২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যুদ্ধের আশঙ্কা কমাবে পরমাণু চুক্তি


ইরানের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে ভিয়েনায় স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তি যুদ্ধের আশঙ্কা হ্রাস করছে বলে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ছয় বড় শক্তির এক গ্রুপ মঙ্গলবার ঐ চুক্তি সই করে। এতে আন্তর্জাতিক তেল ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিনিময়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে তেহরানের পরমাণু সামর্থ্য উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করতে চাওয়া হয়।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, চুক্তিটি ইরানের কোন পরমাণু অস্ত্র তৈরির সামর্থ্যরে ওপর পরবর্তী অন্তত ১০ থেকে ১৫ বছরের জন্য শক্তিশালী ও যাচাইযোগ্য সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে। এটি সম্ভবত সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম ফলদায়ক চুক্তি। এটি ইরানকে কোন পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়া থেকে কেবল বিরত রাখতেই পারবে না, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির ধারা পাল্টাতেও পারবে। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ওবামা ও অন্যান্য কর্মকর্তা যেমন বলেছেন, চুক্তিটি শক্তিশালী এবং স্পষ্টত যুক্তরাষ্ট্র ও এর খসড়াকারী অন্যান্য দেশ ও ইসরাইল রাষ্ট্রের স্বার্থের অনুকূল। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পর্যায়ক্রমে তুলে নেয়ার বিনিময়ে ইরান এর নিম্ন মাত্রায় সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুদের শতকরা ৯৮ ভাগ কমিয়ে ফেলবে। এ ইউরেনিয়ামকে প্রক্রিয়াজাত করে অস্ত্র তৈরির উপযোগী জ্বালানিতে পরিণত করা যায়। ইরান ঐ জ্বালানি সমৃদ্ধ করতে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজগুলোর সংখ্যাও দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে ৫,০৬০-এ নিয়ে আসবে। এসব সীমাবদ্ধতার অর্থ হলো যদি ইরান কখনও চুক্তিটি লঙ্ঘনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং কোন পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করে, তাহলেও কোন একটি বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র তৈরির উপযোগী জ্বালানি উৎপাদন করতে এক বছর লাগবে। অথচ সে কাজে এখন ইরানের সময় লাগবে মাত্র মাস দুয়েক। সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়, চুক্তিতে বর্ণিত বিভিন্ন শর্তের অনেকগুলো ১০ থেকে ২৫ বছর বলবৎ থাকবে। কোন কোনটি বিশেষত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার অনবরত ও প্রযুক্তির দিক দিয়ে উন্নত মানের পর্যবেক্ষণের প্রতি ইরানের সম্পত্তি অনির্দিষ্টকাল স্থায়ী হবে। তেমনই স্থায়ী হবে কখনও কোন পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করতে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির অধীনে ইরানের দেয়া প্রতিশ্রুতি। সন্দেহজনক স্থানগুলো প্রয়োজমত দেখার সুযোগ থাকবে পরিদর্শকদের। ওবামা বলেন, যদি ইরান প্রতারণা করে, তবে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার মত যথেষ্ট সময় আগেই সেটি ধরা পড়বে। পাল্টা ব্যবস্থার মধ্যে থাকবে নিষেধাজ্ঞা দ্রুত আর আরোপ করা বা সামরিক ব্যবস্থা নেয়া।

এতে মন্তব্য করা হয়, এটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাৎক্ষণিকভাবে অবজ্ঞাভরে চুক্তিকে একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন। নেতানিয়াহু কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা এবং অধিকাংশ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্সিয়াল মনোনয়নপ্রার্থী প্রথম থেকেই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বিরোধিতা করেছেন। তথাপি তারা একটি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির কোন বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প তুলে ধরতে পারেননি।

উপসংহারে বলা হয়, নেতানিয়াহুর মতো শক্তিশালী মহল চুক্তিকে ব্যর্থ করে দেয়ার অঙ্গীকার করেছে এবং ওবামাকে চুক্তি অননুমোদনের কোন প্রস্তাবে ভেটো দেয়ার তার অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে হবে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচীর ওপর রাশ টেনে ধরার তাঁর সুযোগ নষ্ট করে দেয়া দায়িত্বহীন কাজ হবে।