১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দেশী ফলের বিদেশী বাজার


বাংলাদেশের সুপরিচিত দেশীয় টক-মিষ্টি ফল লটকন। ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ টক-মিষ্টি স্বাদের ফল লটকনের এখন ভরা মৌসুম। ঢাকা শহরসহ সারাদেশেই পাওয়া যাচ্ছে এ ফল। ফলের দোকানের ঝুড়িতে সাজানো বা দড়িতে ঝোলানো থোকায় থোকায় হলদে সবুজাভ রঙের প্রায় গোলাকার ফলগুলো সবার নজর কাড়ে। ক্যালসিয়াম, ক্যারোটিন ও খনিজ লবণে সমৃদ্ধ এ ফলের পুষ্টি গুণাগুণ আমাদের দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেইসঙ্গে আমাদের অর্থনীতির জন্যও। ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে শুরু করে বর্তমানে নরসিংদীসহ দেশের অনেক জায়গাতেই লটকনের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। কিন্তু পুরো বাংলাদেশেই এর বাণিজ্যিক চাষ সম্ভব। কারণ, এর উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি বেশ উপযোগী। আগে লটকনকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হতো না, কিন্তু এর পুষ্টিগুণ, ঔষধিগুণ ইত্যাদি প্রকাশ পাওয়ায় তা এখন অতিপ্রয়োজনীয় ফল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

অন্যান্য ফল চাষের তুলনায় লটকন চাষ অনেক বেশি সহজ এবং ফলনও বেশি হওয়ায় চাষীরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। লটকন গাছের কা-ে ফলে। গাছের পুষ্টির সুষমতা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গাছের গোড়া থেকে প্রধান কা-গুলোয় এতবেশি ফল আসে, একটি পূর্ণবয়স্ক লটকন গাছে পাঁচ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। মানভেদে লটকন মণ প্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করা হয়ে থাকে। পাইকাররা নিজেরাই বাগান থেকে লটকন কিনে থাকেন।

কিশোরগঞ্জের জয়নগর, বঘাব ও যোশর ইউনিয়নসহ সব কয়টি ইউনিয়নে প্রায় ৪৭৫ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় মিলে দুই হাজার ৯৫৫টি লটকন বাগান রয়েছে। ১০-১৫ বছর আগেও লটকনের তেমন চাহিদা ছিল না। দামও ছিল কম। সেজন্য কেউ লটকনের বাগান একা করার চিন্তা করতেন না। কয়েকজন চাষী লটকন চাষে সাফল্য অর্জন করলে তাদের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকেই শুরু করেছেন লটকন চাষ। প্রতিবছরই বাড়ছে বাগান। ফলন হচ্ছে প্রচুর। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন শত শত মণ লটকন সরবরাহ হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে। এখানকার লটকন মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশেও রফতানি হচ্ছে।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বৃ-বড়ভাগ, কিসমত বড়ভাগ, স্বল্প বড়ভাগ, গোবিন্দনগর, রামজীবনপুর, কাশিমপুর, ইয়ারপুর, অচিন্ত্যপুর ইউনিয়নের খালিজুরী, মখুরিয়া গৌরীপুর সদর ইউনিয়নের কোনাপাড়া, শালিহর, হাটশিরা, মাওহা ইউনিয়নের বীর আহাম্মদপুর, নাহড়া গাগলা, সহনাটি ইউনিয়নের সোনাকান্দি, ঘাটেরকোনা পাছার, লংকাখলা, খান্দার, সিংরাউন্ধ, আমুদপুর রাইশিমূল, ধোপাজাঙ্গালিয়া, ঝলমলা, করমরিয়া, রামগোপালপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামসহ বিচ্ছিন্নভাবে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের ৮০ হেক্টর জঙ্গলাকীর্ণ জমিতে ছোট-বড় ২৫০টি লটকন ফলের বাগান রয়েছে। লটকন চাষ অনেকের সংসারে এনে দিয়েছে সচ্ছলতা, তাদের করেছে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী। এ বছর উপজেলায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা টন দরে লটকন ফল বিক্রি করে বাগান মালিকদের ঘরে উঠবে প্রায় চার কোটি টাকা। এছাড়া নরসিংদীর শিবপুরে লটকন চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেক চাষী।

লটকন ইংল্যান্ড, কাতার, সৌদি আরবসহ নানা দেশে রফতানি করা যায়। কৃষি বিভাগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শে এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিটি জেলাতেই লটকনের বাণিজ্যিক চাষাবাদ করা যেতে পারে। আর এ কাজে বেকার যুবকদের সম্পৃক্ত করা যায়। দেশের বাজারে যেমন এর চাহিদা রয়েছে, তেমনি বিদেশেও এর প্রচুর চাহিদা। সরকারের সশ্লিষ্ট বিভাগগুলোসহ সবারই এদিকে নজর দেয়া উচিত।