২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পরমাণু চুক্তির প্রতি নয়া চ্যালেঞ্জ


কংগ্রেস আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা শুরুর আগেই রিপাবলিকান নেতারা মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ওবামার ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি ব্যর্থ করে দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন এতে প্রেসিডেন্টের অনন্য কূটনৈতিক সাফল্য রক্ষা করার বিষয়টি তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হতে পারে। চুক্তির সকল দলিল ক্যাপিটালে পাঠানোর জন্য ৬০ দিন সময় পাবে। এরপর কংগ্রেস চুক্তি অনুমোদনের একটি প্রস্তাব পাস করতে পারে, অননুমোদনের প্রস্তাব পাস করতে পারে কিংবা কোন কিছু নাও করতে পারে। ওবামা চুক্তি অননুমোদনের প্রস্তাবে ভেটো পারেন এবং প্রতিপক্ষ কংগ্রেসে তাঁর পদক্ষেপকে অগ্রাহ্য করতে কংগ্রেসে প্রয়োজনীয় দুই তৃতীয়াংশ ভোট জড়ো করে চুক্তিটি নস্যাৎ করে দিতে পারে। খবর নিউইয়র্ক টাইমস ও এএফপির।

টেনেসি থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান এবং সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান বব কর্কার বলেন, ‘আমি এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়ে আমরা কি ব্যাপারে ভোট দিতে যাচ্ছি তা পূর্ণ উপলব্ধির ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চাই।’ ‘চূড়ান্তভাবে যারা মনে করবেন এটি সত্যিকারভাবে ইরানকে পরমাণু বোমার অধিকারী হতে বিরত রাখবে, তারা এর পক্ষে ভোট দেবেন। যারা মনে করবেন সেরকম কিছু হবে না এবং বিশ্ব নিরাপদ থাকবে না কোনভাবে তাদের পরমাণু অস্ত্র পাওয়ার পথ প্রশস্ত হবে তবে তারা এর বিরুদ্ধে ভোট দেবেন।’

পর্যালোচনা কাজে প্রধান উদ্যোক্তা কর্কার জোরালো আভাস দিয়েছেন যে, তিনি না ভোটের শিবিরে।

কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাবের প্রতি রিপাবলিকানদের বিরোধিতা খুঁজতে গেলে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এম, নিক্সনের চীন সফরের দিকে ফিরে তাকতে হয়। এমনকি প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানও আইসল্যান্ডের রেকিয়াভিকে মিখাইল এস গর্বাচেভের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্যাপকভাবে পরমাণু অস্ত্র হ্রাসের সম্ভাবনা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরার পরেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউসের জন্য কংগ্রেসকে এবং সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের নিজস্ব দলের সংস্কারবাদীদের চুক্তির ব্যাপারে বুঝিয়ে রাজি করানো ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর মতোই কঠিন বলে প্রমাণিত হতে পারে।

এদিকে, প্রধান শক্তিগুলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচী প্রশ্নে একটি চুক্তি সম্পাদনের কয়েক ঘণ্টা পরে হোয়াইট হাউস বুধবার দীর্ঘ প্রতিক্ষিত চুক্তিটি ব্যর্থ করে দিতে দেশী-বিদেশী সংশয়বাদীদের বিরোধিতা বন্ধে প্রচারাভিযান শুরু করেছে।

মঙ্গলবার ভিয়েনায় ১৮ দিনের সুদীর্ঘ আলোচনা শেষে সম্পাদিত চুক্তির লক্ষ্য এটি নিশ্চিত করা যে, ইরানের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে দেয়া যন্ত্রণাদায়ক অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে তেহরান পরমাণু বোমা তৈরি করবেন না।

যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, ইরান এবং ন্যাটো জোট চুক্তিকে অভিনন্দিত করে আশা প্রকাশ করেছে যে, চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শিয়া মুসলিম শক্তি ইরান এবং পশ্চিমের মধ্যে কয়েক দশকব্যাপী বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবের অবসান ঘটাবে। অবশ্য তেহরানের চিরশত্রু ইসরাইল এটিকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এই চুক্তির অর্থ পরমাণু বোমা তৈরির সকল পথ বন্ধ করে দেয়া।’ জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। আমাদের এই সুযোগ আঁকড়ে ধরা উচিত।’

ভিয়েনায় চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে জাতিসংঘে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে। সেখানে মার্কিন কূটনীতিকরা সময়সীমা ধার্য করে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুতির কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

ওয়াশিংটনে ওবামা কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণকারী রিপাবলিকানদের কাছ থেকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। রিপাবলিকানরা বলেছেন, তারা চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করবেন কারণ এটিকে সুকৌশলে কাজে লাগানোর জন্য তেহরানকে অনেক বেশি সুবিধা দেয়া হয়েছে এবং এটি আমেরিকান নিরাপত্তা স্বার্থকে রক্ষা করবে না। প্রতিনিধি সভার স্পীকার রিপাবলিকান জন বোয়েহনার মঙ্গলবার বলেন, ‘চুক্তিটি বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় ইন্ধন জোগাতে পারে।