২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

নতুন করে ভাবুন


রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সোমবার এক কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণাপত্রে যে চিত্রের খবর গণমাধ্যমে এসেছে তা যেমন অনাকাক্সিক্ষত, তেমনি এ সেবা খাত নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রাখে। দেশের নগর-মহানগর পর্যায়ে সরকারী খাতের ৮০ শতাংশ চিকিৎসক ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এবং চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার তথ্য ওই গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিসিডিডিআরবি) প্রণীত গবেষণায় প্রকাশিত এ চিত্র উদ্বেগজনক।

৮০ শতাংশ সরকারী চিকিৎসক যদি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকেনÑ তবে এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতা আর নির্মোহ থাকার বাস্তবতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শতভাগ সেবা নিশ্চিত তো হচ্ছেই না বরং দিন দিন উৎকর্ষতাও হারাচ্ছে। চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার পারদও হচ্ছে নিম্নগামী। এমন বাস্তবতা কারও কাম্য হতে পারে না।

বেসরকারী, ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোয় নিয়োগকৃত চিকিৎসকদের বেলায় বিশেষ কিছু বলার থাকে না যদি সেখানে মানসম্মত, সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হয়। তবে যদি সরকারী হাসপাতালগুলোর কোন চিকিৎসক বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দায়িত্ব ফেলে বাড়তি অর্থ আয়ের আশায় কাজ করেন সে ক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠে আসে। চিকিৎসকের মেধা ও সময় তার নিজ প্রতিষ্ঠানের রোগীর জন্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কর্মকা-ে ব্যয় করলে রোগী ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই উপকৃত হয়। পরিতাপের বিষয় হলোÑ ক্লিনিকগুলো প্রায় শতভাগ ও ব্যক্তি মালিকানার প্রতিষ্ঠানগুলোর সিংহভাগই সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল। এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে সরকারী উদ্যোগের বিকল্প নেই। চিকিৎসকদের সৎ ও যৌক্তিক দাবি পূরণ করলে ও বেতন-ভাতাদি বাড়িয়ে দিলে এই নেতিবাচক পরিস্থিতি অনেকটাই ইতিবাচক হবে বলে আশা করা যায়। অন্যদিকে আরেকটি সরকারী নিয়ম লঙ্ঘিত হচ্ছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাধ্যমে। সরকারী নিয়মানুযায়ী তারা নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোথাও রোগী দেখতে পারবে না। এটা প্রায়শই লঙ্ঘিত হচ্ছে প্রকাশ্যে। তারুণ্যের শতভাগ সেবা ও মেধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগী এবং প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থার অবসান সম্ভব যথার্থ ও কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে।

যে গবেষণাপত্র উপস্থাপনা করা হয়েছে তা দেশের কয়েকটি নগর-মহানগরভিত্তিক। দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসা বাস্তবতা অবস্থাও তথৈবচ। সেখানেও কাজ করে চক্র ও সিন্ডিকেট।

মনে রাখা দরকার, চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসকের পেশা আর দশটা সেবা মাধ্যম বা পেশার মতো নয়। এর সঙ্গে জড়িত নীতি-নৈতিকতা, আদর্শ ও মানবতা। সবচেয়ে বড় কথা মহত্ত্ব এর মূল উদ্দেশ্য। মানুষের অসহায়ত্বের সময় সহায়পূর্ণ আশ্রয় এ খাতের মানুষ ও অবকাঠামো। এ কথা সংশ্লিষ্টরা জানেন না তা কেউ বিশ্বাস করবে না। প্রকৃত সেবার মানসিকতার পরিচয় দিয়ে মহৎ পেশাকে আরও মহিমান্বিত করা হবে এমনটাই সবার প্রত্যাশা।