২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

দিনভর বৃষ্টি জলমগ্ন ঢাকা ॥ বাড়ি ফেরায় ভোগান্তি


দিনভর বৃষ্টি জলমগ্ন ঢাকা ॥ বাড়ি ফেরায় ভোগান্তি

রাজন ভট্টাচার্য ॥ রাজধানীতে দিনভর বৃষ্টি। গলি থেকে রাজপথ পর্যন্ত পানি আর পানি। যানবাহন সঙ্কট তো আছেই। যাও আছে তাও তিনগুণ ভাড়া। এর মধ্যেও দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে টার্মিনালে-টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজট। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পানি থাকায় যানবাহন চলাচলে ধীরগতি। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কয়েকটি পয়েন্টে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। অতিবৃষ্টির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের অন্তত ১০টি পয়েন্টে সুড়কির জোড়াতালির সংস্কার উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাটুরিয়াসহ কয়েকটি ফেরিঘাটে ছিল যানজট। কমলাপুর থেকে বেশিরভাগ ট্রেন ছেড়েছে সময়মতো। নৌ পথেও যাত্রী ছিল বেশ। অর্থাৎ পথে-পথে নানা বিড়ম্বনা নিয়েই ঘরে ফিরতে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে। তবুও গাড়িতে ওঠার পর চোখে মুখে সবাইর ছিল উচ্ছ্বাস। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাস্তার কারণে এ বছর কোন দুর্ভোগ হবে না। সব সড়ক-মহাসড়ক যানবাহন চলাচলের উপযোগী। আজ দুপুর ২টা পর্যন্ত বিক্রি হবে বিআরটিসি বাসের অগ্রিম টিকেট। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বিআরটিসি বাসের পর্যাপ্ত টিকেট রয়েছে। আজ থেকে ফিরতি অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

যত দোষ সব বৃষ্টির! আষাঢ় যেন তাঁর প্রকৃত রূপটিই ফুটিয়ে তুলেছিল সকাল থেকে। ‘আষাঢ়ে বাদল নামে নদী ভর ভর...’ তাই হয়েছে। দিনভর বর্ষার ঢল। ভোরে যারা ঢাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তা হয়নি। শুরুতেই ধাক্কা। যারা যানবাহন পেয়েছেন, ছুটে গেছেন টার্মিনালের দিকে। অটোরিক্সা ও ট্যাক্সি ভাড়া মানেই গলাকাটা। অটো ভাড়ার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। নেই মিটার প্রথা। সর্বনিম্ন ভাড়াও তাদের এখন ৩০০টাকা। অল্প দূরত্বে তো যেতেই চায় না। আর ট্যাক্সি তো এখন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে। হলুদ পরিবহন মানেই গলাকাটা। ভাড়ার ভয়েই মানুষ এসব পরিবহন যত পারেন এড়িয়ে চলেন। আর রিক্সা ভাড়াও মাত্রা ছাড়িয়েছিল। তাছাড়া একটু বেলা হলে যারা বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা দিয়েছেন তাদের যানজটের বিড়ম্বনা সহ্য করতে হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব সড়কেই দিনভর ছিল তীব্র যানজট আর জলাবদ্ধতা।

রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ঈদযাত্রায় বিপত্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। এদিকে মেঘনা সেতু এলাকায় সড়ক মেরামত এবং গোমতী সেতুতে ট্রাক বিকল হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে রাত থেকে বিচ্ছিন্নভাবে যানজট দেখা দেয়। শুক্রবার ঈদের ছুটি শুরুর আগে কেবল বৃহস্পতিবার অফিস খোলা। এ কারণে অনেকেই একদিন বাড়তি ছুটি নিয়ে শব-ই-কদরের ছুটির দিন বুধবার পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

সকালে ঢাকার বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ভিড়ের দুর্ভোগ পোহাতে না হলেও বৃষ্টির কারণে ঠিকই নাকাল হতে হয়েছে ঘরমুখো যাত্রীদের। এর মধ্যে রাজধানী থেকে উত্তর ও দক্ষিণের পথে দুই মহাসড়কে যানজট ও জলজটের কারণে তাদের গাড়িতে বসে থাকতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাসন, সাইনবোর্ড, মালেকের বাড়ি, বড়বাড়ি, চান্দনা-চৌরাস্তা মোড়ের পশ্চিম অংশ এবং ভোগড়া বাইপাস সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমে। দুপুরের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পানি জমে থাকায় গাড়ি চলেছে ধীরগতিতে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, মহাসড়ক থেকে বৃষ্টির পানি সরাতে আমাদের কর্মীরা কাজ করছে।

আষাঢ়ের শেষ দিনে টানা বর্ষণে গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় মহাসড়কে পানি জমে ভোগান্তিতে পড়েন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা। ঢাকা-গাজীপুর পথে চলাচলকারী ‘ছালছাবিল পরিবহনের’ বাসচালক সুজন বলেন, সিটি করপোরেশনের বড়বাড়ি থেকে শুরু করে ভোগড়া বাইপাস মোড় পর্যন্ত পানি জমে থাকায় গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। মাঝে মাঝে গাড়ি জমে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। নাওজোর মহাসড়ক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোঃ বাহার আলম বলেন, এলাকায় মহাসড়ক কিছুটা নিচু হওয়ায় এবং আশপাশের এলাকার পানি দ্রুত সরতে না পারায় তা মহাসড়কের ওপর চলে আসে। এতে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান জানিয়েছেন, ভোগড়া বাইপাস এলাকার পানি সরানোর জন্য রাস্তার পাশে নালা করে দেয়া হয়েছে। বৃষ্টি থামলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে না। গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, বৃষ্টির কারণে গাড়ি চলাচলে ধীরগতি থাকলেও কোথাও যানজট হয়নি। মহাসড়কে গাড়িতে চাঁদাবাজি যানজটের অন্যতম কারণ। চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। কোন পুলিশ কর্মকর্তা এতে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হোসেন জানান, মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে তারাও রবিবার থেকে কাজ শুরু করেছেন। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মোবাইলকোর্ট করা হচ্ছে। এজন্য ১২জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিআরটিএ’র একজন সহকারী পরিচালক ও দুইজন পরিদর্শক সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করছেন। একই স্থানে যাতে দীর্ঘসময় গাড়ি দাঁড়িয়ে না থাকে সেজন্য মাইকিংও করা হচ্ছে।

দুই ফেরিপথে ট্রাক পারাপার বন্ধ ॥ ঈদে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে বন্ধ রাখা হয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার। বুধবার সকাল থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে বলে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন। মাওয়া বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীমও পণ্যবাহী ট্রাক পারপার বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন। তবে শিমুলিয়া ও কাওড়াকন্দিতে যাত্রাবাহী বাসের কম থাকায় মাঝে মাঝে ট্রাকও পারাপার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আজ থেকে রেলের ফিরতি টিকেট

বিক্রি ॥ এদিকে রেলপথে বড় আকারে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে সকাল থেকে চলা শুরু হয়েছে ৬টি রুটে বিশেষ ট্রেন। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে ১১ জুলাই যারা অগ্রিম টিকেট কিনেছেন তারাও ঢাকা ছেড়েছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল-এর মাধ্যমে বিশেষ ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছে। ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটের এই ট্রেন চলবে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। ঈদের পর ২০ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ ট্রেনটি চলবে ২৬ জুলাই পর্যন্ত। বুধবার চলেছে তিনটি বিশেষ ট্রেন। অপর দুটি বিশেষ ট্রেন হচ্ছে খুলনা স্পেশাল ও পার্বতীপুর স্পেশাল। এর মধ্যে পার্বতীপুর স্পেশাল ট্রেনটি ঢাকা ছেড়ে যায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে। আর খুলনা স্পেশাল কমলাপুর স্টেশন থেকে রাত ৯টা ২৫ মিনিটে খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এছাড়া নিয়মিত ট্রেনগুলোও ঈদের যাত্রী পরিবহন করছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম-মহাপরিচালক (অপারেশন) এস এম মুরাদ হোসেন জানান, মূলত আজ থেকেই ঈদ যাত্রার চাপটা শুরু হয়েছে। আর চালু হয়েছে ৬টি রুটে বিশেষ ট্রেন। এগুলো হলো ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা (আজ থেকে ১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই)। চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম (১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই)। পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর (১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই)। খুলনা-ঢাকা-খুলনা (১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই)।

এছাড়া ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে সোলাকিয়া এক্সপ্রেস চলবে ঈদের দিন। এদিকে আজ থেকে শুরু হবে ঈদের পর ফিরতি টিকেট বিক্রি। ১৬ জুলাই পাওয়া যাবে ২০ জুলাইয়ের আগাম টিকেট। এছাড়া ১৭ জুলাই ২১ তারিখের, ১৮ জুলাই ২২ তারিখের ও ১৯ জুলাই ২৩ তারিখের এবং ২০ জুলাই ২৪ তারিখের আগাম টিকেট মিলবে।

ঈদের পরের এসব টিকেট রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট স্টেশনে বিশেষ ব্যবস্থায় বিক্রি হবে। সকাল থেকে বৃষ্টি হলেও বাড়ি ফেরায় বিরত থাকেননি মানুষ। কমলাপুর ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনেই ছিল উপচেপড়া ভিড়। বৃষ্টিও ছিল প্রচ-। কিন্তু ট্রেনে চড়তে পেরে সব ক্লান্তি ও বৃষ্টির বিড়ম্বনা যেন ভুলে গেছেন যাত্রীরা। প্রাপ্তির আনন্দ নিয়েই আসনে গিয়ে বসেছেন।

ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়া সারাদেশে লঞ্চের সংখ্যা ৫৯০টি। এরমধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য ঢাকা নদী বন্দর থেকে প্রতিদিন ছেড়ে যাচ্ছে ৬০টির বেশি লঞ্চ। বৃষ্টির মধ্যে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল যাত্রীদের ভিড়। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সবারই প্রাণান্ত চেষ্টা। তবে বাতাস ও বৃষ্টি ঈদযাত্রা ব্যাহত করতে পারে। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছেড়েছে বেশিরভাগ লঞ্চ। তাই সবার মুখেই ছিল একই কথা। আনন্দের যাত্রা যেন কোন অবস্থাতেই নিরানন্দে পরিণত না হয়।

আজ দুপুর দুইটা পর্যন্ত বিআরটিসি

বাসের টিকেট ॥ আজ শেষ হচ্ছে বিআরটিসি বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি। বেলা দুইটা পর্যন্ত টিকেট বিক্রি চলবে। এরপর একে একে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাবে ঈদের বিশেষ সার্ভিসগুলো। তবে বিআরটিসির কর্তাব্যক্তিরা জানিয়েছেন, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটের এক হাজারের বেশি টিকেট এখনও অবিক্রীত। কমলাপুর ডিপো থেকে এসব টিকেট ইচ্ছা করলে যাত্রীরা সংগ্রহ করতে পারেন। তবে নরসিংদী, কুমিল্লা, কুটি চৌমহনী, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন রুটে যাত্রী চাপ সন্তোষজনক। টিকেট বিক্রি না হওয়ার কারণ হিসেবে মতিঝিল বিআরটিসি ডিপো ম্যানেজার নায়েব আলী বলেন, দূরপাল্লার রুটে ডাবল ডেকার বাস দেয়ার কারণে যাত্রীরা অনেক ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। আরামদায়ক বাসের সংখ্যাও কম। তবে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বিআরটিসি বাসে যাত্রী অনেকটা সাশ্রয়ী বলে জানান তিনি।

বুধবার দুপুরে গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে যান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাড়তি ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৃষ্টি হলেও মহাসড়কে কোন দুর্ভোগ হবে না একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রায় সব মহাসড়কেই যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি কমাতে আগে থেকেই আমরা সকলে মিলে কাজ করেছি। আশাকরি সবাই নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

নৌপথে যাত্রীসেবা আরও নির্বিঘœ করতে সদরঘাটের পূর্বদিকে অবস্থিত শ্যামবাজার শ্মশানঘাটে নতুন লঞ্চ টার্মিনাল নির্মাণ করার কথা জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি। এ সময় নৌমন্ত্রী টার্মিনালের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এখন তো পরিস্থিতি ভাল। তবে গার্মেন্টসগুলো ছুটি হলে চাপ তৈরি হবে। যাত্রীদের ভিড় সামলানো তখন কঠিন হবে।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান বলেন, ৫০০ ফিটনেসবিহীন লঞ্চ রঙ করে নামানো হচ্ছে বলে পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। ঈদ এলে সবাই যানবাহনের সৌন্দর্য বাড়ায়। ছোটখাটো ত্রুটি থাকলে মেরামত করে। কিন্তু সেগুলো ফিটনেসবিহীন লঞ্চ নয়। আমরা কখনও ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিইনি, দেব না।

মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা ঘটে সাধারণত ছোট লঞ্চগুলোতে, তাই আমরা এখন বড় লঞ্চ তৈরি করছি। এ লঞ্চগুলো স্বাভাবিক আবহাওয়ায় সাগরে চলতেও সক্ষম হবে। এবার বর্ষা মৌসুমে ঈদ হওয়ায় আবহাওয়া প্রতিবেদন দেখে নৌযান চলাচলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এরপর মন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় বিআইডব্লিউটিএ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শনে আসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। এ সময় তিনি ঈদে ঘরমুখো যাত্রী, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: