২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জোয়ারের পানিতে সয়লাব খাতুনগঞ্জ, জনদুর্ভোগে ক্ষোভ


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ঝড় নেই, বৃষ্টিও নেই। তবুও পানিতে সয়লাব চট্টগ্রাম নগরীর প্রধান ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই ও রাজাখালীসহ নিচু এলাকা। জোয়ারের পানিতেই তলিয়ে যায় এসব এলাকার সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাসা বাড়ির নিচতলা। এতে জনভোগান্তি চরমে উঠলেও কোনই প্রতিকার নেই। এ নিয়ে ক্ষোভ ব্যবসায়ী ও নগরবাসীর।

শনিবার সকালে হালকা বৃষ্টি থাকলেও ৯টার মধ্যেই ঝলমলে আকাশ। সারাদিনই ছিল বৃষ্টিহীন আবহাওয়া। কিন্তু বৃষ্টির পানি না থাকলেও জোয়ারের পানি থেকে নিস্তার নেই। নগরী তথা দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের সড়কগুলো জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। শুধু সড়কই নয়, পানি ঢুকে পড়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এতে করে চাল, গম, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য বিনষ্ট হয়। বিশেষ করে নিচের সারির বস্তাগুলো ডুবে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ সমস্যা এখন নিত্যনৈমিত্তিক। প্রতিবছরই পানির উচ্চতা বাড়ছে। অব্যাহত ভারি বর্ষণে ব্যবসার ক্ষতি দুর্যোগ হিসেবে মেনে নেয়া যায়। কিন্তু বর্ষণ ছাড়াই জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে ভোগ্যপণ্য। এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন ও চউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অবগত রয়েছে। এরপরও কোন ব্যবস্থা কিংবা পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

এদিকে, শুধু খাতুনগঞ্জই নয়, নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএসহ বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকার অবস্থা আরও করুণ। নগরীর আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকাটি একদা পরিচিত ছিল অভিজাত এলাকা হিসেবে। সেখানে গড়ে উঠেছে আধুনিক বাড়িঘর। এলাকাটি প্লাবিত হতে এখন আর বৃষ্টির প্রয়োজন হয় না। জোয়ারের পানিতেই তলিয়ে যায় আবাসিক এলাকার সড়কগুলো। অধিকাংশ বাড়ির নিচতলার অর্ধেক পর্যন্ত পানিতে থৈ থৈ অবস্থা। এ বাড়িগুলো দাঁড়িয়ে আছে জনশূন্য হিসেবে। বেশিরভাগ বাড়িতেই ভাড়াটিয়া নেই। উপর তলাগুলো না ডুবলেও একই অবস্থা। কারণ যাতায়াতের সড়ক এবং বাসার নিচের ফ্লোর সব সময় ডুবে থাকায় ভাড়াটিয়াদের এখন আর আগ্রহ নেই একদা আকর্ষণীয় এ এলাকার প্রতি। আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকায় রয়েছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী বেসরকারী অফিস। কোন প্রকারে সকালে গমন করা সম্ভব হলেও দুপুরের পর ওই এলাকা থেকে বেরিয়ে আসা কষ্টসাধ্য।