মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

দখলে দূষণে বিপর্যস্ত

প্রকাশিত : ১৬ জুলাই ২০১৫

রাজধানী ঢাকা থেকে উধাও হয়ে গেছে অনেক জলাশয়, খাল ও লেক। এসব ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে ভবন। শুধু রাজধানী নয়, ঢাকার বাইরে দেশের নানা অঞ্চলেও জলাশয়, খাল, বিল, নদীনালা এমনকি কৃষিজমি ভরাট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এর আগ্রাসন থেকে রেহাই নেই যেন। গত কয়েক যুগ ধরে রাজধানী ঢাকার উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটছে অপরিকল্পিতভাবে। ঘনবসতিপূর্ণ এ নগরীর জনসংখ্যা নিয়তই বাড়ছে। জলাধার সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা করে ভরাট করা হচ্ছে নগরীর লেক, খাল, জলাশয়। এমনকি নালানর্দমাগুলো বেদখল হয়ে পড়ছে। নালার ওপর দোকানপাট; সেসবের বর্জ্য জমে দুর্গন্ধই ছড়ায়। ঢাকার খালগুলোর পাড়, এমনকি তলাও ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টিপাতের সময় পানি প্রবাহ পথ না পেয়ে শহরের ভেতর জলাবদ্ধতা তৈরি করে রাস্তাঘাট তলিয়ে দেয়। রাজধানীর ৪৩টি খালের মধ্যে ২৬টির আংশিক অস্তিত্ব রয়েছে। এই খাল উদ্ধারে সরকার একটি কমিটি করলেও কাজ কিছুই হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে খাল উদ্ধারের কার্যক্রম। জলাশয় ও লেকের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। জলাশয়, নদী, খাল ও লেকের ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি মন্ত্রণালয় এবং সরকারের কিছু সংস্থা জড়িত। কিন্তু নেই কোন সমন্বয়। দেখা গেছে, জলাভূমি ভরাট করা দ-নীয় অপরাধ হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গায়ের জোরে দখলদাররা পার পেয়ে যাচ্ছে। আবার খাল উদ্ধার করেই নয়, এর প্রবাহপথ পুনরায় ডিজাইন করে পুনর্বহাল করা দরকার। না হলে খাল উদ্ধার হলেও বর্জ্য, মাটি ও বালুতে ভরাট হওয়া প্রবাহ পথের উন্নতি করা যাবে না। এ রকম বেহাল দশা বরং পুনরায় দখলদারদের প্রলুব্ধ করবে। সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও কার্যত সেসবের কোন বাস্তবায়ন নেই। নগরীর পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এসব নদী, খাল, জলাশয় ও লেক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রচলিত আইন যথেষ্ট হলেও দখলমুক্ত করা যায় না প্রতিপত্তিশালীদের দাপটে। যার নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব। ভূমিখেকোদের দৌরাত্ম্যে দেড় কোটি মানুষের এ নগরীতে লেকের অস্তিত্বও বিপন্ন প্রায়। ঢাকার যে কটি লেকের অস্তিত্ব এখনও টিকে আছে তার মধ্যে গুলশান লেক অন্যতম। এ লেক রক্ষায় নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হলেও দখলদারদের থাবা থামানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূমি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সুযোগে হঠাৎ করেই লেকপাড়ের সম্পত্তির দাবিদার গজিয়ে উঠেছে। গুলশান লেকেই দুই পাড়ের অনেকাংশই বেদখল হয়ে গেছে পাঁচ দশকে। দখলে-দূষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে লেকটি। প্রতিদিনই টন টন ময়লা পড়ছে লেকে। উচ্চ আদালত দখল ও দূষণের তা-ব বন্ধে এবং দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সবই বেদখল হয়ে যায়, যাচ্ছে। সদিচ্ছা থাকলে ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে জলাশয় ও লেক দখলের দৌরাত্ম্য কিছুটা হলেও কমত। প্রাকৃতিক জলাধারের মালিক স্বয়ং রাষ্ট্র। নিজের জমি দাবি করে তা ভরাট করার অধিকার কারও থাকা উচিত নয়। প্রাকৃতিক জলাধার বেদখল হওয়া নগরবাসীর অস্তিত্বের জন্য অশনিসঙ্কেত। গুলশান লেকে অবৈধভাবে মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলতি মাসেই হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। এ সম্পর্কে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও লেক দখলমুক্ত করার বিষয়ে অসহায়ত্বের কথা বলেছেন। তিনিও জলাধার ও লেক ভরাট করে ভবন নির্মাণ বন্ধে সমাজের বিত্তশালীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, দুর্ভাগ্যবশত, বারবার গুলশান লেকের পাশগুলো ভরাট করে আবাসিক ভবন করতে করতে লেকের আকারটা যে পরিমাণে চওড়া ও গভীরতা, সেটা হারিয়ে গেছে। গুলশানে নির্মিত বাড়িগুলোর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে অন্যান্য ব্যবস্থা পরিবেশসম্মত নয়। প্রধানমন্ত্রী হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, এখনও নানা ধরনের বাধা আসে। কারণ বিত্তশালীদের বিত্তের প্রভাব সমাজে থাকে। আর সেই সঙ্গে চলে আসে বাধা জমি হারানোর ভয়ে। এটা সত্য যে, জলাধার আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় ঢাকা মহানগরীর খাল, লেক রক্ষা করা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা ছাড়া এর কোন বিকল্প নেই। নগরবাসীও চায় এসবের সুরক্ষা। তাই প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনার।

প্রকাশিত : ১৬ জুলাই ২০১৫

১৬/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: