মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২২.৮ °C
 
২৬ এপ্রিল ২০১৭, ১৩ বৈশাখ ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবি ॥ আরও ১৬ বাংলাদেশীর লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০১৫, ০১:০৯ এ. এম.

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূলে নৌযানডুবির ঘটনায় আরও ১৬ বাংলাদেশীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪ বাংলাদেশীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউসিলার আশরাফুল ইসলাম এ কথা নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকর্মীরা ভূমধ্যসাগর থেকে ১১১ অভিবাসন প্রত্যাশীর লাশ উদ্ধার করেছে। শনিবার রেডক্রিসেন্ট এ তথ্য প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবারের মর্মান্তিক এই নৌযানডুবির ঘটনায় এখনও বহু লোক নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অনেক বাংলাদেশীও রয়েছে। খবর বাংলা নিউজ/এএফপির।

লিবিয়ার ত্রাণ সংস্থার এক মুখপাত্র জানান, শনিবারের এ মর্মান্তিক নৌযানডুবির ঘটনায় এখনও বহু লোক নিখোঁজ রয়েছে।

সংস্থাটির মুখপাত্র মুহাম্মদ আল মিসরাতি বলেন, নৌযানটিতে ৪০০ অভিবাসন প্রত্যাশী ছিল। এদের মধ্যে ১৯৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় জুয়ারা বন্দরের কাছাকাছি ওই নৌযানডুবির পর ৭৬ মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিলেন আল মিসরাতি।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাবার চেষ্টাকালে এ পর্যন্ত ২৫০০ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে।

স্টাফ রিপোর্টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জানান, কসবার সোনারগাও গ্রামে এখন মাতম চলছে। মনু মিয়া ও ফজল মিয়ার বাড়িতে নাওয়া-খাওয়া নেই। এ দুপরিবারের দুই তরুণ লিবিয়ায় নৌকাডুবে মারা গেছে। দারিদ্র্য জয় করতে বছর তিনেক আগে তারা লিবিয়ায় যায়। সেখানে তারা নিয়মিত বেতন ভাতা পেত না। এ অবস্থায় সমুদ্রপথে ইতালি যাবার চেষ্টা করে। গত সপ্তাহে তারা নৌকা দিয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথেই তারা পানিতে ডুবে মারা যায়। তাদের সঙ্গে আরও ৬ বাংলাদেশী রয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের এখন একটাই দাবি লাশগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা। শনিবার কসবার গ্রামের বাড়িতে দুজনের মৃত্যুর খবর আসে। লিবিয়া প্রবাসী শেরবুগীর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মাধ্যমে নিহত পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজের তালিকায় এ দুজনের নাম রয়েছে। এরপর মা বাবা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। নিহত নাজমুল হাসানের পিতা ফজল মিয়া বলেন, সাড়ে ৫ লাখ টাকা খরচ করে তাকে ৩ বছর আগে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। ধার-দেনা করে পাঠানো হলেও এখন ও ২ লাখ টাকা বাকি রয়েছে। আমিনুল ইসলামের পিতা মন মিয়া বলেন, তিন বছর ধরে সে লিবিয়ায় অবস্থান করছে। সেখান থেকে আরও উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় ইতালি যাবার চেষ্টা করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে অনেক অনুরোধ করে ইতালি না যাবার জন্য।

কসবার ইউএনও আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারের লোকজন মারা যাওয়ার দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কোন খবর পাওয়া যায় নি। বিষয়টির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে’।

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০১৫, ০১:০৯ এ. এম.

৩০/০৮/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: