২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ফোরকান মল্লিকের মামলার রায় আজ


স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পটুয়াখালীর রাজাকার কমান্ডার ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে আজ রায় প্রদান করা হবে। মঙ্গলবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের এদিন নির্ধারণ করেছেন। বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৪ জুন সিএভি রাখা হয়। ফোরকান মল্লিকের রায় হবে ট্রাইব্যুনালের ২০তম রায়। এর আগে দুটি ট্রাইব্যুনাল আরও ১৯টি রায় প্রদান করেছেন।

এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাইরে ও ভেতরে নিরাপত্তা জেরাদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার (জেলা ও দায়রা জজ) শহীদুল আলম ঝিনুক জনকণ্ঠকে বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আমি যোগদানের পর থেকেই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। এখন থেকে শুধু এক নম্বর গেট দিয়েই গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে। যাতে করে গাড়িগুলোও চেকিং করা যায়। এছাড়া ট্রাইব্যুনালের আশপাশেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আসামি ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরকরণ ও দেশান্তরকরণের ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ রয়েছে। এগুলো হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আষাঢ় মাসে সকাল ছয়টার দিকে ফোরকান মল্লিক ও তার সঙ্গী অন্যান্য সশস্ত্র রাজাকাররা গানবোটে করে পাকিস্তানী সেনাদের মির্জাগঞ্জ থানার কাকড়াবুনিয়া গ্রামে নিয়ে আসেন। পরে ওই গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মোঃ কাঞ্চন আলী হাওলাদার ও হাজী আবুল হাশেম হাওলাদারসহ মোট সাত জনকে আটকের পর আটককৃতদের ওপর নির্যাতন চালান, বাড়ি-ঘর লুটপাট এবং জোর করে অর্থ আদায় করেন। আটককৃতদের এক মাস আটক রাখার পর ছেড়ে দেয়া হয়।

একাত্তরের আষাঢ় মাসের শেষের দিকে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ফোরকান মল্লিক ও তার সঙ্গী অন্যান্য সশস্ত্র রাজাকাররা গানবোটে করে পাকিস্তানী সেনাদের মির্জাগঞ্জ থানার দেউলি গ্রামে নিয়ে আসেন। পাকিস্তানী সেনাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে আসার পর ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলতাফ হায়দারসহ মোট ছয়জনের ঘরবাড়িতে লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ১২ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ফোরকান মল্লিক ও তার সঙ্গী অন্যান্য সশস্ত্র রাজাকাররা গানবোটে করে পাকিস্তানী সেনাদের মির্জাগঞ্জ থানার সুবিদখালীতে নিয়ে আসেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ বাহক কাকড়াবুনিয়া গ্রামের হাফিজ উদ্দিন খলিফা, মির্জাগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল কাদের জমাদ্দার, সুবিদখালী বাজারের ডাঃ দেবেন্দ্রনাথ ও তার স্ত্রী বিভা রানীকে আটকের পর নির্যাতন চালিয়ে তাদের হত্যা করেন।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৫ থেকে ৮ ভাদ্র সময়ের মধ্যে ফোরকান মল্লিক ও তার সঙ্গী অন্যান্য সশস্ত্র রাজাকাররা গানবোটে করে পাকিস্তানী সেনাদের মির্জাগঞ্জ থানার কাকড়াবুনিয়া বাজারে আসেন। এখানে তারা চারজনকে হত্যা করেন। এছাড়াও ফোরকান মল্লিক ও তার সহযোগী রাজাকার এবং পাকিস্তান সেনারা হত্যা, গণহত্যা, জখম, আটক, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধ করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৫-৮ ভাদ্র মাসের মধ্যে ফোরকান মল্লিক ও তার সঙ্গী অন্যান্য সশস্ত্র রাজাকাররা মির্জাগঞ্জ থানার দক্ষিণ কলাগাছিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল হোসেন মৃধাকে আটকের পর নির্যাতন এবং বাড়িঘর লুটপাট করেন।

গত ২৮ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল। তাকে সহযোগিতা করেন প্রকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি। যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটির সকল কাজ শেষ হয়। গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সত্য রঞ্জন রায়সহ রাষ্ট্রপক্ষের ১৪ জন সাক্ষী।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: