১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

গ্রীসের ঋণভার লাঘবে আইএমএফের আহ্বানে হতভম্ব ইউরোপ


আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) গ্রীসের ঋণভার ব্যাপক পরিমাণে লাঘব করার আহ্বান জানিয়ে ইউরোপে এক রাজনৈতিক ঝড় তুলেছে। আইএমএফ সতর্ক করে দিয়েছে যে, গ্রীস যাতে মন্দাবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারে সেজন্য ইউরোপীয় ঋণ পরিশোধ করা থেকে দেশটিকে ৩০ বছরের জন্য অব্যাহতি দেয়া এবং সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদী ভর্তুকি দেয়ারও প্রয়োজন হতে পারে। খবর বিবিসি ও টেলিগ্রাফের।

আইএমএফ গ্রীসের সঙ্গে ইউরোজোনের প্রস্তাবিত বেইল আউট (দেউলিয়াত্ব ঠেকাতে অর্থ সহায়তা) চুক্তির সমালোচনা করেছে। ঋণদাতা সংস্থাটি বলেছে, গ্রীসের সরকারী ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং দেশটির ঋণদায় লাঘব করা প্রয়োজন। আইএমএফের আহ্বানে হতভম্ব হয়ে পড়ে ইউরোপ। আইএমএফের এক গোপনীয় রিপোর্টে ওই সমালোচনা খুবই কড়া ছিল বলে বিবিসির অর্থনীতি সম্পাদক রবার্ট পেস্টন মন্তব্য করেন। আইএমএফ গ্রীসের ঋণ অবলোপন করাসহ কয়েকটি বিকল্প উপায়ের প্রস্তাব দিয়েছে। ঋণ অবলোপনের প্রস্তাবে ঋণদাতারা তীব্রভাবে বাধা দিচ্ছে।

গ্রীসের সরকারী ঋণের পরিমাণ আগামী দু’বছরে বেড়ে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) শতকরা ২০০ ভাগে দাঁড়াবে। মাত্র দু’সপ্তাহ আগে প্রকাশিত এক রিপোর্টে সেই ঋণের পরিমাণ জিডিপির শতকরা ১৭৭ ভাগে দাঁড়াবে বলে জানানো হয়।

আইএমএফের ওই রিপোর্টে প্রকারান্তরে এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হবে যে, জার্মানি ও ইকোনোমিক এ্যান্ড মনেটারি ইউনিয়নের (ইএমইউ) ঋণদাতারা গ্রীসের ঋণদায় ব্যাপকভাবে লাঘব করতে শেষ পর্যন্ত রাজি না হলে আইএমএফ গ্রীসের জন্য ইএমইউ নেতৃত্বাধীন কোন পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় অংশ নেবে না। অর্থাৎ আইএমএফ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জার্মানি ও অবশিষ্টরা গ্রীক ঋণ বড় আকারে অবলোপন করার প্রতি তাদের তীব্র বিরোধিতা পরিহার না করলে আইএমএফ গ্রীসের আর কোন বেইল আউটে অংশ নেবে না। এ জটিল আর্থিক পুনরুদ্ধার চুক্তি নিয়ে গত সপ্তাহান্তে ইউরোজোন নেতারা একমত হন। সেই সময় থেকে জার্মানি জোর দিয়ে বলে এসেছে যে, আইএমএফকে জড়িত না করা পর্যন্ত বেইল আউট বাস্তবায়িত হতে পারে না।

এদিকে, অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে গ্রীক পার্লামেন্টের বুধবার চারটি আইন পাস করার কথা। সোমবার ব্রাসেলসে ঋণদাতাদের সঙ্গে সম্মত হওয়া চুক্তির এটিই ছিল প্রথম শর্ত। এসব সংস্কারের মধ্যে রয়েছে কর বৃদ্ধি ও পেনশন হ্রাস। এগুলো প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপরাসের নিজ দলীয় এমপিদের বিরোধিতার মুখে পড়েছে।