২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

শপিংমলে বখাটেদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে সরাসরি গ্রেফতার


গাফফার খান চৌধুরী ॥ রাজধানীর শপিংমলের সামনে উত্ত্যক্তকারী, বখাটে ও মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্য কমাতে তাদের সরাসরি গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের অপরাধ অনুযায়ী সাজা দিতে মাঠে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অনুপস্থিতিতে উত্ত্যক্তকারীদের গ্রেফতারের পর থানা হাজতে রাখার কথা বলা হয়েছে। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দেবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে তালিকাভুক্ত ২৩৩টি শপিংমল রয়েছে। এসব শপিংমলে ঈদে অধিকমাত্রায় ভিড় বাড়ে। এমন সুযোগে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা, পকেটমার, চুরিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাটি সবচেয়ে বেশি ঘটে। যা রীতিমতো শপিংমলের সুনাম ক্ষুণœœœ করার পাশাপাশি ক্রেতা বিক্রেতাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। এজন্য এবার আগাম ব্যবস্থা হিসেবে বখাটেদের দৌরাত্ম্য কমাতে মহিলা ও পুলিশ গোয়েন্দাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

মহিলা গোয়েন্দারা নানা সাজে বখাটে ও উত্ত্যক্তকারীদের গ্রেফতার করতে নানা ধরনের ফাঁদ পেতে থাকে। ফাঁদে পা দিয়েছেন তো, ধরা পড়েছেন। গ্রেফতারের পর জায়গা হবে থানা হাজতে অথবা কারাগারে। বিভিন্ন মার্কেটের সামনে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা রয়েছে।

এছাড়া পকেটমারের ঘটনাও ঘটে মার্কেটগুলোতে। পকেটমার ধরতে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি পুলিশ, গোয়েন্দা, কমিউনিটি পুলিশ ও মার্কেটের নিরাপত্তা কর্মীরা সমন্বয় করে কাজ করছে। মহিলা পকেটমারদের গ্রেফতারে বিশেষ নজরদারি করছেন মহিলা গোয়েন্দা দল। তারা ক্রেতা বেশে মার্কেটগুলোতে অবস্থান করছেন।

শপিংমল ও শপিংমলের বিভিন্ন দোকানে বসানো হয়েছে জালটাকা শনাক্তকারী মেশিন। উত্ত্যক্তকারী, পকেটমার, মাদকাসক্ত ও বখাটেদের গ্রেফতারে সিসি ক্যামেরাও থাকছে। যদিও এবার সবচেয়ে বেশি সিসি ক্যামেরা ও কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে ট্রেন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনাল ও জনবহুল জায়গাগুলোতে।

ইতোমধ্যেই স্থান বিবেচনা করে ঢাকার অসংখ্য জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছাড়াও সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে ছিনতাইপ্রবণ জায়গাগুলোতে। ব্যাংকের সামনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সিসি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একলাখ টাকার বেশি বহনকারীদের পুলিশের মানি এস্কর্ট টিমের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।

মার্কেট ও রাস্তায় যানজট নিরসনে মার্কেটের সামনে সব ধরনের যানবাহনের পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যানজট নিরসনে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য। রাস্তায়, ফুটপাথে ও মার্কেটের সামনে যানজট নিরসনে হকার বসতে দেয়া হচ্ছে না। পাবলিক যানবাহনগুলোকে নির্ধারিত জায়গায় থামতে বলা হয়েছে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স জব্দসহ বাতিল এবং জেল জরিমানা করারও নির্র্দেশ দিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।

এছাড়া জনাকীর্ণ এলাকায় থাকছে মোবাইল, ফুট পেট্রোল, পিকেট, মোটরবাইক নিরাপত্তা। তালিকাভুক্ত মার্কেটের কমিটিকে পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যানজট নিরসন ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে বলা হয়েছে। গুলশানে ২৪, উত্তরার ১৮ মার্কেটে থাকছে বিশেষ নিরাপত্তা। এছাড়া বসুন্ধরা সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, মোতালিব প্লাজা, রাইফেলস স্কয়ার, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, উত্তরার পলওয়েল কারনেশনস, পলওয়েল মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, রাপা প্লাজা, বিশাল সেন্টার, উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স, নিউমার্কেট গ্লোব শপিং সেন্টারসহ দেশের নামকরা বিপণি বিতান ও মার্কেটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: