১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

এনায়েত করিমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রোডের (বিডি ওয়েল্ডিং) শেয়ার কারসাজির দায়ে ‘ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি’ পত্রিকার সম্পাদক এনায়েত করিমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। আসামির বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে বিডি ওয়েল্ডিং সম্পর্কে উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিতভাবে অসত্য তথ প্রচার করে শেয়ারটির দর কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই সময়ে ‘ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি’র নাম ছিল ‘উইকলি দ্য ইন্ডাস্ট্রি’।

সম্প্রতি ‘ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি’ সম্পাদক এনায়েত করিমকে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দেয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওই দিন তিনি উপস্থিত হননি। ফলে ৮ জুলাই পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) হুমায়ুন কবীর বাদীপক্ষের (বিএসইসি) সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সার্বিক দিক বিবেচনা করে এ পরোয়ানা জারি করেন। ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার পর এটা দ্বিতীয় গ্রেফতারি পরোয়ানা।

তবে বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ার কারসাজির দায়ে অভিযুক্ত এ মামলার আরেক আসামি এসএম নূরুল ইসলামকে জামিন দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ৮ জুলাই ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তিনি জামিনের জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল সার্বিক দিক বিবেচনা করে এসএম নূরুল ইসলামের জামিন মঞ্জুর করে। এ সময় বিএসইসির পক্ষে সাক্ষ্য দেন পরিচালক মোঃ আবুল কালাম (অর্থ বিভাগ) ও শেখ মাহবুবুর রহমান। আর বিএসইসির পক্ষে সাক্ষীদের আইনগত সহায়তা করেন এ্যাডভোকেট মোঃ হাসিবুর রহমান দিদার।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ার কারসাজির অভিযোগ তদন্ত করে ২০০৭ সালের ২২ মে দুই ব্যক্তি (এনায়েত করিম ও এসএম নজরুল ইসলাম) এবং এক প্রতিষ্ঠানের (বিডি ওয়েল্ডিং) বিরুদ্ধে মামলা (মামলা নম্বর-২৫৫৪/২০০৭) দায়ের করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০০৭ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত বিএসইসির সার্ভিল্যান্স বিভাগ লক্ষ্য করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে বিডি ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রোডের শেয়ারের বাজারমূল্য ৬.৯০ টাকা থেকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ৪২.৫০ টাকায় উন্নীত হয়। এ তিন মাসে শেয়ারটির দর শতকরা হিসাবে বেড়েছিল ৬১৫.৯৪ শতাংশ, যার প্রেক্ষিতে ৬ মার্চ বিএসইসি শেয়ারটির দর অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেনÑ ওই সময়ের পরিচালক বর্তমানে নির্বাহী পরিচালক এটিএম তারিকুজ্জামান ও ওই সময়ের সহকারী পরিচালক তানিয়া শারমিন। বর্তমানে তিনি অন্যত্র কর্মরত রয়েছেন।

গঠিত কমিটি ৮ মার্চ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অফিসে (৮৭, মতিঝিল বা/এ, রেড ক্রিসেন্ট চেম্বার, ৩য় তলা, ঢাকা-১০০০) উপস্থিত হয়ে সৌদি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আল আওয়াদ গ্রুপ ও বিডি ওয়েল্ডিং যৌথ মালিকানায় চট্টগ্রামে একটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন বিষয়ক কাগজপত্র জব্দ করে। কিন্তু এর আগে কোম্পানির পক্ষ থেকে শেয়ারটির দর অস্বাভাবিক বাড়ার কোন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানায়।

তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে, ওই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি বিডি ওয়েল্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম নূরুল ইসলাম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানান, সৌদি বিনিয়োগকারী গ্রুপ আল আওয়াদের সঙ্গে ই-মেইলে কোম্পানির যোগাযোগ হয়েছে। গ্রুপটি এ কোম্পানির সঙ্গে যৌথ মালিকানায় চট্টগ্রামে একটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের ইচ্ছাপোষণ করেছে। তারা ৯ মার্চ চট্টগ্রামে বিডি ওয়েল্ডিং ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এ ধরনের কোন বিদেশী কোম্পানি বাংলাদেশে ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে আসেনি।

বিডি ওয়েল্ডিংয়ের অফিস থেকে জব্দ করা কাগজপত্র পর্যবেক্ষণে বেরিয়ে এসেছে, সৌদি বিনিয়োগকারী আল আওয়াদ গ্রুপের নামে পাঠানো ই-মেইলগুলো ‘উইকলি দ্য ইন্ডাস্ট্রি’ (বর্তমানে ‘ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি’) পত্রিকার সাংবাদিক এনায়েত করিম ও এসএম নূরুল ইসলাম জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য প্রচার করেছেন। তদন্ত কমিটি আরও লক্ষ্য করেছে, ওই ই-মেইলগুলো মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ‘উইকলি দ্য ইন্ডাস্ট্রি’ ও বিডি ওয়েল্ডিংয়ের মধ্যে আদান-প্রদান করা হয়েছে, যা সৌদি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আল আওয়াদ গ্রুপ, জেদ্দা, সৌদি আরব থেকে পাঠানো হয়নি।

আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তে বেরিয়ে আসে, বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ার মূলত জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০০৭ সময় পর্যন্ত অস্বাভাবিক লেনদেন আইসিবি সিকিউরিটিজ এ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড (আইএসটিসিএল) ও এসইএস কোম্পানি লিমিটেডের (উভয়ই ডিএসইর স্টক ব্রোকার) মাধ্যমে হয়েছে। আসামি এনায়েত করিম আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ও ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের মাধ্যমে ২০০৬ সালের ৬ ডিসেম্বর হতে ২০০৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিডি ওয়েল্ডিংয়ের প্রায় ২০ হাজার ৫০০টি শেয়ার ৬ থেকে ৭ টাকা দরে ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে ওই আসামি ২০০৭ সালের ৪ মার্চ ওই সকল শেয়ার ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা দরে বিক্রি করে অবৈধভাবে আর্থিক লাভবান হয়েছেন। এছাড়া আসামি ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে ২০০৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর হতে ২০০৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১ লাখ ৭২ হাজার শেয়ার ৬ থেকে ১৩ টাকায় ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই শেয়ারগুলোর গড় মূল্য ৪৬ টাকা হিসাবে বিক্রি করে অবৈধভাবে আর্থিক লাভবান হয়েছেন। এ ধরনের কর্মকা বিডি ওয়েলডিং কোম্পানির শেযারের দর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর জন্য উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। এক্ষেত্রে এনায়েত করিম ও এসএম নজরুল ইসলাম পরস্পর যোগসাজশে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।