২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

নাসির গ্রুপের ৩ কর্মকর্তাকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ


স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তের জন্য নাসির গ্রুপের তিন জিএমকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে নাসির গ্রুপের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বিশ্বাসের জিজ্ঞাসাবাদের কথা থাকলেও তিনি হাজির হননি।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু করে বিকেল তিনটা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মোঃ জয়নুল আবেদীন শিবলী তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন— নাসির গ্রুপের জিএম (আমদানি) মোঃ আলফাজ উদ্দিন, জিএম (মার্কেটিং এ্যান্ড সেলস) মোঃ শামীম আহম্মেদ ও জিএম (ফাইন্যান্স ও হিসাব) মোঃ সিদ্দিকুর রহমান।

দুদক সূত্র জানায়, ওই তিন জিএম দুদকের মামলার এজারভুক্ত আসামি। ৫৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ৮২ টাকা, তিন লাখ ৪০ হাজার ২৩৭ মার্কিন ডলার ও দুই লাখ ১৭ হাজার ৫০০ ইউরো সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে এদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া মামলার তদন্তে আগামীতে গ্রুপের এজিএম (ক্রয়) মো. মোবাইদুল ইসলাম, ক্যাশিয়ার মো. শামীম, এজে মানি চেঞ্জারের কর্মকর্তা মো. সাইফুল বিশ্বাস, কর্মচারী মো. এমদাদুল, রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনের সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে ২ নম্বর ভবনের ১১০২ নম্বর ফ্ল্যাটের মো. আদিল আহমেদ ও একই ফ্ল্যাটের মো. ফিরোজ আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি (মামলা নম্বর ১২) দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নাসির প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে ২০১৩ সালের ২৬ জুন থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে মোট দুই লাখ ৫৫ হাজার ২৩৭ ডলার ও দুই লাখ ১৭ হাজার ৫০০ ইউরো বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর নাসির গ্রুপের নাসির লিফ টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে টোব্যাকো ট্রেডিং এ্যান্ড সার্ভিসেসের (টিটিএস) প্রধান কার্যালয় সুইজারল্যান্ডে ৩৫ হাজার ইউএস ডলার হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে দুবাই এক্সপ্রেস টিটির (ভাউচার নম্বর ১১৮৫১৯৫১৭৫) মাধ্যমে হংকংয়ে এসপিসি ট্রেডিং লিমিটেডের কাছে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

এভাবে সর্বমোট তিন লাখ ৪০ হাজার ২৩৭ মার্কিন ডলার ও দুই লাখ ১৭ হাজার ৫০০ ইউরো বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দু’টি এ্যাকাউন্ট থেকে ১৩৮ কোটি টাকা বিভিন্ন মানুষকে দেওয়া হয়েছে। যার বেশিরভাগ অংশ বিভিন্ন হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায়।

২০০৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের দিলকুশা শাখায় নাসির গ্রুপের নাসির লিফ টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও নাসির প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে পরিচালিত দু’টি এ্যাকাউন্ট থেকে ৫৫ কোটি ৬৭ লাখ চার হাজার ৫৮৪ টাকা পাচার করা হয়েছে।

নাসির গ্রুপের মোট ১০টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দু’টি প্রতিষ্ঠান— নাসির গ্রুপের নাসির লিফ টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও নাসির প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সম্পর্কে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

কমিশনের দুই সদস্যের একটি টিম এ মামলার তদন্ত করছেন। দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মোঃ জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বাধীন টিমের অপর সদস্য উপ-পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। এ ছাড়া মামলা তদন্তে দুদকের পরিচালক মোঃ নূর আহাম্মদ তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন।