২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সর্বস্ব হারিয়ে গৃহবধূ হাসপাতালে


স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ তানোরে কলেজ ছাত্রের প্রতারণায় সর্বস্ব হারিয়ে দুই দফা আত্মহত্যার চেষ্টার পর এক গৃহবধূ এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন উপজেলা হাসপাতালে। প্রেমিকের বিয়ের খবর সইতে না পেরে ওই গৃহবধূ দুই দফা আত্মহত্যার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এলাকাবাসী সূত্র জানায়, তানোর পৌর এলাকার দিনমজুর তার স্ত্রীকে নিয়ে রাজশাহী শহরে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরাঁয় কাজ করে আসছিল। একইসঙ্গে একটি ছাত্রাবাসে রান্নার কাজও নেয় সে। সেখান থেকেই পরিচয় হয় একই উপজেলার দেবীপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে রাজশাহী কলেজের ছাত্র সবুজ সরকার ফিটুর সঙ্গে। এরপর থেকে তারা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

গৃহবধূ জানান, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত ৪ বছর ধরে সবুজ তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত চার বছরে ওই গৃহবধূ দুইবার অন্তঃসত্ত্বা হলেও সবুজের পরামর্শে অবৈধ গর্ভপাত ঘটানো হয়। গৃহবধূ জানান, বিষয়টি ছাত্রাবাসের ছাত্রদের মধ্যে প্রকাশ হয়ে পড়লে প্রেমিক সবুজ তাকে নিয়ে তানোর পৌর সদরে এবটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এরই মধ্যে গোপনে ওই গৃহবধূকে রেখে প্রেমিক সবুজ একমাস আগে রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া এলাকায় বিয়ে করেন। এ খবর জানতে পেরে ওই গৃহবধূ দুইদফা আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার প্রেমিক সবুজ প্রেমিকার কাছে আসলে গৃহবধূ তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এ সময় প্রেমিক বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তাকে ঘরে আটকানোর চেষ্টা করলেও সবুজ হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন।

ভাসমান হাসপাতাল জীবনতরী এখন রূপগঞ্জে

নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ২৯ আগস্ট ॥ দরিদ্র ও আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবনতরী’। রোগীদের প্রায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরী অপারেশন করে থাকে। এছাড়া এখানে ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ে মহিলাদের প্রশিক্ষণ, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সমাজসেবক, এনজিওকর্মী প্রভৃতি সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

হাসপাতালটি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন বাজার এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নোঙ্গর করে প্রায় ৯ মাস যাবত উক্ত এলাকার রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সরেজমিনে হাসপাতালটি ঘুরে দেখা গেছে, ৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার প্রস্থের তিনতলাবিশিষ্ট ভাসমান হাসপাতাল জীবনতরী একটি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সজ্জিত ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল। এটি ইমপ্যাক্ট জীবনতরী ভাসমান হাসপাতাল নামে ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে। ব্রিটিশ নাগরিক স্যার উইলসন প্রতিষ্ঠিত ইউকে ইমপ্যাক্টের অর্থায়নে এটি পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে চক্ষু প্রতিবন্ধী মনসুর আহমদ চৌধুরী ও ডা. রেজাউল হক হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন।

আর দুই মাস এ এলাকায় অবস্থান করবেন বলেও জানা ওই চিকিৎসক।

চক্ষু, নাক-কান-গলা, জন্মগত বাঁকা পা, ঠোঁটকাটা প্রভৃতি রোগের চিকিৎসা করা হয়। ২০ টাকার বিনিময়ে আউটডোরে রোগী দেখে চিকিৎসাপত্র দেয়া হয়। জটিল রোগীদের অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়। পরে দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াও ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, সিংগাপুর থেকে চিকিৎসক এনে রোগীদের অপারেশন করা হয়।