয় ওই প্রতিবেদনটিতে। সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, ঢাকা ও চট্টগ্রামের চারটি উপজেলার নরীদের জীবনযাত্রার উপর তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিবশে আন্দোলন (বাপা)- এর সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল মতিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার যদি সাহায্য না করে তথ্য উপাত্ত তেমন কোন কাজে আসে না। সরকারী কোন নীতিমালাই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একদিকে রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, অন্যদিকে বন রক্ষা করার সিদ্ধান্ত সরকারের দ্বিমুখী আচরণ। তিনি আরও বলেন, কয়েকবছর পর বিশ্বের কাছে গ্যাস উৎপাদনের জন্যে আমরাও দায়ী হবো। আমাদেরকেও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাই এখন থেকেই সর্তক থাকা উচিৎ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এন্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ এর পরিচালক ও অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন বলেন, জেন্ডার বিশ্লেষণ নারী ও পুরুষের আনুপাতিক চিত্র ফুটিয়ে তোলা উচিত। জেন্ডার বলতে কেবলমাত্র নারীকে বোঝায় না, তথ্যে শুধুমাত্র নারীর কথা বলা হয়েছে; যা অনেকটা অযৈক্তিক। বাংলাদেশে পরিবর্তন আসছে, বর্তমান এসময়ে গবেষণাগুলো ইংরেজীতে না করে বাংলায় করলে ভালো হয়। গবেষকদের প্রাকৃতিক দুযোর্গ ও জলবায়ুর পরিবর্তনের পার্থক্যও অনুধাবন করা উচিত। একটি যদি কারণ হয় তাহলে অন্যটি এর ফলাফল। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সম্মিলিতভাবে এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব মোকাবেলা করতে হবে।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্টেপসের পরিচালক রেখা সাহা। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের গ্রুপ ডিরেক্টর উইলফ্রেড শিকুকুলার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্স স্টাডিজ (বিকাশ)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক খান। এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরাও মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

## এমদাদুল হক তুহিন